হোম » প্রধান সংবাদ » গৃহ মাস্টারের প্রতারনার ফাঁদ

গৃহ মাস্টারের প্রতারনার ফাঁদ

খাদিজা আক্তারঃ বিধির বিধান না যায় খন্ডন নারী হয়ে জন্ম যেন নারীর অভিসপ্ত জীবন, আল্লাহ,তায়ালা মা ফাতেমা কে সৃষ্টি করে নিজে ডেকেছেন মা, সেই মা জাতীকে পুরুষ তান্ত্রিক সমাজের কিছু পুরুষ নানা ভাবে করে নির্যাতন ও অত্যাচা্রে মা জাতীর নেই কোন মর্যাদা।

জরিনার বেলাও তার কোন কমতি হয় নাই ছদ্দো নাম জরিনার,জরিনইরা দুই বোন এক ভাই জরিনা হলো বড় বাবা মার অতি আদরের মেয়ে ছিলো জরিনা।এমন কোন আবদার নাই যে বাবা মা পুরন করে নাই, সে তাই অতি আদরে বাদর হয়েছে।

ঢাকায় জন্ম থাকেন গুলশান এলাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম তার। বয়স হবে ১২ কি ১৩, ৮ম শ্রেনীতে পরে সে,জরিনা বাসায় কোচিং পড়তো এক পুরুষ মাস্টারের কাছে,বেশ কিছুু পড়ার পর তার শ্যামলা বরন উজ্জল নাদুশ-নুদুশ চেহারা দেখে মাস্টার লোভ সামলাতে না পেরে পরার ছলে জরিনা কে ধীরে ধীরে প্রেমের প্রস্তাব দেয় । প্রথমে জরিনা নাকোচ করে দেয় এবং তারপর থেকে মাস্টার জরিনাকে আর পড়াতে আসেনা ।

জরিনার বাবা জিজ্ঞাসা করলে জরিনা বলে আমি জানিনা তোমরা জিজ্ঞাসা করো জরিনার বাবা ফোনে মাস্টার কে জিজ্ঞাসা করেন এবং মেয়ে কে পড়াতে আসার জন্য অনুরোধ করেন মাস্টার আবার ও পরানো শুরু করেন। কিন্তুু কিছু দিন ভলোই পড়াতে ছিলো।

হঠাৎ করে একদিন জরিনার হাত ধরে বলে আমি তোমাকে অনেক ভালো বাসি জরিনা আগের মতো আবারও নিষেধ করে দেয় কিন্ত নারী জাতী হলো মোমের মতো বাতাশ পেলে গলে বেশী ঠিক জরিনার বেলাও তাই হলো বারবার মাস্টার জরিনাকে এমন আকুতি মিনতী করে বলেন এবং ভালোবাসার স্বপ্ন দেখায় এবং বিয়ে করবে বলে জরিনা কে বলে ।

জরিনা একটা সময় আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা। তাই সে স্যারের কথায় রাজি হয়ে যায় তাদের ভিতর এমন গভির সর্ম্পক হয়ে যায় যেন কেউ কাউকে ছারা থাকতেপারেনা বাচতেও পারবেনা।জরিনা আর মাস্টার সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করবে তাই মাস্টার জরিনার বাবাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, জরিনার বাবা মেয়ে ছোট বলে রাজি হয়না । তাই জরিনা ও মাস্টার সিদ্ধান্ত নেয় পালিয়ে যাওয়ার এবং তারা দুজনে পালিয়ে যায় ময়মনসিংহ মাস্টারের এক আত্ব্যিয়র বাড়ী গিয়ে ওঠে সেখানে গিয়ে তারা দুজনে আত্ব্যিয় সহযোগিতা নিয়ে বিয়ে করে। এদিকে জরিনার মা বাবা মেয়ে খুজে দিশেহারা কোথাও পায়না ফোন ও বন্ধ মানস্মান এর ভয়ে থানায় সে জিডি ও করেনা।

আমাদের সমাজে মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ গুলির যে অবস্থায় দিন যায় তাহা কেউ বলতে পারেনা, কারন তাদের পারিবারিক কোন সমস্যা হলে না পারে বলতে না পারে সইতে। জরিনার বাবার ক্ষেত্রে তাই হয়েছে, সে মেয়েকে নিয়ে এমন সমস্যার মধ্যে আছে কারো কাছে বলতে পারেনা মানসন্মানের এর দিকে তাকিয়ে। যদি সমাজে একের পর এক এমননি ঘটনা ঘটতে থাকে তাহলে অন্যায় অত্যাচার দিনে দিনে বেড়েই চলছে আরো চলবে এর কোন প্রতিকার না হলে এ ভাবেই চলবে। জরিনা স্বামীর হাত ধরে শ্বশুর বাড়ী আসে কিন্তু শ্বাশুরী বিয়ে মেনে নেয়না।

এক ছেলে বলে তার ছেলেকে সে ধুমধাম করে বিয়ে করাবে তার মনে বড় আশা। কিন্তু ছেলে ভুলের জন্য আজ মাসুল দিতে হচ্ছে ছেলের বউকে।

এক বছর পর শুরু হয় জরিনার উপর অমানুবিক অত্যাচার আর নির্যাতন।প্রায় সময় স্বামী তাকে শাররীক নির্যাতন করেন এবং স্বামী তার বাবার বাড়ী থেকে ১লাখ টাকা আনতে বলেন, এক দিকে বাবা মার অবাধ্য হয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছেন আবার স্বামীর বাড়ী থেকে বলতেছে যৌতুক আনতে কি করবে জরিনা ভেবে পায়না, আত্ব্যহত্যার সিদ্ধান্ত ও নিয়েছে কিন্তু আত্ব্যহত্যা মহাপাপ তাই সে রাস্তায় যায় নাই, দিনের পর দিন সংসার করবে বলে নানা অত্যাচার আর নির্যাতন সয্য করে আসতেছিল।

এদিকে বাবার বাড়ী থেকে কোন টাকা আনেনা বলে স্বামী জরিনা কে দিয়ে খারাপ কাজে পাঠানোর সিধান্ত নেয় তার মায়ের সাথে একমত হয়ে। জরিনা যেতে রাজিনা বলে মারধর করতো।জরিনা জীবন বাচানোর জন্য সেই পথে যেতে বাধ্য হয়,আবার কাউকে বলতে ও পারতোনা প্রতিদিন তাকে কোন না কোন পর পুরুষের সাথে রাত কাটাতে হতো সংসার করবে সে সব মানিয়ে নেয়।

শেষ পর্যন্ত জরিনা আর সইতে না পেরে বাবা মাকে জানাতে বাধ্য হয় বাবা অসহায় এর মতো কিছুই করতে পারেনা যে মানসন্মানের ভয়ে। সে শুরুতে কোন ব্যবস্থা নেয়না এখন মেয়ের জীবন ও মানের চিন্তা করে এলাকার মাতবরদের কে জানায় এবং শালিস করে মেয়েকে ৪ লাখ দেনমহরনা আদায় করে মেয়েকে পাষন্ড স্বামীর নৃশংসতার হাত থেকে রক্ষা করেন।

তাই সমাজ ও পরিবারের সকল মানুষের সচেতন হওয়া উচিত বাসায় মেয়ের জন্য মাস্টার রাখা ভেবে চিনতে করা দরকার। কারন জরিনার ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো যেন আর কোন বাবা মার জীবনে এমন ঘটনা না ঘটে।

ছবি- সংগৃহীত

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!