প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১২:০৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৯, ২০২৪, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
গাইবান্ধায় বাঁধের ২৯টি জায়গায় ধস : সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২৯টি জায়গায় ধস দেখা দিয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে বাঁধের মাটি সরে গেছে। ধস দেখা দেয়া ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের উপর দিয়ে পথচারী ও যান চলাচল করছে কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। এতে নদী-তীরবর্তী এলাকার মানুষ ভাঙনের দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
বর্ষা ভরা মৌসুম শুরুর আগেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন জেলা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু। তিনি বলেন, বর্ষার আগে শুকনা মৌসুমে বাঁধগুলো মেরামত করলে মজবুত ও টেকসই হতো। বর্ষার সময় কাজ করলে তা স্থায়ী হয় না। তবে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে বাঁধের বিভিন্ন স্থানের মাটি ধসে গেছে। জরুরি ভাবে সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, বন্যা থেকে গাইবান্ধা জেলাকে রক্ষা করতে মোট ২৪০ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ৭৮ কিলোমিটার বাঁধ উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীরে নির্মিত। ১৯৬২ সালে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এ বাঁধ জেলার চারটি উপজেলার ভেতর দিয়ে গেছে। এটি উত্তরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন থেকে সদর ও ফুলছড়ি হয়ে সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত। বাঁধটি চলাচলের রাস্তা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও বাঁধটি টেকসইভাবে সংস্কার করা হয়নি।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ২৯টি স্থানে মাটি সরে ধস দেখা দিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- সদর উপজেলার শহর রক্ষা বাঁধের ডেভিড কোম্পানি
পাড়া, খোলাহাটি ইউনিয়নের বাহারবন্দ, মোল্লা বাজার সুইচ গেটের পাশে, কিশামত বালুয়া কানিপাড়া, মালিবাড়ি ইউনিয়নের বারবলদিয়া, কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট, কামারজানি বাজার, গিদারি ইউনিয়নের বাগুরিয়া, ধুতিচোরা, সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট, শ্রীপুর ইউনিয়নের চাপরা, গোয়ালপাড়া, উত্তর শ্রীপুর, চন্ডীপুর ইউনিয়নের কামারের ভিটা, লালচামার, কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি কাপাসিয়া, ফুলছড়ি উপজেলার বালাসি, কাইয়ারহাট, উড়িয়া ইউনিয়নের পাকারমাথা, হাওয়া ভবন, হাজিরহাট, গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী, ফুলছড়ি সদর ইউনিয়নের বাজে ফুলছড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের পবনতাইর, পূর্ব ঝড়াবর্ষা, জুমারবাড়ি ইউনিয়নের খেয়াঘাট, বাদিনারপাড়া, সাঘাটা সদর ইউনিয়নের হাসিলকান্দি।
শুক্রবার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সুন্দরগঞ্জের শ্রীপুর ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ী এলাকায় বাঁধ বেহাল। ভারী বৃষ্টির কারণে বাঁধের মাটি সরে ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধের নিচ থেকে মাটি কেটে উপরে ফেলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের ওপর দিয়ে পথচারী ও যানবাহন চলাচল করছে। বাঁধের বেশির ভাগ জায়গায় নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো মানুষ বসতি স্থাপন করেছেন।
পাউবোর গাইবান্ধা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বাঁধের ৮ থেকে ১০টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাঁধের ধসে যাওয়া স্থানগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ করা হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.