হোম » সারাদেশ » ২৫ বছর ধরে বোটম্যানের বেতন তোলেন বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন

২৫ বছর ধরে বোটম্যানের বেতন তোলেন বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বন বিভাগের বোটম‍্যান হিসেবে (নৌকা চালক ) চাকরি করেন মহিউদ্দিন। তার প্রথম পোস্টিং নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার বন অফিসে।
কিন্তু তিনি কখনো অফিসে আসেন না, চাকরিও করেন না। এই বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কখনো তাকে দেখেনি। তিনি ঐ অফিসের বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিনের সহোদর। দুই ভাই এক অফিসে চাকরি করেন।
বোটম‍্যান মহিউদ্দিন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি স্বাক্ষর দিতে জানেন না। প্রতিমাসে তার বেতন ও অন্যান্য ভাতাসহ ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন তার সহোদর ও বেগমগঞ্জ বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন। এই তথ্য বন বিভাগের বিভিন্ন সূত্রের।
সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ২৫ বছর পূর্বে বেগমগঞ্জ বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিনের শারীরিক প্রতিবন্ধী সহোদরকে বেগমগঞ্জ বন বিভাগের বোটম্যান হিসেবে চাকরি দেন মহিউদ্দিনকে। তবে তিনি চাকরি করেন না। বাড়িতে থেকেই বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিনের জমিতে চাষাবাদ করেন। বন বিভাগের কেউ তাকে কখনো অফিসে আসতে দেখেননি। কিংবা চাকরি করতে দেখেনি। প্রতিমাসে তার বেতন ও অন্যান্য ভাতা সহ ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন তার সহোদর ও বেগমগঞ্জ বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন।
সোনাইমুড়ী উপজেলা গঠিত হওয়ার পর থেকে বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন ওই উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছে। এই দুই উপজেলায় বনায়ন ও উপকারভোগী সদস্যদের দলিল এবং নামের তালিকা প্রদান করেননি কখনো। বনায়ন অথবা বাগান মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে নিজের মনমত উপকারভোগীদের নামের তালিকা জেলা অফিসে পাঠান। এই তালিকায় স্থান পায় নিজের আত্মীয় ও প্রভাবশালী মহলের। সেনবাগ, সোনাইমুড়ী ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় কোন কর্মকর্তার পোস্টিং হলে তাদের সাথে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা এখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। এ সুযোগে পরে তিনি পুনরায় অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১২ সালে সোনাইমুড়ী বন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান ইউসুফ। তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় তিনি  রামগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেন। বর্তমান সোনাইমুড়ী উপজেলার বন কর্মকর্তা শামসুল কবির চিকিৎসার জন্য এক মাসের ছুটিতে ভারতে যান।  চিকিৎসা শেষে কর্মস্থালে যোগদান করতে চাইলে বেগমগঞ্জ কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে ঘড়িমসি করেন।বিভিন্ন চাপে পরে পাঁচ মাস পর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। দীর্ঘ চাকরির জীবনে বেগমগঞ্জ সোনাইমুড়ী সেনবাগ এই তিন উপজেলায় সরকারি ভাবে নিলামে গাছ টেন্ডার নিজের মাধ্যমে দাখিল করতেন। পরে নিজেই লর্ড গুলো বিক্রি করতেন।
অভিযোগে জানা যায়, পাপুয়া গ্রামের হাফেজ খোরশেদ আলমের ছেলে সুমনকে এক বছর পূর্বে গাছের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এক লক্ষ টাকা ও ভানুয়াই গ্রামের খোকনের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা এবং জয়াগ ইউনিয়নের ও উলু পাড়া গ্রামের আবুল হোসেন থেকে গাছের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে দেড় লক্ষ টাকা নেন বন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন।  এখন আর ওই টাকা ফেরত দিচ্ছে না।বিভিন্ন প্রকার তালবাহানা করছে।
নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেন, বিষয়টি তদন্ত চলছে। তবে তার ভাই বোটম্যান  হিসেবে বেগগঞ্জে চাকরি করেন। তা তিনি জানেন না।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!