
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা, কাটাবাড়ী, তালুককাপুর, দরবস্তসহ রাখালবুরুজ ইউনিয়নের কাজলা এলাকায় দির্ঘদিন যাবত চলছে করতোয় নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রির রমরমা ব্যবসা। ম্যানেজ প্রক্রিয়া করে চলছে এসব কার্যক্রম।
এলাকায় গিয়ে দেখাযায় তালুকানুপুর ইউনিয়নে আলমের নেতৃত্ব সমসপাড়া,পৌরসভার বোয়ালিয়া,দরবস্ত ইউনিয়নে পলুপাড়া,সাপমারা ইউনিয়নে সাহেবগঞ্জ, চকরহিমাপুর করতোয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করে পালা করে প্রতিনিয়ত বিক্রি করছে বালুদস্যুরা।রাত গভীর হলে বড় বড় ড্রামট্রাক দিয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে চলে যায় এসব বালু। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মপুর বাজার এলাকার করতোয়া নদীতে চারটি খননযন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। এতে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া এভাবে বালু তোলায় বাজার এলাকার সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে,নদী থেকে বালু তোলার জন্য সরকারী ভাবে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।ধর্মপুর বাজার সেতুর পশ্চিম পাশে করতোয়া নদীতে তিনটি খননযন্ত্র দিয়ে বালু তুলে পাহাড় সমান জমা করা হয়েছে। যেখান থেকে বালু তোলা হচ্ছে, এর চারপাশে ফসলি জমি,বসত বাড়ী, বাজার,গোবিন্দগঞ্জ থেকে গাইবান্ধা যাওয়ার রাস্তা হুমকিতে রয়েছে। যেসব স্থান থেকে বালু তোলা হচ্ছে, সেখানে নদীর গভীরতাও বেশি। কয়েকটি স্থানে নদীর পাড় ভেঙে গেছে। সেখান থেকে অল্প অল্প ভেঙে ফসলি জমি নদীতে পড়ে যাচ্ছে। বালু তোলার কারণে ফসলি জমি ভেঙে নদীর আকার বড় হচ্ছে। খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা বলেন, টানা দুই বছর ধরে ওই নদীতে তিনটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। ওই বালু উপজেলা সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। কয়েক বালু মামলার আসামীদের নেতৃত্বে চলছে বালু তোলার মহা উৎসব। কেউ কথা বললে তাঁদের সমস্যা হয়। নানাভাবে হয়রানি করা হয়। তাই কেউ কিছু বলতে চান না। এলাকার এক কৃষক বলেন, নদী থেকে বালু তোলার কারণে ক্রমে ফসলি জমি ভেঙে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। আর বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। বালু তোলার কারণে নদীর গতিপথ হারিয়ে যাচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করার সাহসও পান না। এ বিষয়ে বালু ব্যবসার সাথে জরিতদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাঁদেরকে পাওয়া যায়নি।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী, পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এছাড়া সেতু, কালভার্ট, বাঁধ,সড়ক, মহাসড়ক, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল মিয়া বলেন, ওই নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে সরকারিভাবে কাউকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। যাঁরা বালু উত্তোলন করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-আঃ খালেক মন্ডল-

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল