প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৯:৪০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৪, ১২:২৭ অপরাহ্ণ

দেশে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে. আতঙ্ক ছড়ানোর পাশাপাশি চাঁদাবাজি, অপহরণ, সন্ত্রাসমূলক অপরাধ ও রাজনৈতিক তৎপরতায় এসব অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে । দেশি-বিদেশি অবৈধ অস্ত্রের ভয়ানক বিস্তার ঘটেছে। সর্বত্রই আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়াছড়ি। র্যাব-অভিযানে যে পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হচ্ছে তার কয়েকগুণ নিরাপদে চলে যাচ্ছে অপরাধীদের গোপন ডেরায়। আর এতে করে আন্ডারওয়ার্ল্ডে অস্ত্রভাণ্ডার দিনে দিনে সমৃদ্ধ হচ্ছে। ছোটখাটো ঘটনাতেও অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের ক্যাডার মাস্তানরা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নামছে।এখন অপরাধ সংঘটনের আগে অপরাধীরা আধুনিক কৌশল ও প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে থাকে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর শক্তিমত্তা, কৌশল ও ব্যবস্থাপনার প্রতি দৃষ্টি রেখেই তারা তাদের পরিকল্পনার ছক আঁকে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় কথায় কথায় অস্ত্র প্রদর্শন, গুলি করে মানুষ হত্যার চেষ্টা, বুলেটের ভয় দেখিয়ে ত্রাস সৃষ্টি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় কয়েকটি সন্ত্রাসী বাহিনীর পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও অনেকের কাছে রয়েছে অবৈধ অস্ত্র। দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্রের পাশাপাশি অত্যাধুনিক অস্ত্রও রয়েছে তাদের হাতে। গত ৫ আগস্ট ও তৎপরবর্তী সময় বিভিন্ন থানায় হামলা করে লুট করা অস্ত্রও আছে এগুলোর মধ্যে।
একাধিক সূত্র জানায়, পুরো উপজেলায় শত শত অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা এবং এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও রাজনৈতিক নেতাদের সুনজরে থাকতেই ব্যবহার হয়ে আসছে এসব অস্ত্র। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর সোনাইমুড়ী উপজেলা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুর পরিমাণ গোলাবারুদসহ এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। এ সময় তার কাছ থেকে ২টি পিস্তল, ২টি এলজি, ১টি পাইপগান, ২৫ রাউন্ড গুলি, ১৩ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ, ২ রাউন্ড টিয়ার গ্যাস শেল, ৩টি ককটেল, ২টি চাইনিজ কুড়াল, ৩টি ছোরা ও ৩টি অস্ত্রের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নোয়াখালীর চাটখিল ও সোনাইমুড়ী থানা থেকে লুট হওয়া ৯০১টি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। গত ১২ আগস্ট দুপুরে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নোয়াখালী জেলা কমান্ড্যান্ট কার্যালয়ে ১৮ আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক রোকসানা বেগম সেনাবাহিনীর ১৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি উপ-অধিনায়ক মেজর রিফাত আনোয়ারের কাছে অন্ধগুলো হস্তান্তর করেন। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর মধ্যে চাটখিল থানার ১২০ রাউন্ড রাইফেলের বুলেট, একটি এসএমজি, সাউন্ড গ্রেনেড, ম্যাগাজিন, পাঁচটি শর্টগান, ২০টি সিসা কার্তুজ, তিনটি টিয়ারশেল, চার সেট হ্যান্ডকাফ। সোনাইমুড়ী থানার একটি রাইফেল, পাইপগান, দুটি পিস্তল, গ্যাস গান, ১১ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৬৩৬ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৬৭টি রাবার কার্তুজ, ১২টি সিসা কার্তুজ, তিন সেট হ্যান্ডকাফ, ৭টি টিয়ারশেল ও ৪টি সাউন্ড গ্রেনেড রয়েছে।
৫ আগস্ট দুপুরের দিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা থেকে লুট হওয়া সাতটি অস্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুব্ধ জনতা এই অস্ত্রগুলো কেড়ে নিয়েছিল। পরে সেগুলো উদ্ধার করে শিক্ষার্থীরা জমা দিয়েছেন। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে শর্টগান, থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল, পিস্তল ও দোনালা বন্দুক। গত বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে সোনাইমুড়ী থানা প্রাঙ্গণে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মো. ইফতেখারের কাছে অস্ত্রগুলো জমা দেওয়া হয়। তবে এখনো উদ্ধার হয়নি সব অস্ত্র। সোনাইমুড়ীতে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়ায় যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।' জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ উপজেলার আশপাশের এলাকায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ নানা প্রকার দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে সন্ত্রাসীরা। অভিযোগ রয়েছে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ব্যবসায়ীসহ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ চাঁদাবাজি করাই এসব অস্ত্রধারীদের মূল লক্ষ্য।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক সোনাইমুড়ী পৌর এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, আওয়ামী সরকার পতনের পর স্থানীয় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিতে দেখা যায়। বাজারের বিভিন্ন দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। রাতের বেলায় এ উপজেলার জনসাধারণ ডাকাত আতঙ্কে রয়েছে। শতাধিক স্থানে রাতের বেলায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে। দখল সোনাইমুড়ী থানার এসআই সুভাস বলেন, গত ৫ আগস্ট থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের ' হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশের একজন এসআই বাদী হয়ে ২৫ হাজার লোককে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর ৫৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়। ৭৯টি থানার, ২২টি বেসরকারি অস্ত্র থানায় জমা ছিল। এ অস্ত্রগুলো এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।' নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান বলেন, 'নোয়াখালীর চাটখিল ও সোনাইমুড়ী দুটি থানার অস্ত্র লুট হয়েছে। কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার থেকে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলবে।
-মোহাম্মদ হানিফ-