হোম » সারাদেশ » পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় স্ত্রীর হাতে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তন

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় স্ত্রীর হাতে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তন

দ্বিতীয় বিয়ে করার অপরাধে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তন করার অভিযোগে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার কলোনী পাড়া গ্রামে এক স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত স্ত্রী শহিদা বেগম (৩৫) তাঁর স্বামী শাহাজালাল আলীর (৩৮) দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে এই ভয়াবহ পদক্ষেপ নেন বলে জানা গেছে। গত সোমবার গভীর রাতে তেঁতুলিয়া উপজেলার ৩নং সদর ইউনিয়নের কলোনী পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজয় কুমার রায় জানান, শহিদা বেগমকে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। শাহাজালাল আলীকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তেঁতুলিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে পঞ্চগড় এবং ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
শাহাজালাল আলী ও শহিদা বেগমের ২০ বছর আগে শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। গত চার বছর আগে শাহাজালাল আলী মরিশাসে প্রবাসী হিসেবে কাজ করতে যান। সেখানে নরসিংদীর এক নারী, খাদেজা বেগমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৮ আগস্ট বাংলাদেশে ফিরে গোপনে তিনি খাদেজাকে বিয়ে করেন।
দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানতে পেরে শহিদা বেগম ক্ষুব্ধ হন। তিনি তাঁর স্বামীকে দ্বিতীয় স্ত্রীকে মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু শহিদা বেগম এতে রাজি না হলে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
ঘটনার দিন গভীর রাতে, শহিদা বেগম ধারাল দা দিয়ে তাঁর স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তন করেন। স্বামীর চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত ছুটে এসে শাহাজালালকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং তেঁতুলিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
ঘটনার বিষয়ে শাহাজালালের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলের এই করুণ পরিণতির জন্য ছেলের বউ শহিদা বেগম সম্পূর্ণ দায়ী। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
ওসি সুজয় কুমার রায় জানান, শাহাজালাল আলী  দু’বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। দ্বিতীয় স্ত্রী খাদেজা বেগমের বাড়ি নরসিংদীতে। ঘটনার বিষয়ে মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে যার মামলা নং ৯/১৯-০৮-২০২৪।
-আল মাহমুদ দোলন-
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!