প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১২:৪০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৪, ২০২৪, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
গোখাদ্যের চড়া দামে লোকসানের আশঙ্কা বগুড়ার শিবগঞ্জের খামারিদের

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কোরবানির পশু প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ৪,হাজার ৯১০ জন খামারি। তবে গোখাদ্যের মূল্য বেশি হওয়ায় এবার লোকসানের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। প্রান্তিক এসব খামারির দাবি, গো খাদ্যের এমন উচ্চ মূল্যের প্রভাব পড়বে কোরবানির পশুর হাটে।
আসন্ন ঈদ উল আযহা উপলক্ষে এ উপজেলার ৪৯১০ জন খামারি কোরবানির পশু প্রস্তুত করছেন। এ বছর কুরবানি যোগ্য ষাড় রয়েছে ১৪৭২৩, বলদ ৪২৭ ও গাভী ২৩৭৭, মোট গরুর সংখ্যা ১৭ সতের হাজার ৫২৭, মহিষ ৬৩ এ ছাড়াও ছাগল ৪৪ হাজার ১২০, ভেড়া ২১৩২। এ উপজেলায় ৬২ হাজার ৭৫০ টি কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। এলাকার চাহিদা ব্যতিত ১০৯২ টি কুরবানির পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে।
কুরবানীর হাট কাপবে কালো পাহাড়ঃ শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের বাকসন পূর্ব পাড়া গ্রামের কৃষক আহম্মাদ আলী এবছর ৩৫ মন ওজনের একটি ষাড় প্রস্তুত করছেন। ষাড়টি দেখতে বিশাল আকৃতির পাহাড়ের মত এবং গায়ের রং কালো হওয়ায় নাম রেখেছেন কালো পাহাড়। এ বছর কুরবানির ঈদের হাট কাপাবে এই ষাড়টি।
কালোপাড়ারের উচ্চতা ৬ ফিট, লম্বা ৯ ফিট, ওজন প্রায় ১৪০০ কেজি। গত ১ বছর যাবৎ কালো পাহাড়র প্রতিদিন ৭ কেজি ভূষি, ১ কেজি খৈল, ৩ কেজি খুদ এর পাশাপাশি নেপিয়ার ঘাস ২৫-৩০ কেজি এবং ৮-১০ কেজি খড় খেয়ে আসছে কালো পাড়ার। গরুটির মালিককে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা গুনতে হচ্ছে গরুর খাবারের জন্য।
কৃষক আহম্মাদ আলী বলেন, গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গরুটি পালতে আমার অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। আমি কালো পাহাড়কে বিক্রি করে হজ্জ্ব পালন করবো। গরুটির দাম হাকছেন ১৩ লক্ষ টাকা।
লোকসানের আশঙ্কা:
বর্তমান দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে গোখাদ্যের কিছুটা দাম বৃদ্ধি পেছে। গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার ঈদে কুরবানির পশু বিক্রি করে কিছুটা লোকসান গুনতে হবে খামারিদের এমনটি জনান প্রান্তিক খামারিরা।
সাথী সিনিমা হল এলাকায় এসএন ফার্ম স্বত্বাধিকারী সানোয়ার হোসেন অর্ক জানান, তার শিবগঞ্জ ছাড়াও বগুড়া ঠননিয়া এলাকায় গরুর ফার্ম রয়েছে। সেখানে ৩৫ লক্ষ টাকার দামহাকেছন ডাকু নামের গরুটির। তিনি জানান তার ফার্মে ১৯টি কুরবানী যোগ্য পশু রয়েছে। গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসান গুনতে হবে বলে আশংকা করছেন তিনি।
তাকওয়া এগ্রো ফার্ম স্বত্বাধিকার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমরা ২জন শেয়ারে গরু লালন পালন করে আসছি। আমাদের ফার্মে ১৯টি ছোট বড় গরু রয়েছে। তবে গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়তে হয়। আমরা নিজেরাই দানাদার খাদ্য প্রস্তুত করেছি তবে গরু বিক্রি করে খুব একটা লাভ হবে না জানান।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এ উপজেলায় ১০৯২ টি কুরবানির পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এলাকার চাহিদা মিটাচ্ছে এলাকার খামারিরা। তবে খামারিরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন তা হবে না। কুরবানি হাটে পশুর দাম মোটামোটা ভালো পাবেন খামারিরা। তবে লোকসান গুনতে হবে না খামারিদের।
-এম,এ রাশেদ-
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.