প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৩:২৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ২২, ২০২৪, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে অযৌক্তিক দাবির মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন অধ্যক্ষ ওয়াদুদুর রহমান

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রদের নাম ভাঙ্গিয়ে নামধারী কথিত কিছু ছাত্রদের অযৌক্তিক দাবির মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন গাজীপুরের টঙ্গীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ওয়াদুদুর রহমান।
গত কয়েকদিন যাবৎ বহিরাগত কিছু কথিত ছাত্ররা ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে অধ্যক্ষ ওয়াদুদুর রহমানের পদত্যাগের অযৌক্তিক দাবি তুলেন। এসময় তারা অধ্যক্ষের অফিস রুমের সামনে বাঁধানো অধ্যক্ষের ন্যামপ্লেটটি ভেঙে ফেলে। গত সোমবার পুনরায় ওইসব নামধারী ছাত্ররা ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে আবারও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক পদত্যাগের দাবি তুলেন। এসময় ওইসব নামধারী ছাত্ররা উগ্র পন্থায় অশালীন আচরণ করলে বাধ্য হয়ে একটি সাদা কাগজে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি বরাবর পদত্যাগের আবেদন পত্র লিখে দেন অধ্যক্ষ ওয়াদুদুর রহমান। কিন্তু ওই আবেদন পত্র এখন পর্যন্ত ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডির সভাপতি রিসিভ করে নি বলে জানা যায়।
এসময় গণমাধ্যম কর্মীরা ওইসব নামধারী ছাত্রদের কাছে তাদের দাবির ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা কোন যৌক্তিকপূর্ণ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি এবং এর কোন সুউত্তর না দিয়ে বরং উল্টো গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে অসুন্দর্যমুলক আচরণ করেন। এ ঘটনায় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে শিক্ষকগণ ও অভিভাবকগণেরা ক্ষোভের সাথে বলেন, নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছেন অধ্যক্ষ ওয়াদুদুর রহমান। তিনি একজন সুদক্ষ, যোগ্য ও প্রতিভাবান শিক্ষক। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার সুদক্ষতা, অভিজ্ঞতার কারণে দেশ বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা থেকে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। তিনি গাজীপুরে স্কাউট এসোসিয়েশনে সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে স্কাউট ছাত্র ছাত্রীরা অনেক দক্ষতা প সুনাম অর্জন করেছেন। তার অগ্রণী ভূমিকায় আজ সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন এন্ড কলেজের পড়ালেখার মান উন্নতি শিখরে পৌঁছেছে এবং সমগ্র গাজীপুরে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কয়েকবার শ্রেষ্ঠত্ব স্থান অর্জন করে। এছাড়াও ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কলেজ প্রতিষ্ঠা করা সহ যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতির জন্য তিনি সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এসময় তারা আরও বলেন, নোংরা রাজনীতির কিছু ব্যক্তির নির্দেশে ওইসব বহিরাগত নামধারী ছাত্ররা কয়েকদিন যাবৎ ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে অধ্যক্ষের পদত্যাগের অযৌক্তিক দাবি তুলেন। এতে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রীরাসহ অভিভাবকগণেরা। এরকম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের পায়তারা করছে বলেও তারা জানান।
এ ঘটনায় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে কেএইচ এ হাছিব লিখেছেন, টঙ্গীর সিরাজ উদ্দিন স্কুলের একজন আদর্শবান প্রধান শিক্ষক পদত্যাগ করায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। টঙ্গীর সিরাজ উদ্দিন স্কুল অনেক পিছিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। স্যার আপনি ভালো থাকুন। আপনার জন্য শুভকামনা রহিল। ফারহান আহমেদ পাপেল লিখেছেন, ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক ভালো মানুষ ছিলেন। ইমতিয়াজ আহমেদ লিখেছেন, স্কুলটি ২০ বছর পিছিয়ে গেল। শিক্ষার্থীরা বুঝবে। স্যারকে ফিরিয়ে আনা হউক। এমনই ভাবে রিতু আক্তার রিপা খানও লিখেছেন, স্কুলটি ২০ বছর পিছিয়ে গেল। শিক্ষার্থীরা বুঝবে। স্যারকে ফিরিয়ে আনা হউক। এ ব্যাপারে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. আজমত উল্লা খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
-টঙ্গী প্রতিনিধি-
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.