প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৮:৩৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৪, ৬:২০ অপরাহ্ণ
সোনাইমুড়ীতে উন্নতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি, এখনো শত শত পরিবার পানিবন্দি

মোহাম্মদ হানিফ সোনাইমুড়ী নোয়াখালী প্রতিনিধি: গত দুইদিন তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় পানি ধীর গতিতে নামলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সোনাইমুড়িতে শত শত পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ফলে হাট-বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্য প্রয়োজনে যেতে হলে একমাত্র নৌকাই তাদের সম্বল।
এসব এলাকার মানুষ খাল-ভরাট হয়ে যাওয়া, যথাসময়ে পরিষ্কার না করা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
নোয়াখালী উপজেলায় সোনাইমুড়ি বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।তবে নিচু এলাকায় এখনো মোটামুটি পানি রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার বাড়ি-ঘরে এখানো পানি রয়েছে বলছেন স্থানীয়রা। তবে সামগ্রিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির মোটামুটি উন্নতি হয়েছে। বৃষ্টি না থাকায় এবং গত কয়েকদিন প্রখর তাপ নিয়ে সূর্য ওঠায় উঁচু এলাকার পানি অনেকটাই কমে গেছে। গ্রামীণ এলাকায়ও পানি কমেছে বলে জানা গেছে। তবে যেভাবে কমার কথা সেভাবে কমেনি। ফলে এখনো অনেকটা কষ্টে আছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।
এর মধ্যে চার ইউনিয়ান বন্যায় প্লাবিত হয়েছে বেশী। বারগাঁও. চাষির হাট. অম্বর নগর. ও নাটেশ্বর এসব ইউনিয়নের বন্যার্তরা এখনো রয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। পানি কিছুটা কমলেও তা ঘরে বসবাস করার মতো নয় বলে জানা গেছে। এদিকে, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নানা সংকট ও দুর্ভোগ। বেড়ে যাচ্ছে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা। একইসঙ্গে দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব। এছাড়া কৃষি, মৎস ও প্রাণীসম্পদ খাতে বিপুল পরিমাণ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার চাষির হাট ইউনিয়নের জুলফিকার আলম ভুট্টু বলেন, ‘এমন বন্যা নোয়াখালীতে আর দেখিনি। আমাদের উপজেলায় প্রতিটি ইউনিয়ন আক্রান্ত হয়েছে। এখনো বন্যার শিকার মানুষেরা কষ্টে আছে। তারা না পারছে ঘরে ফিরতে, না পারছে আর আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে। সবখানেই দেখা দিয়েছে খাদ্যসহ নানাবিধ সংকট।’
বারগাঁও ইউনিয়নের এডভোকেট আলাউদ্দিন বলেন, ‘এখনো পানিতে কষ্ট করছে অনেক মানুষ। তারা খাদ্য সংকটে রয়েছে। একইসঙ্গে বেড়ে গেছে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ। রয়েছে সাপের উপদ্রব। বাড়িতে ফিরতে পারছে না বানভাসীরা। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে গেছে তারা ঘরে আসতে পারছে না নানা কারণে। বাড়ি-ঘর এখনো বসবাস উপযোগী না হওয়ায় এবং রান্নার পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় তারা বাড়ি ফিরতে পারছে না।’
নাটেশ্বর ইউনিয়নের আজম খান বলেন, ‘নিচু এলাকায় এখনো অনেক পানি। নামতে পারছে না। খাল-নালা-জলাশয়-ড্রেন ভরাট থাকায় পানি নামছে না। ফলে এখনো দুশ্চিন্তায় রয়েছে। বিশেষ করে নিন্ম আয়ের মানুষরা বেশি সমস্যায় আছে। তারা যে পরিমাণ খাদ্য পাচ্ছে তা যথেষ্ট নয়। শিশু খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। অসুস্থতরা কষ্টে আছে।’
অম্বরনগর ইউনিয়নের আব্দুল জলিল বলেন, ‘খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। পরিবার আছে আশ্রয়কেন্দ্রে। আমি আছি বাড়ি পাহারায়। সন্তানরা প্রায় না খেয়ে থাকার মতো। শুকনো খাবার খেয়ে কত দিন পারা যায়। ঘরে ফেরার পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি। রান্না করার চুলা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে রান্না করা খাবার সংকট। ঘর থেকে পানি নামলেও উঠানসহ পুরো বাড়ির চারপাশে এখনো পানি। রাতে ভয় করে ঘরে থাকতে। সাপের ভয় আছে। সঙ্গে রয়েছে খাদ্যের চিন্তা।’
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে অধিক ডায়রিয়া রোগী ও সাপের কামড়ের চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রতিদিন আসছে পানিবাহিত রোগী।বন্যার্তদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য টিম কাজ করছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসক দলও রয়েছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.