
বাবা হাফিজ মিয়া পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। অভাবের সংসার। সারাদিন কাজ করে যে টাকা পান তাতে কোনোভাবে সংসার চলে যায়। হাফিজ মিয়ার ছেলে জহুরুল ইসলাম। ছেলে জহুরুল তার বাবার কাছে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার আবদার করে। কিন্তু অভাবের সংসারে বাবা হাফিজ মিয়া তাতে সায় দেইনি। অবুঝ ছেলে অভিমানে জীবনকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। আত্মহত্যা করে। অপরদিকে পারিবারিক কলহের জেরে সোনিয়া আক্তার (২৫) নামের গৃহবধূ আত্মহত্যা করে।
পারিবারিক কলহের জেরে সোনিয়া এবং মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় জহুরুল নামের এক কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া জেলার নন্দীগ্রামে। গত শুক্রবার রাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার বেতকুড়ি গ্রামে ও শনিবার সকালে উপজেলার শশিনগর গ্রামে এ পৃথক দুটি ঘটনা ঘটে।
বেতকুড়ি গ্রামে নিহত জহুরুল ইসলাম ওই এলাকার রাজমিস্ত্রি রাফিজ মিয়ার ছেলে ও শশি নগর এলাকায় নিহত গৃহবধূ সোনিয়া আক্তার (২৫) ঐ এলাকার গার্মেন্টস কর্মী শরিফুল ইসলামের স্ত্রী। থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, বেতকুড়ি গ্রামের বাবা রাজমিস্ত্রি রাফিজ মিয়ার সাথে কাজে যেত ছেলে জহুরুল। গত শুক্রবার রাতের খাবার শেষে বাবার নিকট একটি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার দাবি করেন ছেলে জহুরুল ইসলাম। এসময় বাবা রাফিজ মিয়া ছেলেকে বলেন অভাব অনটনের সংসারে রাজমিস্ত্রির কাজ করে তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে কোনরকম সংসার চালাচ্ছি। টাকা গুছিয়ে কিছুদিন পর তোমাকে একটি এন্ড্রয়েড ফোন কিনে দিবো। এরপর কিশোর ছেলে জহুরুল ইসলাম বাবার উপর অভিমান করে রাতের কোন এক সময়ে বাড়ির পাশের কাঁঠাল গাছের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
এ বিষয়ে এসআই হায়দার আলী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলার শশিনগর গ্রামে আড়াই বছর পূর্বে শশিনগর গ্রামের মোঃ আমিরুল ইসলাম এর ছেলে মো: শরিফুল ইসলাম এর সাথে বগুড়া মাটিডালি এলাকার সোনিয়া আক্তার (২৫) এর বিবাহ হয়। বিয়ের পর বেশ কিছুদিন যাবৎ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিলো। এমতাবস্থায় সোনিয়া আক্তার তার বাবার বাড়িতেই ছিল। গত কিছুদিন পূর্বে তার বাবা তাকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে যায়। নিহতের স্বামী শরিফুল ইসলাম গার্মেন্টসে চাকরি করার সুবাদে ঢাকায় বসবাস করে। এদিকে সোনিয়া আক্তার তার শ্বশুর- শাশুড়ির সাথে স্বামীর বাড়িতেই থাকতো। এমতবস্থায় আজ শনিবার সকালে শ্বশুর মোঃ আমিরুল ইসলাম সোনিয়া আক্তার এর নিকট কিছু টাকা চায়। সে শ্বশুরকে টাকা দিলে শ্বশুর টাকা নিয়ে চলে যাওয়ার পর ভিকটিম শয়ন ঘরের তীরের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। উক্ত ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বগুড়ায় প্রেরণ করে।
-নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি-