হোম » সারাদেশ » দাগনভূঞায় বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ, ভাই ও সহপাঠীকে ছুরিকাঘাত 

দাগনভূঞায় বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ, ভাই ও সহপাঠীকে ছুরিকাঘাত 

দাগনভূঞা উপজেলায় বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায়  ছুরিকাঘাতে ভাই ও সহপাঠী গুরুতর আহত। আহতরা হলো- শাখাওয়াত হোসেন নিরব (১৫) ও তার সহপাঠী শাহ নেওয়াজ ইসলাম (১৫)। তারা দু’জন আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থী। 

নিরব উপজেলা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ আলীপুর গ্রামের মোঃ শাহাজাহানের ছেলে। শাহ নেওয়াজ উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের আজিজ ফাজিলপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে পৌর শহরের আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাই স্কুল গেইটের সামনে।

এঘটনায় ভিকটিম নিরবের মা রোকেয়া আক্তার বাদী হয়ে থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করেন। এঘটনায় পুলিশ আবদুল্লাহ আল মুজাহিদ (১৬) ও আল আরাফাত হোসেন শুভকে (১৫) আটক করে। আটককৃত দাগনভূঞা একাডেমির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুজাহিদ (১৬) ফেনী জেলার সদর ইউনিয়নের ছোট ধলিয়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। বর্তমান ঠিকানা-দাগনভূঞা পৌর শহরের ইয়ারপুর (৩ নম্বর ওয়ার্ড) সাতবাড়ী রাহাত ম্যানশন। আল আরাফাত হোসেন শুভ (১৫) নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর এলাকার হাজী আবদুল রেজ্জাকের বাড়ির মোঃ আলমগীরের ছেলে। বর্তমান ঠিকানা- দাগনভূঞা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের আজিজ ফাজিলপুর গ্রামের ফকির মাঝি বাড়ি। সে পৌর শহরে দোকানের কর্মচারী।

ভিকটিমের মা রোকেয়া আক্তার জানান, আমার ছেলে ভিকটিম সাখাওয়াত হোসেন নিরব দাগনভূঞা আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। নিরব ও সুরভ জমজ ভাই-বোন। আমার মেয়ে সুরুভি আক্তার লাভনী (১৫) আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায় সময় বিবাদীদ্বয় আমার মেয়েকে বিরক্ত করে। আমার মেয়ে বাড়িতে এসে ঘটনার বিষয়ে আমাদেরকে বলিলে আমার ছেলে বর্ণিত বিবাদীদ্বয়কে আমার মেয়েকে বিরক্ত করার কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করিলে বিবাদীদ্বয় আমার ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করিতে থাকে। আমার ছেলে বিবাদীদ্বয়কে কিছু না বলিয়া বাড়ীতে চলিয়া আসে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে  আমার ছেলে প্রতিদিনের ন্যায় স্কুলের টিফিনের বিরতি দিলে নাস্তা করার জন্য বাহির হলে বিবাদীদ্বয়ের সহিত পূর্ব বিরোধের জের ধরিয়া আমার ছেলের সাথে কথাকাটি হয়।

পরবর্তীতে স্কুল ছুটি শেষে আমার ছেলে বাড়ি ফেরার পথে ওইদিন বিকেল সাড়ে তিটার দিকে আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাই স্কুলের গেইটের সামনে পৌঁছালে বিবাদীদ্বয় ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তার পথরোধ করে। আমার ছেলে পথরোধ করার কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করিলে বর্ণিত বিবাদীদ্বয় আমার ছেলেকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি, চরথাপ্পর, লাথি মারিয়া সমস্ত শরীরে নীলাফুলা জখম করে এবং ১নং বিবাদীর হাতে থাকা টিপ ছুরি দিয়া ডান হাতের কনুইয়ের উপরে ও নিচের অংশে ছুরি দ্বারা উপর্যুপরী ঘাই মারিয়া কাটা রক্তাক্ত জখম করে। আমার ছেলের শোর চিৎকার শুনিয়া তার সহপাঠি শাহনেওয়াজ ইসলাম (১৫) বাচাঁইতে আগাইয়া আসিলে বর্ণিত ২নং বিবাদীর সহায়তায় ১নং বিবাদী শাহনেওয়াজ ইসলামকে বাম হাতের কনুইয়ের উপরের অংশে ছুরি দ্বারা আঘাত করিয়া কাটা রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে আমার ছেলে ও তার সহপাঠীর শোর চিৎকার শুনিয়া আশেপাশে লোকজন আগাইয়া আসিলে বিবাদীদ্বয় প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি প্রদান করিয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এবং তার স্কুলের  সহপাঠীদের সহায়তায় আমার ছেলে ও তার সহপাঠীকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখানকার কতর্ব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, এঘটনায় দুইজনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং ষ্টীলের টিপ ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

মোঃ আবদুল মুনাফ পিন্টু-

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!