প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১২, ২০২৪, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে সব স্তরের মানুষ ভোগান্তিতে পড়লেও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য তা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় সংকুলান করার কোনো পথ তারা খুঁজে না পেয়ে মধ্যবিত্তরা দিশেহারা। নিন্ম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে কিন্তু আয় তুলনামূলক ভাবে বাড়েনি।নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাপনে হিমসিম খাচ্ছে। প্রতিদিন রান্নাঘরে যেসব উপকরণ দরকার, তার প্রায় সবকিছুরই দাম বেড়েছে দ্বিগুণ ফলে সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মানুষ বাজারে যেয়ে বাকরুদ্ধ হচ্ছে পণ্যর দাম শুনে।
নোয়াখালী সোনাইমুড়ী উপজেলায়সহ জেলাজুড়ে সকল বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম ঊর্দ্ধমুখী। বাজার ঘুরে দেখা গেছে কয়েকদিনের বৃষ্টির অজুহাতে আবারও বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ৮০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা দরে।এছাড়া বেড়েছে অন্য সবজির দামও। তবে, কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মুরগির বাজারে।মুরগির দাম কেজিপ্রতি কমেছে আরও ২০ টাকা।
সোনাইমুড়ী পৌরসভাসহ কয়েকটি বজারঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র ।কাঁচাবাজার গুলোতে কাঁকরোল ও করলা ৯০-১০০, চিচিঙ্গা ৬০-৭০, ঢেঁড়স ৫০-৬০, আলু ৬০, পটল ৬০, মিষ্টি কুমড়া ৫০, বরবটি ১৩০-১৪০, টমেটো ১৪৯- ১৫০, পেঁপে ৫০-৬০, গাজর ১৪০ এবং শসা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়, সোনালি ৩০০ এবং দেশি মুরগি ৪৮০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে মাছ-মাংসের দাম। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, ছাগলের মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া আকারভেদে রুই ২৬০ থেকে ৩৬০, কাতল ৩২০ থেকে ৩৬০, মৃগেল ২০০-২৫০, আকারভেদে পাঙ্গাস ১৮০-২২০, তেলাপিয়া ২০০-২২০, স্যালমন ফিশ ৪৫০, বাগদা চিংড়ি ৮০০, রূপচাঁদা জাত ও আকারভেদে ৫৫০ থেকে ৭০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, টেংরা ৩৭০ থেকে ৫০০ টাকা, কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।মুদিপণ্যের মধ্যে খোলা চিনি ১৩০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১৪৫ টাকা, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৪৭ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৭ টাকা, ছোট মসুর ডাল ১৪০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৬০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৮০ টাকা, খেসারি ডাল ১২০ টাকা, বুটের ডাল ১১৫ টাকা। তবে বাড়েনি চাল, আটা-ময়দার দাম। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে জাতভেদে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে।
ক্রেতা আমিরুল ইসলাম বলেন, বাজারে গেলে বোঝা যায় দব্যমূল্যর উর্দ্ধগতি কেমন মাত্রা যোগ হয়েছে । ১ হাজার টাকার নোটে ৩/৪ আইটেম পণ্য নিলে ফুরিয়ে যায়।মানুষের জীবনযাপনে খুবই কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে যারা দিনমজুর নিম্ন আয়ের মানুষ তারা অনেক কষ্ট জীবনযাপন করছে। সিন্ডিকেটর কারণে মূল্যবৃদ্ধি জবাবদিহিতা করার কেউ নেই। জনপ্রতিনিধিরা ও মানুষের দুংখ কষ্ট নিয়ে ভাবে না।প্রশাসন তেমন মনিটারিং করেনা। তারা কেউ জনগন নিয়ে ভাবে না।
নিম্ন আয়ের মানুষ ক্রেতা অটোরিকশা চালক আব্দুল আজিজ বলেন, গরীর মানুষের সবচেয়ে বড় জ্বালা। যা ইনকাম করি ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে বর্তমান বাজারে দব্যমূল্য দাম অনুযায়ী। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যর দাম আকাশচুম্বী। মাছ সপ্তাহে ও, মাংস তো মাসে ১ দিন কিনতে হিমসিম খায়।ঘরে ছোট দুই ছেলে তারা ও নিয়মিত ডাল,মাছ বিহীন খাবার খেতে চায় না।গরীবের যত জ্বালা দেখার কেউ নেই।
সোনাইমুড়ী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, দব্যমূল্য উর্দ্ধগতিতে মানুষ খুব কষ্ট পাচ্ছে। আয় অনুযায়ী ব্যয় বেড়েছে জীবনযাপনে হিমসিম খেতে হচ্ছে। বারবার সিন্ডিকেট দ্বারা দব্যমূল্য দাম বৃদ্ধি করানো কথা বললে ও তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।সঠিক ভাবে বাজার মনিটারিং করলে সিন্ডিকেট ভেঙ্গে ক্রেতারা নায্যমূল্য পণ্য ক্রয় কয় করতে পারবে।
সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য মোশাররফ হোসেন দুলাল বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। একদিন বৃষ্টির কারণে তো অন্যদিন রোদের কারণে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসব অজুহাত হাস্যকর। সরকারের উচিত এসব বিষয়ে কঠোর মনিটরিং করা। সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে না হয় এভাবেই তারা লুটেপুটে খাবে। নিম্ন আয়ের মানুষের দুবেলা দুমোটে ভাত খেতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারি জনপ্রতিনিধিরা ও এসব বিষয় তদারকি করে না মানুষ কিভাবে জীবনযাপন করছে। প্রশাসনের সঠিক মনিটরিং করতে হবে বাজারের।সঠিক মনিটারিং না করলো সিন্ডিকেট ভাঙ্গা যাবে না।
-মোহাম্মদ হানিফ-