প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৬, ২০২৬, ১:২০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ২৫, ২০২৪, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
জীবনের ঘানি টানছে ছোট্ট শাকিব, বাবার স্বপ্ন অপূর্ন রেখে

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বাজারের পথে এক দিনের বিকেলে এক অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী হলাম। ব্যস্ত রাস্তায় আমার বাইক যখন একটি অটোরিকশার পাশে এসে দাঁড়ায়, তখন চোখে পড়ে ছোট্ট শাকিবের দিকে, যে কিনা মাত্র ১২/১৩ বছর বয়সে অটোরিকশা চালাচ্ছে। তার ভীত চঞ্চল চোখে আমি এক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলাম—এই বয়সে কেন সে রাস্তায় যাত্রী নিয়ে ব্যস্ত?
আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম, তখন শাকিবের পাশে বসা যাত্রী খয়রুল আলম জানালেন যে, শাকিবের বাবা নেই। তার মা শেফালী বেগম পেছনে বসে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করেন এবং চোখে চোখে রাখেন তার ছেলেকে। ব্যস্ততার কারণে সেদিন তাদের ঠিকানা নিতে পারিনি, শুধু ফোন নাম্বার নিয়ে রাখি। তবে পরের দিনই যাত্রা করি শিশু শাকিবের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
মোঃ শাকিব ইসলামের মা শেফালী বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, “আমার ছেলেকে আর কুরআনের হাফেজ বানাতে পারলাম না ভাই, হলোনা তার বাবার স্বপ্ন পূরণ।” তার স্বামী মৃত নুরুল ইসলাম ছিলেন একমাত্র রুজির উৎস। প্রায় ছয় মাস আগে মাড়েয়া স্কুলে ওয়াজ শুনতে গিয়ে তিনি দুর্বৃত্তদের হাতে প্রাণ হারান। অটোরিকশাটি ডাকাতির উদ্দেশ্যে রাতে যাত্রীবেশে নুরুল ইসলামকে হত্যা করে পালিয়ে যায় তারা। পরবর্তীতে অটোরিকশার ব্যাটারি ফুরিয়ে যাওয়ায় দেবিগঞ্জ রাস্তায় সেটি ফেলে রেখে যায়।
কোনো আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বান্ধব কেউ নুরুল ইসলামের সন্ধান দিতে পারেনি। হত্যার সাত দিন পর একদিন তার মরদেহ পাওয়া যায় করোতোয়া নদীতে। থানা পুলিশ নিয়ে গেলে সেখানে তার পরনের কাপড় দেখে সনাক্ত করেন। সেই সময় কুরআন এর ৫ পাড়া হাফেজি পড়া শাকিবের জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। মাদ্রাসার পঠন-পাঠন বাদ দিয়ে সংসারের বোঝা কাঁধে তুলে নিতে হয় শিশু শাকিব কে।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, "শেফালী বেগমের স্বামী নুরুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর কী করবে বুঝতে না পেরে তার ছেলে শাকিবকে অটোরিকশা চালানোর কাজে নিয়ে আসেন। যে সময়টা তার খেলা ধুলা করার, স্কুলে যাবার, সেই সময়টায় সে আজ জীবনের ঘানি টানছে।"
শাকিবের বাড়িতে গিয়ে তার সংগ্রামের কথা শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার নজির বলেন, “আমি এ বিষয়ে আগে জানতাম না, যেহেতু আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম, আমি ব্যবস্থা নেব যেন সামনের দিনে বিধবা ভাতা পেতে পারেন শেফালী বেগম।”
শেফালী বেগমের অনিশ্চিত ভবিষ্যত, শাকিবের কাঁধে সংসারের ঘানি—এই গল্পগুলো কেবলমাত্র তাদের নয়, এ ধরনের অসংখ্য পরিবারের প্রতিচ্ছবি। সমাজের আমাদের সবার দায়িত্ব এই ধরনের পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো, যেন তারা একটু সুস্থ, সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারে। শাকিবের বাবার স্বপ্ন পূরণ না হলেও, তার নিজের জীবনের স্বপ্ন যেন অন্ধকারে ঢাকা না পড়ে।
সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হৃদয়বান বিত্তবানরা যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারে+8801333968946 শেফালী বেগম, মাড়েয়া ইউনিয়ন, মাঝিয়ালী গ্রাম, বোদা, পঞ্চগড়।
-আল মাহমুদ দোলন-
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.