হোম » আজকের এই দিনে » স্বপ্নবাজ মেয়র আনিসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

স্বপ্নবাজ মেয়র আনিসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

আওয়াজ অনলাইন : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ছিলো গতকাল শুক্রবার। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালনে নানা উদ্যোগ নেওয়া নেয় উত্তর সিটি করপোরেশন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে। মেয়রের পরিবারের পক্ষ থেকে মিলাদ, দোয়া এবং আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া দিনটি উপলক্ষে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ‘বৃক্ষের জন্য হাসপাতাল’ উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি।

আনিসুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে সিটি করপোরেশন আলাদা কর্মসূচি হাতে নেয়নি। তবে আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা সড়কটি প্রয়াত এই মেয়রের নামে নামকরণ করবে ডিএনসিসি। এই অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাসহ মেয়রের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

ডিএনসিসির মেয়র হিসেবে মাত্র দুই বছর দুই মাস ২৪ দিন দায়িত্ব পালন করেন আনিসুল হক। এই স্বল্প সময়ে তিনি ঢাকাবাসীকে দেখিয়েছিলেন বিশ্বমানের নগরী গড়ার স্বপ্ন। সৃজনশীল এবং সাহসী নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হন তিনি। ঢাকাকে আধুনিক এবং বসবাসের উপযোগী করতে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন তিনি।

দীর্ঘ ৫০ বছর দখলে থাকা তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তার সামনের ট্রাকস্ট্যান্ডের সড়কটি উদ্ধার করে এলাকাটি যানজটমুক্ত করেন মেয়র আনিসুল হক। এ ছাড়া গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনের দখলে থাকা প্রায় ৪২ একর জমি উদ্ধার করেন। এর ফলে গাবতলী এলাকার যানজট অনেকাংশে কমে যায়।

মেয়র আনিসুল হক সব সময় স্বপ্ন দেখতেন দেয়ালবিহীন স্থাপনার। এরই ধারাবাহিকতায় নতুনবাজার এলাকার ভারতীয় হাইকমিশনের পার্শ্ববর্তী খেলার মাঠের দেয়াল তুলে দিয়ে লোহার বেষ্টনী দিয়ে সৌন্দর্য বর্ধন করেন তিনি।

এ ছাড়া রাজধানীর পুরান বিমানবন্দর এলাকার দীর্ঘ দেয়াল তুলে লোহার বেষ্টনী স্থাপন করতে বিমানবাহিনীর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা।

ঢাকাকে বিশ্বমানের নগর হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণদের প্রাধান্য দিতেন মেয়র আনিসুল হক। রাজধানীর আনাচে-কানাচে থাকা নাগরিক সমস্যা জানতে ‘নগর’ নামে একটি এনড্রয়েড অ্যাপ বানান তিনি। এর মাধ্যমে নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট এলাকার সমস্যাগুলো সিটি করপোরেশনকে ছবিসহ পাঠাতে পারতেন। অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে যুক্ত হওয়ার পর ব্যাপক সাড়া মেলে।

রাজধানীর সৌন্দর্য হরণকারী বিলবোর্ড অপসারণের পক্ষে ছিলেন আনিসুল হক। একসময় ঢাকার সড়কে চলাচলকারী মানুষ বিলবোর্ডের কারণে আকাশ দেখতে পারত না। মেয়রের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ঢাকাবাসী বিলবোর্ডমুক্ত নগরী পায়।

আধুনিক ঢাকা গড়ার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের আগেই হারিয়ে যান এই স্বপ্নদ্রষ্টা। ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই লন্ডনে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন আনিসুল হক। পরে ৩০ নভেম্বর লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সবাইকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান তিনি।

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ছেলে নাভিদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করবে।’
/এইচ.

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!