হোম » অপরাধ-দুর্নীতি » ভৈরবে পোল্ট্রি খামারে তালা দিলেনপ্রভাবশালী নেতা

ভৈরবে পোল্ট্রি খামারে তালা দিলেনপ্রভাবশালী নেতা

এম আর ওয়াসিম,ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির বির“দ্ধে এক পোল্ট্রি খামারে তালাদেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। উপজেলার মধ্যেরচর গ্রামের হাজী আব্দুল লতিফ মিয়ার বির“দ্ধে এই অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানাগেছে, মধ্যেরচর গ্রামের আলগা বাড়ি মহল-ায় পোল্ট্রি খামারী সাত্তার মিয়ার কাছে গেল প্রায় এক বছর পূর্বে ৪১০ নম্বর খতিয়ানের ৫০ দাগের সাড়ে ১৭ শতক ভূমি একই গ্রামের হাজী আব্দুল লতিফ মিয়া সাড়ে ৭ লাখ টাকা মূল্যে বিক্রি করেন। ফলে ক্রেতা সাত্তার মিয়া বিক্রেতা হাজী আব্দুল লতিফ মিয়াকে ৪ লাখ টাকার একটি চেক দেন। পরে বিক্রেতা ব্যাংক থেকে চার লাখ টাকা উত্তোলনও করেন। আর বাকি সাড়ে ৩ লাখ টাকা পরিশোধের আগেই ঘটে বিপত্তি।
খামারী সাত্তার মিয়ার দাবী, ভূমিটি তার বাড়ির সামনে এবং সড়কের পাশে। তাছাড়াভূমিতে মাটি ফেলে তিনি প্রায় দুই যুগ ধরে ভোগ দখলে রয়েছে। ফলে ভূমিটিতে বেশ কয়েক আগে পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলে প্রতিনিয়ত ব্রয়লার মুরগী লালন-পালন করছেন তিনি। কিন্তু পরে দাগের ঝামেলায় হাজী আব্দুল লতিফ মিয়া এই ভূমির মালিক হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ দরবারে মানবিক দৃষ্টিতে ভূমিটি আমাকে দেয়া হয়। বিনিময়ে ১৫ লাখ টাকা দরে সাড়ে ১৭ শতক ভূমির মূল্য সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিধার্রণ করা হয়। ফলে সালিশে গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে হাজী আব্দুল লতিফ মিয়াকে ৪ লাখ টাকার একটি চেক দেয়া হয়। পরে তিনি ব্যাংক থেকে চার লাখ টাকা উত্তোলনও করেন। বাকী সাড়ে ৩ লাখ টাকা পরিশোধের আগেই খামারে তালা দেন হাজী আব্দুল লতিফ মিয়া। ফলে প্রায় এক বছর ধরে তালা ঝুলছে খামারে। পরে সমস্যা সমাধানে
ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা মিমাংসার জন্য সালিশ দরবারে বসেন। এতে সাত্তার মিয়া উপস্থিত হলে হাজী আব্দুল লতিফ মিয়া উপস্থিত হয়নি।
স্থানীয়রা জানায়, হাজী আব্দুল লতিফ মিয়া ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। শুধু তায় নয়, তার বির“দ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগও রয়েছে। ফলে তার ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে পারে না। এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে হাজী আব্দুল লতিফ মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে বাড়িতে না পেলেও তার পরিবারের লোকজন ভূমিটি বিক্রি বাবদ ৪ লাখ টাকার নেয়ার কথা স্বীকার করেন। তাদের দাবী, ভূমিটির সাথে আরও কিছু ভূমি রয়েছে।
সে ভূমিটি সাত্তার মিয়াকে রাখতে বলা হয়। কিন্তু সাত্তার মিয়া সেই ভূমি রাখতে রাজী হয়নি। তাই, আমাদের এই ভূমি বিক্রি করার প্রয়োজন নেই। এ ব্যপারে শিমুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান যেবায়ের আলম দানিস বলেন, সমাজে যেকোনো ঘটনা ঘটলে, পরে তা সমাধান হয়। কিন্তু সালিশ দরবারে বা কারো ডাকে হাজী আব্দুল লতিফ মিয়া সাড়া দিচ্ছেন না। ফলে বিষয়টি সমাধান করা যাচ্ছে না। যা খুবই দুঃখজনক।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!