হোম » সারাদেশ » ধুনটে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষের উপর হামলা

ধুনটে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষের উপর হামলা

বগুড়ার ধুনটে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিপক্ষের উপর হামলার ঘটনায় আবু সাঈদ (৩২) ও তার মা গোলাপী খাতুন (৬৫) গুরুতর আহত হয়েছে। গত ৬ আগস্ট মঙ্গলবার উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরঘাট গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত ২জন ওই গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে ও তার স্ত্রী। এ ঘটনায় আবু সাঈদ বাদি হয়ে ১১ জনকে বিবাদী করে ধুনট থানায় একটি এজাহার দায়ের করে।
এজাহারে বলা হয়, আবু সাঈদ তার পৈত্তিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে পুকুর খনন করে বিগত প্রায় ৩৩ বছর যাবত মাছ চাষ করে আসছে। ওই পুকুর কে কেন্দ্র করে বিবাদীগণদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা চলমান আছে এবং মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘটনার দিন ৬ আগষ্ট মঙ্গলবার সকাল অনুমান ১০ টার দিকে বিবাদীগন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম, লোহার রড, এসএস পাইপ, ধারালো রাম দা, হাসুয়া (দেশীয় অস্ত্র) নিয়ে ঈশ্বরঘাট দক্ষিণপাড়া গ্রামস্থ জনৈক লুৎফর রহমান এর বসতবাড়ীর পশ্চিম পাশে অবস্থিত পুকুরটি জোরপূর্বক জবর দখলের চেষ্টা ও চাষকৃত মাছ ধরে  প্রায় দুই লক্ষ টাকা ক্ষতি করে।
আবু সাঈদ জানান, ঘটনার সময় লোক মারফত সংবাদ পেয়ে দ্রুত পুকুর পাড়ে গিয়ে বিবাদীগণদের আমার পুকুর থেকে মাছ ধরতে নিষেধ করি। তখন বিবাদীগণ আমার কথা অমান্য করে কান্তনগর গ্রামের মৃত মতিউর রহমান জোয়ারদারের ছেলে মাহমুদুল হাসান (৫০) ও মৃত আজিমুদ্দিন জোয়ারদারের ছেলে মাহফুজার রহমান জোয়ারদার আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ করে। আমি এর মৌখিক প্রতিবাদ করলে মাহমুদুল হাসান তার হাতে থাকা এসএস পাইপ দ্বারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার উপর স্ব জোরে আঘাত করে। ফলে আমার মাথা ফেটে গুরুতর আহত হই। আমার চিৎকারে আমার মা গোলাপী খাতুন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে জহুরুল ইসলাম জোয়ারদারের ছেলে জুয়েল হোসেন জোয়ারদার (৩৫) হাসুয়া (দেশীয় অস্ত্র) দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার মাকে কোপ দিলে তাৎক্ষনিক আমার মা বাম হাত দিয়ে ঠেকালে হাতের তর্জনি আঙ্গুলের মাঝখানে গুরুত্বর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। পরে আমাদের ডাক-চিৎকারে আশে পাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে বিবাদীগণ প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় লোকজন আমি ও আমার মাকে চিকিৎসার জন্য ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার অবস্থা আশংকাজনক দেখে ঘটনার দিনই উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সন্ধ্যা অনুমান ৬টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহন করি। তিনি আরো জানান, চিকিৎসা শেষে গত ১২ আগস্ট ১১ জনকে বিবাদী করে ধুনট থানায় একটি এজাহার দায়ের দায়ের করি। কিন্তু এজাহারের দায়েরের ৭ দিন পরেও কোন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনার তদন্ত করতে আসেনি। এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড ভূক্তও করেনি। কি কারনে আমার দায়ের করা এজাহারটি তদন্ত ও রেকর্ড ভূক্ত হচ্ছে না তা নিয়ে আমি ও আমার পরিবার সংকিত।
এবিষয়ে বিবাদী মাহমুদুল হাসান জানান, আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি তারা দীর্ঘদিন যাবৎ অন্যায় ভাবে ভোগ দখল করে আসছিলো। গত ২ মাস আগে ওই জায়গা নিয়ে চলমান মামলায় আমরা রায় পেয়েছি। তবে পুকুরটি নিয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ছিলোনা। স্থানটি নিয়ে মারামারির ঘটনায় আমি জড়িত নই। আমি উপস্থিত ছিলাম না। আমাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। মুলত আমি পরে শুনেছি ওই স্থানটি নিয়ে একটা ঝামেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ সৈকত হাসান জানান, যে সময়টাতে এজাহার দায়ের হয়েছে সেই সময়ে দেশের চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিলোনা। তাছাড়া দেশ ব্যাপী পুলিশ সদস্যদের কর্মবিরতি কর্মসূচী চলার কারনে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়ে যায়। পরবর্তিতে ধীরে ধীরে থানার কার্যক্রম চলমান হওয়ায় প্রত্যেকটা অভিযোগ পর্যবেক্ষন শেষে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আবু সাঈদ নামের একজনের এজাহার আমরা পেয়েছি। এজাহারটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
-এম এ রাশেদ-
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!