
বগুড়ার শেরপুরে আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ গোপন করার অপরাধে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (০৪ই জুন) তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়ার কারাগারে পাঠানো হয়। জব্দ করা হয়েছে লাশ অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক। এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে নিহতের ভাই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামের রফিকুল ইসলাম থানায় মামলা করেছে ।
এই মামলায় আসামি করা হয়েছে শেরপুর শহরের হাসপাতাল সড়কের লিমন এন্টারপ্রাইজ তেলের দোকানের মালিক রফিকুল ইসলাম ওরফে জিন্নাহ (৫০) ও ভবন মালিক দুলাল রহমান (৫০) কে । এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৮ জনকে।
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃত দুজন ট্রাক চালক ও তার সহকারী। তারা হলেন শেরপুর শহরের টাউন কলোনী এলাকার ট্রাক চালক আনোয়ার হোসেন (৪৫) ও সহকারীধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের মো. শিপন বাবু (২৫)। ওই রাতেই এই দগ্ধ ব্যক্তির লাশ বহনের ট্রাক টি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত শনিবার রাতে শহরের হাসপাতাল রোডে লিমন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি তেলের দোকানে লরি গাড়ি থেকে তেল নামানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে ওই তেলের দোকানের ভিতরে। তেলের দোকানের ভিতর ছিলেন রকমত ইসলাম নামে তেলবাহী লরি গাড়ির চালকের সহকারী। আগুনে দগ্ধ হয়ে তার মৃত্যুর পর ওই দোকান মালিক গোপনে লাশটি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পাঠিয়ে দেয়। ঘটনাটি নিয়ে নিহতের ভাই থানায় মামলা করেছে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সোমবার বিকালে দগ্ধ হয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রকমত ইসলামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামে। তিনি এই মামলার বাদি রফিকুল ইসলামের বড় ভাই।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ওই দুইজনের কাছে এই মৃত্যু সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রয়োজনে তাদেরকে পুলিশি রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এই মামলায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ
নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি