
তিনি বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির প্রশাসনিক বিভাগের ডিজিএম মো. মোশারফ হোসেন সরকার। আওয়ামীলীগের গুরুপ্তপূর্ণ ব্যক্তিকর্তাদের সাথে তার সক্ষমতা থাকায় সে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কোন কর্মকর্তাকে দাম দিতেন না এবং অফিসের কোন কাজও করতেন না। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বড়কপুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ২৫টি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েও কিছুই করতে পারেনি।
দালিলিক সূত্রে জানা যায়, কোম্পানির স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পেট্রোবাংলা ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল মোশারফ হোসেনকে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন প্রেষনে বদলী করে। কিন্তু কিছুদিন থাকার পর সে দলিয় প্রভাব খাটিয়ে পুণরায় বড়পুকুরিয়া খনিতে চলে আসেন। এর পরেও বিভিন্ন সময় কোম্পানীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্ঠি করলে কর্তৃপক্ষ তাকে কয়েকবার বদলি কারার পদক্ষেপ নেন কিন্তু সে স্থানীয় ও দলিয় প্রভাব খাটিয়ে তা প্রতিহত করেন।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক জড়িত থাকায় অভিযোগে ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল তাকে তিরষ্কার দন্ড দেওয়া হয়। নিয়মবর্হিভুতভাবে কোম্পানির গাড়ি ব্যবহার করায় এবং ড্রাইভারের সাথে দুর্ব্যবহার করায় ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করায় গত ১৫ মে মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে আবারো একটি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলার প্রেক্ষিতে মোশারফ হোসেন নিজেকে একজন আওয়ামীলীগার পরিচয়ে গত ৩০ জুলাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মামলা এবং সকল অভিযোগ পনের দিনের মধ্যে প্রত্যাহার চেয়ে উকিল নোটিশ পাঠান। পরে ৫ আগস্ট তার আস্থাভাজন সরকারে পতন ঘটে। এ ঘটনায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গত ২০ আগস্ট মোশারফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকে মোশারফ হোসেন, যেহেতু সে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতদুষ্ট। তাই তিনি বর্তমান সরকারকে বিব্রত করতে গত ৫ আগষ্ট পর থেকে তার মনোনিত ও কিছু বহিরাগতদের নিয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে অপ্রীতিকর ঘটনা অবতারণার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যা সুনামের সাথে চলা চলমান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভাবমূর্তি নষ্টসহ বতর্মান সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতে ফেলানোর অপচেষ্টা মাত্র।
এ বিষয়ে মোশারফ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান যে, তিনি রংপুরে আছে আগামী এক সপ্তাহের আগে তিনি এসব বিষয়ে নিয়ে কথা বলতে পারবেন না। একজন সরকারি চাকুরিজীবি হয়ে দলীয় পরিচয়ে উকিল নোটিশ দেবার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং মোবাইলের লাইন কেটে দেন।