প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৪:০৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৪, ২০২৪, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
ভারতের উপহারের অ্যাম্বুলেন্স একদিনও রোগী বহন করেনি

নোয়াখালী সদর ও সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী বহনে কাজে লাগছে না ভারতের দেওয়া লাইফ সাপোর্ট (আইসিইউ) সুবিধার দুটি অ্যাম্বুলেন্স।
জানা যায়, ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে বাংলাদেশকে ১০৯টি লাইফ সাপোর্ট (আইসিইউ) অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয় ভারত সরকার। যার মধ্যে দুইটি অ্যাম্বুলেন্স ওই বছরের শেষের দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া হয়।ভারতের প্রধানমন্ত্রী তৎকালীন করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৫ দফায় সবগুলো অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশে আনা হয়।তিন বছরের বেশি সময় অ্যাম্বুলেন্স প্রদানের পর নোয়াখালী দুইটি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে অযন্ত্রে পড়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ ২ টি অ্যাম্বুলেন্সে একটি আইসিইউ পোর্টেবল ভেন্টিলেটর, জরুরি ওষুধ, ইনকিউবেশন সেট, অক্সিজেন সিলিন্ডার, সাকশন মেশিন, নেবুলাইজার মেশিন, ক্যাথেটার, বিপি স্টেথো, পালস অক্সিমিটার, কার্ডিয়াক মনিটর পালস, স্যাচুরেশন, তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র, মনিটর ব্যবস্থা, পথেই রোগীর হৃদস্পন্দন ভেন্ট্রিকুলার টাকাইকার্ডিয়া (ভিটি) এবং ভেন্ট্রিকুলার ফাইব্রিলেশন (ভিএফ) সুবিধা রয়েছে প্রয়োজনীয় লোকবল, যন্ত্রপাতি আর জ্বালানির অভাব। তাই কাজে আসছে না উপহার হিসেবে ভারত সরকারের দেওয়া লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সেই নির্ভর করতে হচ্ছে রোগীদের, গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
এরপর ২০২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানীয় এমপি এইচ এম ইব্রাহিম অ্যাম্বুলেন্সটি হস্তান্তর করেন বলে জানান হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইসরাত জাহান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: ইশরাত জাহান বলেন, লোকবল না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এম্বুলেন্স বড় হওয়ায় গ্যারেজে রাখা যাচ্ছে না বিধায় হাসপাতালের সামনেই রাখা হয়েছে।
সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আর এমও ডাক্তার রিয়াজউদ্দিন জানান, প্রথম থেকেই লাইফ সাপোর্ট এম্বুলেন্সটির ব্যাটারি নষ্ট হয়ে আছে। লোকবলও দেয়নি। চালানোর জন্য সরকারি কোন বরাদ্দ নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, এম্বুলেন্স চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল নেই। লোকবল ছাড়া এ এম্বুলেন্স দুটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.