প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১:৪২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ১৫, ২০২৪, ৭:০৫ অপরাহ্ণ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানাধীন ৫নং বলরামপুর ইউনিয়নের কুড়ুলিয়া (দলুয়া) গ্রামে সংঘটিত ক্লুলেস ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ১২ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ সুপার পঞ্চগড় এস এম সিরাজুল হুদা পিপিএম বার-এর নির্দেশনায় আটোয়ারী থানার পুলিশ মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। সেই সাথে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদদাতা মোঃ সাদ সেলিম (৪২), পিতা-মোঃ আব্দুল খালেক, সাং-কুড়ুলিয়া (দলুয়া), থানা-আটোয়ারী, জেলা-পঞ্চগড়, পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। তিনি বোদা বাজারে তার সায়হাম ক্লথ স্টোর নামে একটি কাপড়ের দোকান পরিচালনা করেন। ১৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে প্রতি দিনের মতো দোকান বন্ধ করে রাত অনুমান ১১:১৫ টার দিকে বাড়িতে ফিরে দেখেন যে, বাড়ির মেইন গেট খোলা এবং ভিতরে ঢুকে তিনি তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৩২), বড় ছেলে সৈকত শেখ (১৪) এবং ছোট ছেলে সায়হাম শেখ (৮) এর রক্তাক্ত মৃতদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
তাদের এই মর্মান্তিক অবস্থায় দেখে সাদ সেলিম চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে এবং ঘটনা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯-এ ফোন করে। দ্রুত সাড়া দিয়ে আটোয়ারী থানা পুলিশ এবং সিআইডির ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট টিম রাত ১২:৩০ টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে এবং অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ঘটনার পর পুলিশ তৎপর হয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের কাজে মনোনিবেশ করে। পুলিশ সুপার পঞ্চগড় এস এম সিরাজুল হুদা পিপিএম বার-এর নির্দেশনায় পঞ্চগড় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব আমিরুল্লার নেতৃত্বে আটোয়ারী থানার একটি চৌকস টিম এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, সেলিমের প্রতিবেশী মোঃ নবিন ইসলাম জাহিদ (২২), পিতা-মোঃ ফজলার রহমান, সাং-পশ্চিম সাতখামার, থানা-আটোয়ারী, জেলা-পঞ্চগড়, তার বাম হাতের তালু কাটা অবস্থায় বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যৌথভাবে কুড়ুলিয়া (দলুয়া) গ্রামে দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা নবিন ইসলাম জাহিদকে আটক করে।
আসামি নবিন ইসলাম জাহিদকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, সে স্বীকার করে যে, পূর্ব শত্রুতার জেরে তার সহযোগী পলাতক আসামি সাজ্জাদুর রহমান বাধন (২৭), পিতা-মোঃ শফিউর রহমান, সাং-ইসলামবাগ (মোসলেমপুর), রিমন ইসলাম (৩০), পিতা-মোঃ নওশাদ আলী, সাং-নগরকুমারী, এবং রিফাত (৩২), পিতা-মোঃ সলিম উদ্দীন, সাং-ইসলামবাগ (কলেজপাড়া), একত্রিত হয়ে সেলিমের বাড়িতে প্রবেশ করে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে ধারালো ছোরা ও বটি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যার পর তারা ব্যবহৃত ছোরা ও বটি সেলিমের বাড়ির পেছনের বাঁশঝাড়ে ফেলে দেয়।
নবীন ইসলাম জাহিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বাদীর বাড়ির পেছনে জনৈক আজিজুল ইসলামের বাঁশঝাড় থেকে রক্তমাখা ছোরা উদ্ধার করে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের পর আটোয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মামলা নম্বর ০৩, তারিখ ১৫/০৮/২০২৪ খ্রিঃ, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনার সফল উদঘাটন এবং মূল আসামি গ্রেফতার প্রমাণ করে যে, পঞ্চগড়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জটিল এবং ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে যথেষ্ট দক্ষতা ও সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
-আল মাহমুদ দোলন-