এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : বাজিতপুরে অস্ত্র মামলার আসামী জেল থেকে জামিনে বের হয়ে মামলার বাদী রাসেল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর একের পর এক হামলা চালিয়ে মারধোর হত্যা চেষ্টা চালিয়ে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । তাই হামলাকারী মিনহাজ উদ্দিন ও তার দলবল কে দ্রƒত গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন করেছে ভোক্তভোগী পরিবার ও তার স্বজনরা ।
আজ সোমবার সকালে বাজিতপুরের বাহেরবালি গ্রামে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে । এ সময় মানববন্ধনে রেজুয়ান শাহ, কাজু মিয়া,আলী মামুদসহ ভোক্তভোগীরা জানান, বাহেরবালি গ্রামের মৃত এলাছ উদ্দিনের পুত্র মিনহাজ উদ্দিন একই গ্রামের রাসেল মিয়াকে রাত ২ টায় তার বাড়িতে গিয়ে মোবাইল ফোন মেরামতের জন্য ডাকেন । কিন্ত রাসেল মিয়া অসুস্থ যেতে পারবেনা বলে জানান এরই জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন ( গত ৫ এপ্রিল ) দুপুরে মিনহাজ রাসেল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ।এতে রাসেল নিষেধ করলে তাকে চড় থাপ্পড় মারতে শুরু করেন ।
এ ঘটনায় রাসেলের মা বাধা দিলে তাকে ও থাপ্পড় মারেন । পরে ২ জনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে । কিছুক্ষণ পরে মিনহাজ বাড়িতে গিয়ে অবৈধ অস্ত্রসহ দলবল নিয়ে রাসেলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও তার বাবা ,আলী মামুদ,মা শাহানা.মাহমুদুল হাসান রুবেল ও রাসেল কে মারধোর করে আহত করেন । পরে তাদেরকে উদ্ধার করে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন । তারপর সেখান থেকে আলী মামুদসহ ২ জনকে আগার গাওঁ চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয় ।
পরেএ ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র ( পাইপগান ) দিয়ে গুলি ও মারধোরের অভিযোগ এনে রাসেল মিয়া বাদী হয়ে মিনহাজ কে প্রধান আসামী করে (৭ এপ্রিল ) বাজিতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে ( মামলা নং-৫ )। মামলা দায়েরের পর মিনহাজসহ আসামীরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে তার লোকজন দিয়ে পৃথক পৃথকভাবে পাটলি ঘাটে রেজোয়ান শাহ কে এবং ভাগলপুর হাসপাতালের সামনে তার ভাইয়ের উপর হামলা চালিয়ে মারধোর করে । এ সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তারা ২ ভাই প্রাণে রক্ষা পায় । বর্তমানে মামলা তুলে নিতে তাদের কে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ইউপি সদস্যসহ গ্রামের একাধিক লোকজন জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনহাজ অবৈধ অস্ত্র ও তার দলবল নিয়ে রাসেলের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে এবং মারধোর করে বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করেছে । এ সময় মিনহাজ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করেছে । ভয়ে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দিকবিদ্বিক ছুটাছুটি করতে লাগে । শুধু তাই নয় বিগত কয়েক বছর আগেও মিনহাজ তার লোকজন নিয়ে মাইজচর ইউনিয়নের বর্তমান আওয়ামী লীগ সভাপতি বাসেদ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে গুলি করে । সে সময় গুলিতে বাসেদ মিয়া আহত হয় এবং এক বৃদ্ধ মহিলা নিহত হয় । পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা হয় ।
এ বিষয়ে জানতে মিনহাজের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এমনকি তার মোবাইল ফোনটি ও বন্ধ রয়েছে ।
এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোর্শেদ জামান, জানান এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে । তাছাড়া পাইপ গান দিয়ে গুলি করার বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি । আমরা মিনহাজ কে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছি । সে জামিনে আছে । তবে জামিনে এসে বাদী পক্ষকে হামলা বা ভয়ভীতির বিষয়ে কেউ আমাকে জানায়নি । জানালে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।