
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বানেশ্বরদী আরাফাত নগর মাদ্রাসা থেকে অপহৃত ছাত্র মো. আদিব হোসেনকে সিলেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল তাকে সিলেট শাহজালাল মাজার এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসা থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল শুক্রবার সকালে মামলা দায়েরের পর নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-নোয়াগাঁও পরমেশ্বরদী গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মাহফুজ ওরফে ফরহাদ (৩১), জামপুর ইউনিয়নের বস্তল গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে মো. শাহেদ মিয়া (১৯) ও বারদী ইউনিয়নের দৌলরদী গ্রামের শহিদুল্লাহর ছেলে রাইয়ান (১৮)।
পুলিশ ও অপহৃতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বানেশ্বরদী আরাফাত নগর মাদ্রাসা থেকে মালেয়শিয়া প্রবাসী শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. আদিব হোসেনকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অপহরণকারীরা তার বাবা মালোয়শিয়া থেকে দেশে ফিরছেন বলে খবর দেয়। তার বাবাকে এয়ারপোর্ট থেকে আনতে যেতে হবে বলে মাদ্রাসা থেকে কৌশলে ডেকে অপহরণ করে সিলেট নিয়ে যায়। মাদ্রাসার শিক্ষকরা আদিবকে মাদ্রাসায় না পেয়ে তার মাকে ফোন করেন। তার মা ও আত্মীয় স্বজন আদিবকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে পাননি। পরে রাত ৯টার দিকে অপরিচিত দুটি মোবাইল ফোন থেকে আদিবকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানায়। এক পর্যায়ে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। পরদিন সকাল ১০ টার দিকে আদিবের মামীর কাছে পুনরায় ফোন করে মুক্তিপনের টাকা না পাওয়া গেলে আদিব ও তার মামাতো ভাই নাসিম মিয়াকে হত্যা করে লাশ টুকরো করা হবে হুমকি দেয়। পরে বিষয়টি অপহৃত আদিবের পরিবার সোনারগাঁ থানায় জানালে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আদিবের অবস্থান সনাক্ত করে অভিযান শুরু করে। পরে গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট পুলিশের সহযোগিতায় শাহজালাল মাজার এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অপহৃত আদিবকে উদ্ধার করে। এসময় অপহরণে জড়িত মাহফুজ ওরফে ফরহাদ, মো. শাহেদ মিয়া ও রাইয়ানকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় অপহৃত মো. আদিবের মা আরিফা বেগম বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন।
অপহৃত মো. আদিবের মা আরিফা বেগম বলেন, গত তিনদিন ধরে আমার পরিবারের মধ্যে ঝড় বয়ে গেছে। ১০ লাখ টাকা মুক্তিপন না দিলে ছেলেকে হত্যা করা হবে। তাছাড়া আমার ভাতিজাকেও অপরহন করে হত্যা করবে বলে হুমকি দেওয়া হয়ভ গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারী বলেন, অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রকে সিলেট থেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন অপহরণকারীকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
-মোঃ কবির হোসেন-