হোম » প্রধান সংবাদ » পারিবারিকভাবে সকলের সম্মতিতে বিবাহ হয়েছিল উল্লাপাড়ার উল্লাপাড়ার মেয়র নজরুলের

পারিবারিকভাবে সকলের সম্মতিতে বিবাহ হয়েছিল উল্লাপাড়ার উল্লাপাড়ার মেয়র নজরুলের

উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা গুলশানারা পারভীন পান্নাকে পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এসএম নজরুল ইসলাম ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেননি।

বরং উভয় পরিবারের সম্মতিতেই পান্না ও মেয়র নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সোমবার একটি অনলাইন গণমাধ্যমে ‘স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে গেলেন মেয়র, ভয়ে চুপ স্বামীথ শিরোনামে শিক্ষিকা গুলশানারা পারভীন পান্না ও পৌর মেয়র নজরুল ইসলামকে নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। এর আগে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় ওই সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ব্যবসায়ী রাজন আহমেদের স্ত্রী সহকারী শিক্ষিকা গুলশানারা পারভীন পান্নাকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন উল্লাপাড়ার পৌর মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা এসএম নজরুল ইসলাম।

কিন্তু মেয়রের প্রভাবে মামলা তো দূরের থাক আজ পর্যন্ত কোথাও কোনো অভিযোগও করতে পারেননি গুলশানারার স্বামী রাজন আহমেদ।থ

জানা গেছে, পান্নাকে ভাগিয়ে নিয়ে বা জোর করে বিয়ে করেননি মেয়র নজরুল ইসলাম। দুই পরিবারের সম্মতিতেই ২০১৮ সালের ১৮ আগষ্ট দশ লাখ টাকা দেন মোহরে তারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। উল্লাপাড়া পৌর শহরের সাবেক সোনালী ব্যাংক ভবনে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। অনাড়ম্বর সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে উল্লাপাড়ার রাজনৈতিক,সাংবাদিক,প্রশাসন,শিক্ষক,সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবিন্দু উপস্থিত ছিলেন।

তাদের বিয়ের আসরের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সহ আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। এরমধ্যে একটি ছবিতে মেয়র নজরুল ইসলামের সঙ্গে পান্না ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা গোলাপ হোসেন এবং মা জাকিয়া ইয়াসমিনকে দেখা গেছে।

মেয়রের স্ত্রী পান্নার মা স্কুল শিক্ষিকা জাকিয়া ইয়াসমিন জানান,মেয়র আমার মেয়েকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেননি। আগের স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ে হয়। একটি মহল এমন ডাহা মিথ্যা কথা প্রচার করে আমাদের সন্মান নষ্ট করছে।

আরেকটি ছবিতে পুত্রবধূ পান্নার সঙ্গে মেয়রের বাবা চাঁদ আলী সরকার ও মা তারা বানুকে দেখা গেছে।

জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী জেসমিন জয়ার সঙ্গে ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি তারিখে তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় মেয়র নজরুল ইসলামের। সাবেক স্ত্রী জেসমিন জয়ার সাথে উল্লাপাড়া মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদের বিয়ে হয়। জেসমিন জয়া সেই শিক্ষকের সাথেই এখন সংসার করছেন।

এরপর উভয় পরিবারের সিদ্ধান্তে ২০১৮ সালের ১৮ আগষ্ট অনাড়ম্ভর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গুলশান আরা পারভীন পান্নাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মেয়র নজরুল ইসলাম।

এর আগে ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে প্রথম স্বামী রুমান সাইদ রাজনকে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন শিক্ষক গুলশান আরা পান্না। পরে ১০ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে তাদের দুজনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। উল্লাপাড়ার বিএনপি নেতা এ্যাডভোকেট শামছুল আলমের উপস্থিতিতে তার বাড়িতে উভয়ের সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

গুলশান আরা পান্নার সাবেক স্বামী রুমান সাইদের সাথে মঙ্গলবার সন্ধা ৭টার দিকে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান,তার স্ত্রীকে মেয়র ভাগিয়ে নেননি। তাদের পারিবারিক সমস্যর কারনেই এই বিচ্ছেদ। তিনি দাবী করেন আমি হজ্ব করে এসেছি। ইবাদত বন্দিগী নিয়ে থাকি। পান্না সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড নিয়ে থাকায় আমাদের মাঝে চরম সমস্য দেখা দেয়। পরে উভয় পরিবারের উপস্থিতে এ্যাড.সামছুল আলমের বাসায় বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,একটি স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় তার সাথে কথা না বলে ইচ্ছেমত বক্তব্য ছাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে তিনি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন। তিনি আরো বলেন,ভাগিয়ে নিলে আমি আইন আদালতের আশ্রয় নিতাম।

এদিকে মেয়রকে ঘিরে একের পর এক মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করায় উল্লাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মেয়র নজরুল ইসলাম। ওই সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভার ৮ জন কাউন্সিলর, পৌর আওয়ামী লীগের ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি স্থানীয় পত্রিকা ও ২/১টি অনলাইন গণমাধ্যমে মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করেছে, যা অসত্য উদ্দেশ্য প্রনোদিত। তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান নষ্ট করতে একটি মহলের ইন্দনে এমন সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাদের দ্বিতীয় বিয়ে সংক্রান্ত সব কাগজপত্র সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন তিনি।

মেয়র নজরুল ইসলাম বলেন, ইসলামিক শরিয়ত মোতাবেক আমার দ্বিতীয় বিয়েতে পান্নার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাপ হোসেন, মা জাকিয়া ইয়াসমিন,ভাই সহ তার পরিবারের অনেক সদস্যসহ শহরের গণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ইতিমধ্যে প্রথম স্ত্রী জেসমিন জয়ারও দ্বিতীয় বিয়ে হয়ে গেছে বলেও জানান মেয়র। তিনি দাবী করেন সামনে পৌর নির্বাচন। এই নির্বাচনের আগে আমার নামে এমন অপপ্রচার চালিয়ে কতিপয় ব্যক্তিবর্গ নিজেদের একক অবস্থান নিশ্চিত করতে চায়। আমি উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করেছি। সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করনে অবিরাম কাজ করছি। উল্লাপাড়া পৌর শহরে আওয়ামীলীগের রাজনীতি শক্তিশালী করেছি। আমার স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা। উভয় পরিবারের সম্মতিতে আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমরা শান্তিতে সংসার করছি। আমাদের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে এমন মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!