হোম » প্রধান সংবাদ » উল্লাপাড়ায় বন্ধ হচ্ছে না ফসলী জমিতে পুকুর খননঃ রাতের আধাঁরেই ভেকু দিয়ে কাটছে মাটি

উল্লাপাড়ায় বন্ধ হচ্ছে না ফসলী জমিতে পুকুর খননঃ রাতের আধাঁরেই ভেকু দিয়ে কাটছে মাটি

উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ উল্লাপাড়ায় ফসলী জমিতে অবৈধভাবে ব্যাপক হারে চলছে পুকুর খনন। প্রশাসনের পূর্বানুমতি না নিয়ে জোদ্দারগণ ইচ্ছামতো তাদের জমিতে পুকুর খনন করছেন। খনন করা পুকুরের মাটিগুলো ট্রাক বজায় করে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এসব মাটি। উপজেলার বাঙ্গালা ও পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নে তিন ফসলী মাঠে পুকুর খননের ব্যাপকতা সবচেয়ে বেশি। আর এভাবে খননকৃত পুকুরের পার্শ^বর্তী জমির মালিকগণ পড়েছেন চরম বিপাকে। অনেকের জমি ভেঙ্গে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ফলে বিপর্যয় ঘটছে পরিবেশের। প্রভাবশালীদের এই অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারছে না প্রান্তিক কৃষকেরা তাদের ফসলী জমি চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পরেছেন।

প্রশাসনিক চাপের মুখে জোয়াদ্দারগণ ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছে। দিনের বেলায় পুকুর খনন না করে রাতে ভেকু মেশিন দিয়ে সকলের অগোচরে আইন অমান্য করে সারারাত পুকুর খনন করছে। এরা এতটাই বেপরোয়া তাদের কে প্রশাসন কোনভাবেই আইনের আওতায় আনতে পারছে না।

উল্লাপাড়ার বাঙ্গালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি উন্নয়ন কর্মকর্তা জাহেদুল আলম জানান, তার এলাকায় অনেক জমি মালিক অবৈধভাবে ফসলী জমিতে পুকুর খনন করছেন। তাদেরকে অনেক বার বার খনন কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা মানছেন না। ফলে ইতোমধ্যে ধামাইকান্দি গ্রামের আক্তার হোসেন, পশ্চিম মোহনপুর গ্রামের নুরাল হাজী ও শাহাদ হোসেন, সহ ৫ জনকে কারণ দর্শানো চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে জলমহাল ও মাটি ব্যবস্থা আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতেও কোন কাজ হয়নি স্ব স্ব স্থানে আগের মতোই পুকুর খনন চলছে তবে দিনে নয় রাতে।

উপজেলার পুর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তার এলাকায় জোদ্দারগণ প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে অবৈধভাবে তাদের ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন শুরু করেছেন। আর এতে খননকৃত পুকুরের পাশের ফসলী জমির মালিকগণ তাদের জমি নিয়ে বিপাকে পড়েছে। পুকুর খননকারীদেরকে বার বার বাঁধা দিলেও তারা তা শুনছেন না। বুধবার পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের আব্দুল কাদের ও গোয়ালজানি গ্রামের মানিক হোসেনকে কারণ দর্শানো পত্র দেওয়া হয়েছে। আরো কয়েকজনের নামে এই চিঠি প্রস্তুত হয়ে গেছে।

সরজমিনে শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় প্রতিদিন রাতে পুকুর খননের কাজ ঠিক আগের মতোই চলছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তারা আরো বেপরোয়া ভাবে পুকুর খনন করছে। আর এই মাটি বিক্রি করছে ইট ভাটায়।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!