
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর গেরুয়াডাংগী গ্রামের মানুষজন দীর্ঘদিন ধরে বিপাকে আছে। জানা যায়, গেরুয়াডাংগী গ্রামে ৬০ থেকে ৭০ টি পরিবারের প্রায় পাঁচ’শ সদস্য বসবাস করেন। সুবিশাল বিস্তীর্ণ মাঠ ও ফসলি জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে ওই পরিবারগুলো। মাঠের মধ্যে গড়ে উঠা গ্রাম থেকে বের হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা নেই।
গ্রামবাসী তাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে দীর্ঘদিন হলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে জমি ক্রয় করে রাস্তার নির্মাণের জন্য তারা বেশ জোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু রাস্তার জন্য জমি দিতে কেউ রাজি হচ্ছে না।
জানা যায়, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলেছেন। তারা রাস্তার জমি ক্রয় করার প্রস্তাবও দিয়েছেন। জমির মালিকদের মতের অমিল থাকার কারণে ৮ থেকে ১০ বার বসার পরেও কোনো লাভ হয়নি।
স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্ৰামের নির্দিষ্ট রাস্তা না থাকায় দূভোগে পড়েছে গ্রামবাসী। গ্রামের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাতায়াত করার সময় ক্ষেতের আইল দিয়ে জুতা হাতে নিয়ে কাঁদা-পানির মধ্য দিয়ে এপার ওপার করে। অনেক সময় আইল দিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে কাপড় গুলো কাঁদা-পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা বাসায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যেতে পারে না। গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে পারে না। চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় গ্ৰামের গর্ভবতী মায়েদের । গ্রামের রাস্তা নাই এমন কথা শুনার পরে ছেলে মেয়ে দের বিয়ে ভেঙ্গে যায়। মানুষের চলাচলের জন্য নেই কোনো রাস্তা।
স্থানীয় জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবি, প্রশাসনের সার্বিক দিক বিবেচনা করে অতি দ্রুত গেরুয়াডাঙ্গী গ্রামের মানুষের জন্য রাস্তার ব্যবস্থা করা হলে এই গ্রামের ছেলে মেয়েরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে এবং পরবর্তীতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।
-জসীমউদ্দীন ইতি-