প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৭:৪৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৩০, ২০২৪, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
চন্দনাইশে বেসরকারি ফলাফলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন জসিম উদ্দীন আহমদ

চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মোটর সাইকেল প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন আহমেদ। গত ২৯ মে বুধবার ৬৮ কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে জসিম উদ্দীন আহমদ পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবু আহমদ চৌধুরী জুনু পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৪ হাজার ভোট।
এছাড়া চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকের প্রার্থী আহমদ হোসেন ফকির পেয়েছেন ৪০২ ভোট এবং অপর প্রার্থী আরিফুল ইসলাম চৌধুরী খোকন দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৯৭ ভোট। তবে তিনি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষনা দিয়েছিলেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সোলাইমান ফারুকী বৈদ্যুতিক বাল্ব প্রতীক নিয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ হাজার ৭১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পরপর তিন বার নির্বাচিত হয়ে হ্যাট্রিক পূর্ণ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুপম দেব উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮ হাজার ২১৯ ভোট। অপর প্রার্থী মো. একরামুল হোসেন তালা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৩০ ভোট।
এদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীয় নির্বাচিত হয়েছেন খালেদা আকতার চৌধুরী। উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান রেনু উপজেলা মিলনায়তনে বেসরকারিভাবে ৬৮ কেন্দ্রের এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এবার চন্দনাইশে ভোটার ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৬০৭ ভোট। এরমধ্যে ৬১ হাজার ৯২১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
নির্বাচনের দিন সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহন শুরু হয়। কিছু বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবেই চলেছে ভোট। উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে মোট ৬৮ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় । নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন।
বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বেপারি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে থেকে ৪ জন বহিরাগতকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে বিজিবির হাতে তুলে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ওই কেন্দ্রের বাইরে মাঝে-মধ্যে পটকাবাজির আওয়াজ শুনা যায়। ভোটারদের মধ্যে ভয় ধরানোর জন্য এসব পটকাবাজি ফুটানো হচ্ছে বলে ধারণা স্থানীয় জনতা ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। সকাল ৯টায় দোহাজারী পৌরসভার জামিজুরী রজবিয়া আজিজিয়া রাহমানি সুন্নিয়া মাদরাসা কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, দুই প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের আবু আহমদ চৌধুরী জুনু ও মোটর সাইকেল প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমদের সমর্থকদের মধ্যে হালকা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় ১ জন আহত হয় বলে জানান স্থানীয়রা। তবে এ ঘটনা কেন্দ্রের বাইরে হওয়ায় ভোটগ্রহনে কোন ধরনের প্রভাব পড়েনি বলে জানান ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার প্রফেসর মো. নুর হোসাইন।
সাতবাড়িয়ার হাছনদন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশৃংখলা সৃষ্টির অভিযোগে দোহাজারী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সির পহর উদ্দীনকে আটক করে আইন শৃংখলা বাহিনী। তবে ভোটগ্রহন শেষে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের ৭টি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মিনহাজুর রহমান জানান, ৭টি কেন্দ্রের প্রতিটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। কোথাও বিশৃঙ্খল পরিবেশ দেখিনি। অত্যন্ত শান্তিপুর্নভাবে ভোট গ্রহন হয়েছে।
ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ চৌধুরী জুনু অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে একচেটিয়াভাবে মোটর সাইকেল প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দীনের পক্ষে কাজ করছেন। প্রশাসনের লোকজন আমার সমর্থকদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছেন। এছাড়া সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দিয়েছে জসিমের লোকজন। হাশিমপুর মকবুলিয়া মাদরাসায় আমার উপর হামলা হয়েছে। বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে তার সমর্থকদেরকে ধাওয়া করারও অভিযোগ করেন তিনি।
মোটর সাইকেল প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমদ জানান, কয়েকটি কেন্দ্রে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। আমার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকদিন পর চন্দনাইশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে।
চন্দনাইশ থানার ওসি (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা বলেন, অত্যান্ত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রে বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টাকালে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটবৃন্দ ৩ জনকে আটক করেন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.