হোম » সারাদেশ » সোনাইমুড়ীতে বন্যার পানি নামলেও ফুরাচ্ছে না দুর্ভোগ

সোনাইমুড়ীতে বন্যার পানি নামলেও ফুরাচ্ছে না দুর্ভোগ

ভয়াবহ বন্যায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে , যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক ক্ষতচিহ্ন দৃশ্যমান হচ্ছে।টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখেছে , নোয়াখালী, সোনাইমুড়ী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে, নেমে গেছে অধিকাংশ এলাকার পানি, তবুও মানুষের দুর্ভোগ ফুরানোর যেন নাম নেই। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে  স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষতের চিহ্ন। নষ্ট হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকার সড়ক, ভেঙে গেছে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সাম্প্রতিক বন্যার  ধাক্কাটা এসে লাগে নোয়াখালী সোনাইমুড়ী উপজেলায়. এখন পর্যন্ত বন্যায় জীবনযুদ্ধে ব্যস্ত বন্যার্ত মানুষগুলো। উপজেলার পূর্ব মির্জানগর  গ্রামের বাসিন্দা কাজল  বেগম। তিন সদস্য নিয়ে ছোট্ট ঘরে থাকতেন সত্তরোর্ধ্ব এই নারী। এবারের বন্যা ঘরের ভিতরে পানি ঢুকলে ঘরটির সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁইটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। দুর্ভোগের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কাজল বেগম; বলতে থাকেন, ‘ঘরে একটু চাল নাই,  চাল যে পাকাবো ওই হাড়ি চুলা কিছুই নাই। আমার ঘরের সব কিছু পানির নিচে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে পানির স্রোতের কারণে কিছু জিনিস পানি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে । এবারের বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমি।
উপজেলা বারগাঁ ইউনিয়ন কৃষ্ণপুর গ্রামের  আব্বৌস আলী ছেরাগ বাড়ির আবুল কাশেম বলেন .  বন্যার কারণে নষ্ট হয়েছে ঘরবাড়ি সকল কিছু  কোন আশ্রয় কেন্দ্র যাইনি  আমাদের এলাকায় কোন আশ্রয় কেন্দ্র নেই ।আমি অসুস্থ মানুষ  রুজি রোজগার করতে পারি নাই বন্যার কারণে আরো অসহায় পড়েছি। কিছু শুকনা খাবার পেয়েছি  তবে আমার ঘরের  মাটিগুলো নিচের দিকে নেবেন যাচ্ছে যে কোন মুহূর্তে ঘরটি ভেঙে পড়বে। বন্যার পানি যতো নামছে ততোই স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির অসংখ্য চিহ্ন। এই পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক রূপে ফিরবে সেই সদুত্তর নেই কারও কাছে। এদিকে আরেক ক্ষতিগ্রস্ত অম্বরনগর ইউনিয়নে এখনও পানিবন্দি কয়েক শত মানুষ  । পুনর্বাসন সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। বেশ কিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। উপজেলার  অধিকাংশ সড়কে কংক্রিটের স্তর ভেঙে গেছে। পরিস্থিতি এমন যে সেখানে কোনও অটোরিকশা চলার অবস্থা নেই। আরো খারাপ অবস্থা গ্রামের ভেতরে ছোট অলিগলি ও কাঁচা সড়কগুলোতে। এমন অবস্থায় উপজেলার  বন্যাপীড়িত অনেক গ্রাম এখনও বলতে গেলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে।
অম্বনগর ইউনিয়নের তারিফুল ইসলাম  নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, রাস্তাঘাট একদমই ব্যবহার উপযোগী । তার মধ্যে সন্ধ্যা হলেই রাস্তায় চলতেও ভয় হয়। বন্যায় ছোট-বড় সড়কগুলো যে ক্ষতির মুখে পড়েছে সেগুলো মেরামতে সরকারি, বেসরকারি প্রতিটি পর্যায় থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নাটেশ্বর  ইউনিয়নের ঘোষকামতা  গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান.  বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের কথা কি বলবো  এই বন্যায় আমার  ২৫ লক্ষ টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে  আমি নিঃস্ব গেছি এবারের বন্যায়।
উপজেলা মিয়াপুর গ্রামের স্থানীয় একজন আনোয়ারুল ইসলাম অনেক জানান .  অনেক এলাকা এখনও পানির নিচে। বহু বছরের দখলে খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায়, বন্যার পানি নামতে সময় লাগছে। চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা। সোনাইমুড়ি  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিস ফাতেমা বলেন,  এবারে বন্যা প্রলম্বিত হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে অনেক। পানি যখন নামতে থাকে তখন অবকাঠামো নষ্ট হওয়া, রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে, বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে। সবার আগে সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করাই প্রধান লক্ষ্য।
-মোহাম্মদ হানিফ-
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!