
কিশোরগঞ্জের ভৈরব তারা ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো ও কুলিয়ারচরে হ্যারিটেজ টোব্যাকো কোম্পানিতে যৌথ বাহিনীর পৃথক পৃথক অভিযান অভিযান পরিচালিত হয়েছে । গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৃথক দুটি অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান দুটিকে প্রায় চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি নকল ব্যান্ডরোল (সিগারেটের প্যাকেটে লাগানো ট্যাক্স স্ট্যাম্প) ও সিগারেট জব্দ করা হয়। যৌথ বাহিনী সূত্র জানায়, দুপুর থেকে হ্যারিটেজ টোব্যাকো কোম্পানিতে অভিযান শুরু হয়।
অভিযানে নানা অনিয়ম দেখতে পায় যৌথ বাহিনী। বিশেষ করে জাল ব্যান্ডরোল ও ব্যবহার করা ব্যান্ডরোলের সন্ধান পাওয়া যায়। বড় ধরনের পরিবেশগত ত্রুটিও শনাক্ত হয়। বিশেষ করে এখানকার বর্জ্য নদীতে ফেলা হয়, যা নদীর পানিদূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। বেলা ১১টা দিকে ভৈরব উপজেলার শম্ভুপুর এলাকায় অবস্থিত তারা ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো কোম্পানিতে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে জাল ব্যান্ডরোল পাওয়ায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানিয়েছেন ভৈরব উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেদুয়ান আহমেদ রাফি ।
এছাড়া অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভৈরব সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার লে. কর্নেল ফারহানা আফরিন ও কুলিয়ারচরে অভিযানে নেতৃত্ব দেন সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. সাজ্জাদ। এ সময় সাথে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামিউল ইসলাম, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট নরসিংদীর বিভাগের উপকমিশনার সোহেল রানা, কিশোরগঞ্জ জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মতিন-সহ আরো উপস্থিত ছিলেন মেজর মো. সানজেদুল ইসলাম, র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের কমান্ডার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহীন ও পৌর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাসিমা বেগম প্রমূখ । অভিযান শেষে নকল পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে হ্যারিটেজ টোব্যাকো কোম্পানিকে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ৪৭ হাজার ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল এবং নকল সন্দেহে ১ লাখ ৬০ হাজার শলাকা সিগারেট ও ১১ লাখ ২৫ হাজার স্ট্যাম্প জব্দ করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত ইউএনও রেদোয়ান আহমেদ রাফি বলেন, কোম্পানিটি জাল ব্যান্ডরোলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসেছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও ব্যান্ডরোল জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
-এম আর ওয়াসিম-