হোম » প্রধান সংবাদ » শীতকালের জনপ্রিয় সবজী শিম

শীতকালের জনপ্রিয় সবজী শিম

মোঃ কবির হোসেন, সোনারগাঁ:

শীতকালের একটি জনপ্রিয় সবজী শিম। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই চাষ হয় শিমের। শিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন আর মিনারেল আছে।শিমের আদি বাড়ি কোথায় কিংবা কবে থেকে কেমন করে এল, তা না জানা থাকলেও এটি সবার পরিচিত। বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকাতেই চাষ হয় শিমের। নানাভাবে খাওয়া যায় এই সবজি। মাছের ঝোলে শিম যেমন মানিয়ে যায়। ভর্তা হিসেবেও অনন্য।শিম সব ধরনের মাটিতেই চাষ করা যায়। তবে দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি দেশী শিম চাষের জন্য বেশি উপযোগী। পানি জমে না এমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি শিম চাষের জন্য বেছে নেয়া ভালো।

শিমগাছ বাওয়ার সুযোগ যত বেশি পায়, ফলন তত বেশি হয়। তাই শিমগাছ যখন ১৫-২০ সেমি লম্বা হবে তখন গাছের গোড়ার পাশে বাঁশের ডগা (কঞ্চিসহ) মাটিতে পুঁতে দিতে হবে। এ ঝাড়ে শিমগাছ ছড়িয়ে পড়ে ভালো ফুল ও ফল দিতে পারে। দেশীয় পদ্ধতিতেও বাঁশের মাচা বা ঝিকাগাছে অথবা ছনের ঘরের চালে শিমগাছ তুলে দেয়া যায়। এ ছাড়া বাঁশের চটা ও কঞ্চির সাহায্যে ইংরেজি ‘অ’ অরের মতো কাঠামো তৈরি করে জমিতে মাচা দিয়েও শিমগাছ থেকে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

দেশী শিম ক্ষেত ছাড়াও বসতবাড়ির দেয়ালের পাশে, আঙিনার ধারে ছোট মাচায়, ঘরের চালে, পুকুর ও রাস্তার ধারে এবং ক্ষেতের আইলে চাষ করা যায়। দেশী শিম প্রতি সপ্তাহে সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতে হয়। জাতভেদে কার্তিক মাস থেকে শুরু করে চৈত্র মাস পর্যন্ত শিম সংগ্রহ করা যায়। ভালোভাবে পরিচর্যা করা হলে শতকপ্রতি প্রায় ৪০ কেজি শিম পাওয়া যায়। আবার শুকনো শিম বা শুঁটির বীজ সংগ্রহ করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। প্রতি বিঘা দেশী শিম চাষের জন্য পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা খরচ হতে পারে। আগাম শিম বাজারে তুলতে পারলে প্রতি কেজি কমপক্ষে ৪০ টাকা হিসেবে ১ বিঘায় উৎপাদিত প্রায় ১৩০০ কেজি শিমের দাম ৫২০০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি বিঘায় প্রায় ৪৪০০০ টাকা লাভ হয়। তবে ভরা মৌসুমে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমে আসে এবং লাভও কমতে থাকে।

বেশি লাভের আশায় শীতকালীন সবজির আগাম চাষ বাড়ছে। শুধু নিজেদের চাহিদার জন্যই নয়, বাণিজ্যিকভাবেও চাষ হচ্ছে এসব সবজি। অন্যান্য কৃষকরা জানান, যে কোন ফসল আগাম চাষ হলে বাজারে চাহিদা বেশি থাকে। মুনাফাও বেশি হয়। এ বছর উঁচু জমিতে সবজি চাষে ঝুঁকছেন তারা। কম সময়ে কম খরচে বেশি মুনাফার জন্য শিমের জুরি নেই।

সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়ানের বাটিরচর গ্রামের মুকুল হাসান শিক্ষকতার পাশাপাশি বসতবাড়ির আঙিনায় এবং বাড়ির পাশে ২ বিঘা জমি নিয়ে সারাবছর বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করছেন। ক্ষেত থেকে সরাসরি ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের পাইকাররা সে সবজি কিনে নিয়ে যান। মুকুল হাসান বলেন, ‘আগাম চাষ করতে পারলে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষ করা সম্ভব। এমনকি কীটনাশক ব্যবহার না করেই আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে পোকামাকড় দমন করা সম্ভব।

শিম শুধু রসনাবিলাসই করে না, তার অন্য গুণও আছে। জানতে চেয়েছিলাম মা জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার রাজদত্তের কাছে। তিনি জানান, শিম প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন আর মিনারেলে-সমৃদ্ধ। যাঁরা সরাসরি প্রোটিন খান না অর্থাৎ মাছ, মাংস খাওয়া হয় না, তাঁদের জন্য শিমের বিচি শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে পারে। যাঁদের আমিষ খাওয়ায় সীমাবদ্ধতা আছে, তাঁরা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন। আর এই শীতে নিয়মিত শিম খেলে ত্বকও ভালো থাকবে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!