
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে নাদিম হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে সরকার বাড়ি। আর এ সুবাদে প্রতিপক্ষরা বাড়িতে হামলা চালিয়ে – চেয়ারম্যানের পাকা- ভবনসহ ১৫/২০ টি ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে কর্তা বাড়ির বিরুদ্ধে ।
ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে ২ পক্ষের লোকজনের মাঝে। তবে এলাকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, ১৯৬৮ সালে একটি জমি কিনা নিয়ে সরকার বাড়ির আবু বক্করের সাথে একই গ্রামের কর্তা বাড়ির কফিলউদ্দিনের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে ২ পক্ষের বিদ্যমান দ্বন্ধে কর্তা বাড়ির কফিল উদ্দিন খুন হয়। এরই জেরে ২ পক্ষের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে আসছে বহু বছর ধরে ।
এরপর সংঘর্ষ মারা যায় রইছ উদ্দিন। এদিকে সাদেক পুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিকের ২ পুত্র হেদায়েত উল্লাহ ও ওবায়দুল্লাহ মারা যায়। এরপর থেকে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। ৫৪ বছর ধরে চলে আসা দ্বন্দ্বে ২ পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৭/৮ টি হত্যাকন্ড সংঘঠিত হয়।সংঘর্ষে প্রায় ৩/৪শ লোক আহত কোটি কােটি টাকার সম্পদ ভাঙচুর , লোটপাট ও অগ্নি সংযোগে ক্ষতি হয়েছে উভয় পক্ষের । এলাকার সাধারন মানুষ ও ভৈরবের সুশীল সমাজের প্রশ্ন এর শেষ কোথায়?
নতুন করে গেল ১৬ জুন ২ পক্ষের সংঘর্ষে নাদিম কর্তা গুরুতর আহত হলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এরই জেরে কর্তা বাড়ির লোকজন সরকার বাড়িতে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি ভবনসহ পাকা ও আধাপাকা ১৫/২০টি বাড়ি- ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায় । শুধু তাই নয় প্রতিরাতে মুখ ঢেকে যুবকরা সরকার বাড়িতে এসে মহিলাদেরকে নির্যাতন ও হুমকি- ধামকি দেয় বলে মহিলারা অভিযোগ করেছেন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে । ভয়ে মহিলা শিশুরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ।
এ ঘটনার নব নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল মনসুর ও পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ইফতেখার হোসেন বেণু সহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ২ পক্ষ কে শান্ত থাকার আহবান জানান। এছাড়াও কেউ যেন বাড়ি- ঘরে হামলা না চালায় সে আহবান জানান। এ বিষয়ে সরকার বাড়ির চেয়ারম্যান সরকার সাফায়েত উল্লাহর বোন তাসলিমা বেগম জানান, ২ পক্ষের সংঘর্ষে নাদিম আহত হয়ে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে সে মারা গেছে । অথচ কর্তা বাড়ির লোকজন আমার ভাই চেয়ারম্যানের পাকা ভবনসহ ১৫/২০ টি বাড়ি- ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে সব নিয়ে গেছে বলে জানায় । তাছাড়া প্রতিরাতে তাদের লোকজন মুখ বেধে বাড়িতে এসে মহিলাদেরকে গালাগালিসহ নির্যাতন ও হুমকি- ধামকী দিচ্ছে। আমরা তাদের ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি ।
এ বিষয়ে বাক্কি কর্তা বলেন, ১৯৬৮ সাল থেকে সংঘর্ষ শুরু। তারা আমার বাবা ভাইসহ ৪/৫ জনকে হত্যা করেছে । এ বিষয়ে সরকার বাড়ির আল- আমিন বলেন, কর্তা বাড়ির লোকজন আমার ২ ভাই কে হত্যা করেছে । এখন তারা আবার আমাদের বাড়ি- ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে নিয়ে গেছে ।
এ বিষয়ে কর্তা বাড়ীর প্রবীণ ব্যক্তি আলতাফ কর্তা বলেন, ১৯৬৮ সাল থেকে একটি জমি কিনা নিয়ে ২ বাড়ির সংঘর্ষের শুরু হয়। যা আজো বিদ্যমান। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন লোক মারা গেছে । বহু বাড়ি- ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, ২ পক্ষের সংঘর্ষে নাদিম কর্তা নামে ১ জন মারা যাওয়ায়। বেশ কিছু বাড়ি- ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়াকে কেন্দ্র করে চাবি চুরির অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন