হোম » প্রধান সংবাদ » লিবিয়া ফেরত ভৈরবের ১৯ যুবক

লিবিয়া ফেরত ভৈরবের ১৯ যুবক

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব ( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: ইউরোপ গামী লিবিয়া থেকে ফেরত এসেছে ভৈরবের ১৯ জন যুবক। ভৈরবের শম্ভুপুর, জগন্নাথপুর, লক্ষীপুর, ছনছাড়া, রঘুনাথপুর, বড় রাজাকাটা, ভাটি কৃষ্ণগর ও ভৈরবপুর গ্রামের ১৯ যুবক ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার সময় লিবিয়ার কোস্ট গার্ডের হাতে ধরা পড়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভৈরবে যার যার নিজ বাড়িতে এসে পৌছাঁয়।

জানাযায় ১৫২ জনের মধ্যে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশীদের মধ্যে ১৯ যুবকের বাড়ি, ভৈরবের বিভিন্ন গ্রামে। ভৈরবে ফেরত আসা যুবকরা হলেন  শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিনের পুত্র রনি মিয়া ও আইয়ূব খান এর পুত্র মঈন খান ,পৌর এলাকার জগন্নাথপুর গ্রামের মোঃ সিদ্দিক মিয়া পুত্র মনিরুজ্জামান খোকন, মোঃ ইদ্রিস মিয়ার পুত্র মার“ফ মিয়া, মোঃ বাতেন মিয়ার পুত্র মোঃ শান্ত মিয়া, ও শেখ ফরিদ মিয়ার পুত্র

মেহেদী হাসান, পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামের রাশেদ মিয়ার পুত্র অন্তর মিয়া, শফিকুল ইসলামের পুত্র, মোঃ ইমরান, ফার“ক মিয়ার পুত্র আমিনুল ইসলাম, সাঈদ মিয়া পুত্র মোঃ তুহিন মিয়া, এ অহিদ মিয়ার পুত্র মোহাম্মাদ এছাড়া ও মোঃ জোনায়েদ আহমেদ ।শিবপুর ইউনিয়নের ছনছাড়া গ্রামের হাবিবুল্লাহর পুত্র সুজন আহমেদ। একই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মোস্তু মিয়ার পুত্র উজ্জ্বল মিয়া, ।
শিমুলকান্দি ইউনিয়নের বড় রাজাকাটা গ্রামের এ আওয়াল এর পুত্র রিমন মিয়া ও এ বারিকএর পুত্র জীবন মিয়া । এছাড়া ভাটিকৃষ্ণগর গ্রামের এম সাগর মিয়া। পৌর এলাকার ভৈরবপুর গ্রামের আক্তার হোসেনের পুত্র সাব্বির মিয়া, ও ঈসমাইল হোসেনের পুত্র ওলি উল্লাহ।

ফেরত আসা যুবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৩০শে অক্টোবর লিবিয়া থেকে ইটালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগরে লিবিয়ার কোস্টগার্ডের হাতে তার ধরা পড়ে। তখন লিবিয়ার পুলিশ ত্রিপুলির রাবিস মাসর“ মিসলিম জেলখানায় তারা ২৬ দিন বন্দি ছিলেন। জেল খানায় তাদের খাবার ও ঔষুধপত্রের অভাবে তাদের দেশে ফেরার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তখন লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সবার্ত্মক প্রচেষ্টায়, লিবিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধান এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সক্রিয় সহযোগিতায় তাদেরকে দেশে ফেরত আনা হয়। তারা আরো জানান, লিবিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধান এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বাংলাদেশ বিমান বন্দর থেকে যার যার নিজ বাড়িতে পৌছার জন্য ৪হাজার ৭শত (বাংলাদেশী) টাকা প্রতিজনকে যাতায়েত ভাড়া হিসাবে দেওয়া হয় এবং তাদের ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রত্যেককে আরো ১৪০০ ইউরো করে দেওয়া হবে বলে জানান।

পৌর এলাকার জগন্নাথপুর গ্রামের কমলার মোড় এলাকার মনিরুজ্জামান খোকন জানান, আমরা মরণের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে দেশে ফিরেছি। আজ স্বজনদের সাথে দেখা হবে কল্পনাও করিনি। লিবিয়ার বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধান এবং আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কে অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাদের সহযোগিতায় দেশে ফিরে নতুন আলোর মুখ দেখছি। পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামের ফেরত আসা অন্তর মিয়ার বাবা রাশেদ মিয়া মোবাইল ফোনে জানান, ছেলে রাতে বাড়ি আসলে গর্ভেবুক ভরে উঠে। অনেক মানত করেছি ছেলে দেশে আসার জন্য। আল-াহ আমার ডাক কবুল করেছেন। যারা ছেলেকে দেশে আনতে সহযোগিত করেছে তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বৃহস্পতিবার ১৫২ বাংলাদেশী ঢাকায় ফিরেছেন।

তার সকাল দশটায় হযরত শাহাজালাল আন্র্—জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌছান। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সবার্ত্মক প্রচেষ্টায়, লিবিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধান এবং আন্র্—জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সক্রিয় সহযোগিতায় একটি চাটার্ড ফ্লাইটে করে তাঁদের দেশে পাঠানো হয়েছে। বিমান বন্দরে পৌছার পর তাদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কাগজপত্র পূরণের পর রাত ৮টায় তাদের নিজ নিজ বাড়িতে রওনা হয় ভৈরব উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার্ লুবনা ফারজনা জানান, ফেরত আসা লোকজন যদি আবার বৈধ পথে বিদেশ যেতে চায় তাহলে উন্নত প্রশিক্ষন দিয়ে সঠিক ভাবে বিদেশ যেতে তাদেরকে সহায়তা করা হবে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!