হোম » সারাদেশ » ক্যাবল চুরির অভিযোগে ৩ জন শনাক্ত

ক্যাবল চুরির অভিযোগে ৩ জন শনাক্ত

কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মাণাধীন মাতারবাড়ীর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের  বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের গোডাউন থেকে স্ক্যাপ, এসএস, ক্যাবল ও মূল্যবান তামা চুরি করে পাচারের সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন একটি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা পড়েছে কর্মহারা স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে।
জানাগেছে, উপজেলার মাতারবাড়ীর ইয়ার্ড ও ডিপোতে সংরক্ষিত প্রকল্পের ক্যাবল- স্ক্র্যাপ চুরি হলে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে পস্কো লিমিটেড ও হার্ডসন কোম্পানীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এসব ইয়ার্ড ও ডিপো থেকে প্রতি রাতে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকার মূল্যবান যন্ত্রাংশ। যেগুলো চুরি হিসেবে দেখিয়ে দায় সারছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এসব স্ক্র্যাপ, ক্যাবল ও তামা চুরির সাথে জড়িত খোদ আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো লিমিটেডের সিকিউরিটি গার্ড, নিরাপত্তারক্ষী, ডিপো ইনচার্জ জড়িত থাকতে পারে এমনটি বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে পুরো প্রকল্পের সিকিউরিটির দায়িত্ব রয়েছেন হার্ডসন কোম্পানী। যা পুরো প্রকল্প সিসিটিভি ক্যামরাধারা নিয়ন্ত্রিত। পুরো কোল পাওয়ারের গেইট নিয়ন্ত্রণ করে হার্ডসন কোম্পানী।
এদের এত নিরাপত্তা কর্মীদের বেদকরে কিভাবে চুরি ঘটনা ঘটে নানা প্রশ্ম দেখা দিয়েছে সচেতন মহলের মাঝে।
জানাগেছে, ইয়ার্ডে রাখা এসব স্ক্যাপ, ক্যাবল,তামা ও বিভিন্ন  যন্ত্রাংশের সাথে কাগজে কলমে সংরক্ষিত মালামালের সঠিক কোনে হিসেব নেই। এ সুবাধে প্রায় প্রতিদিন চুরি হচ্ছে মূল্যবান স্ক্যাপ, ক্যাবল ও তামা। এই চুুরির সাথে পস্কো লিমিটেড, হার্ডসনের নিরাপত্তারক্ষী থেকে তদারকি কর্মকর্তারা জড়িত থাকার সন্দেহের তীর জন্ম দিচ্ছে অনেকের কাছে।
এছাড়াও পস্কো লিমিটেডের ডিপোতে পড়ে আছে লোহার স্ক্যাপ, ক্যাবল বর্তমান বাজার মূল্য কোটি টাকা। প্রকল্পের এসব পরিত্যক্ত স্ক্যাপ-ক্যাবল ও তামা প্রতিনিয়তই নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চোরের দল। চুরি হলেও তিন স্তরের নিরাপত্তাকর্মী থাকার পরেও মালামাল হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে কয়েকজন আটক হলেও পুনরায় চুরি ঘটনা ঘটে। এ বিশাল চুরি সিন্ডিকেটের সাথে মুলত যারা প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী তারই জড়িত,না হয় এ চুরি ঠেকানো যাচ্ছেনা কেন? এমন প্রশ্ম চারদিকে ঘুরপাক খাচ্ছে।
একইভাবে গত এপ্রিল মাসে পস্কো লিমিটেডের ডিপো থেকে মূল্যবান কোটি টাকার ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটি গার্ডরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠে সে সময়। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন সিকিউরিটি গার্ডের দায়িত্বশীলরা। তারা দায় সারতে চুরি হিসেবে দেখিয়ে মহেশখালী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে আরোও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। চুরির বিষয়টি তদন্তধীন থাকলেও যার কোন কুল কিনারায় হয়নি আদৌও।
স্ক্র্যাপ,ক্যাবল ও তামা চুরি হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে পস্কো লিমিটেডের সিকিউরিটি অফিসার রায়হান বলেন, গোডাউনে পড়ে আছে ক্যাবল তামা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মালামাল। ছোট খাটোও ক্যাবল ও তামা স্থানীয় শ্রমিকরা কাজের ফাঁকে চুরি করে নিয়ে যায়। বড় ধরনের চুরি করার সুযোগ নাই। আর ক্যাবল চুরির বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রকল্পের কোন মালামাল গেইটের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নাই।
এ বিষয়ে জানতে হার্ডসন কোম্পানীর জি এম, হামিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভাব হয়নি।
কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের মাতারবাড়ী প্রকল্পে দায়িত্ব থাকা সিকিউরিটি অফিসার আলফাজ মাহমুদ জানান, পস্কো লিমিটেডের ক্যাবল চুরির অভিযোগে সম্প্রতি ৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। যা তদন্ত চলতেছে। আর প্রকল্পের যে সমস্ত কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাঁদের নতুন বা পুরাতন মালামাল যেগুলো রক্ষা ও সংরক্ষণে নিয়োজিত রয়েছে তাদের নিরাপত্তারক্ষী।
চুরি কিংবা নিরাপত্তা সিকিউরিটিদের কেউ জড়িত থাকলে দায় স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষের। উল্লেখ্য,গত সময়ে চুরির অভিযোগে পস্কো লিমিটেডের স্থানীয় এক সিকিউরিটিকে চুরির অভিযোগে আটক করে মারধর করে আহত করেছিল সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি পরে দামাচাপা দেওয়া হয়।
গত (১ এপ্রিল) মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের তামা ও তার রাতে পাচার করার সময় চকরিয়া পৌর শহরের প্রবেশমুখ বাটাখালীস্থ এলাকায় আনুমানিক দেড় কোটি টাকার তামার তারসহ ৫টি ট্রাক জব্দ করে চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে পুলিশ।
মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী

Loading

error: Content is protected !!