প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৮:৩০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৪, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমন কাণ্ডে এলাকাজুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় রোববার ভুক্তভোগী এক ছাত্রী নিজেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা'র নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম মো. মশিউর রহমান (৫২)। তিনি পৌর এলাকার নওয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, বিগত ৫-৬ মাস যাবৎ প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে তার রুমে ডেকে নিয়ে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাবসহ প্রেম নিবেদন করতে থাকেন। লজ্জায় বিষয়টি কাউকে না বলে কিছুদিন ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেন। এতে তার পিতামাতা চাপ দিয়ে পুণরায় স্কুলে যেতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে ওই ছাত্রী তার তিনজন বান্ধবীকে ঘটানাটি জানালে তাদেরকেও একইভাবে ওই শিক্ষক কুপ্রস্তাব দিয়েছে বলে জানায়। পরবর্তীতে ঘটনাটি বিদ্যালয়ে জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান ওই চারজন ছাত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে ৫ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক তার কক্ষে নিয়ে ওই ছাত্রীদের অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ ও ভয়ভীতির হুমকি দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের এ ঘটনাটি স্কুলে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করার চেষ্টা করলে প্রধান শিক্ষক তাদের ক্লাস থেকে বের হতে দেননি। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
ভুক্তভোগী অপর এক ছাত্রী বলেন, 'স্যার আমাকেও একাধিকবার তার রুমে ডেকে নিয়ে স্পর্শকাতর স্থানে শ্লীলতাহানি করে। আমাকে খারাপ প্রস্তাব দেয়। স্যারের এমন আচরণে আমি হতভম্ব। বিষয়টি স্কুলে জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিটক আমিও একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।'
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে কয়েকদিন পর ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন। তবে রোববার তিনি বহিরাগত কিছু ছেলেদের সাথে মিছিল নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এসময় বহিরাগত ওই ছেলেরা প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমানকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। পরে ওইদিনই ভুক্তভোগী এক ছাত্রী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইউএনও'র নিকট লিখিত অভিযোগ দেন। এই খবর পেয়ে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে একমাসের ছুটির আবেদন করেন ওই শিক্ষক। সেইসঙ্গে তার অবর্তমানে বিদ্যালয়ের অপর এক সিনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দেন তিনি।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান জানান, 'বিদ্যালয়ে নিয়মিত না আসার কারণে ওই ছাত্রীদের আমি শাসন করি। এরপর তাদের অভিভাবকদের সাথে মীমাংসাও করেছি। কিন্তু তারপরও একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়েছে।' আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারমীন ইয়াছমীন বলেন, 'লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
-মিয়া রাকিবুল-
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.