
রায়হান আলীঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার শ্যামলীপাড়া বাস¯ট্যান্ডে শ্রমিক সংগঠনের নামে প্রতিদিন চলছে চাঁদাবাজি । চাঁদা না দিলে বাস শ্রমিকদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের সময় কোন প্রকার শ্রমিক এবং মালিক সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি করতে পারবে না। এমন নির্দেশনা থাকলেও মানছেন না সিরাজগঞ্জ জেলা মোটরযান শ্রমিক সংগঠন।
সিরাজগঞ্জ জেলা মোটরযান শ্রমিক সংগঠনের নামে উল্লাপাড়ার শ্যামলীপাড়া অস্থায়ী বাস¯ট্যান্ডে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ১০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ট্রাক, মিনি ট্রাক থেকে নিচ্ছে ৫০ টাকা। অটোরিকশা থেকে নিচ্ছে ২০ টাকা করে চাঁদা। এটা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও বর্তমানে আবারও শুরু হয়েছে এই চাঁদাবাজি।
প্রতিদিন এই রুটে গাড়ি চলাচল করলেই দিতে হয় চাঁদা। টাকা না দিলেই শ্রমিক সংগঠনের লোকজন মারধর করে বলে অভিযোগ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এই চাঁদাবাজি নিয়ে বেশকিছু দিন যাবৎ বগুড়া রুটের বাস মালিকদের সাথে দ্বন্ধ লেগে আছে। বগুড়া রুটের বাস মালিকরা শ্যামলীপাড়া অস্থায়ী বাস¯ট্যান্ডে চাঁদা বন্ধ করে দেওয়ায় দ্ব›েদ্বর সৃষ্টি হয়।
তার জের ধরে প্রতিদিন বগুড়া রুটের মেইল বাস গুলোর শ্যামলীপাড়া বাস¯ট্যান্ডে আসলেই বাস শ্রমিকদের মারধর এবং যাত্রীদের বাসে উঠতে বাধাঁপ্রয়োগ এবং যাত্রী হেনস্তা করছে শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে যাত্রী ভোগান্তি বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
জনতা ব্যাংক বাঘাবাড়ি শাখায় ক্যাশ ইনচার্জ হিসেবে চাকরি করেন আব্দুল আলিম। তিনি প্রতিদিন সকাল ৯ টায় বাসযোগে অফিসে যায়। বুধবার বেলা ৯টার দিকে বগুড়া মেইল বাস (তোহাগাড়ি) আসে বাস¯ট্যান্ডে আসে। শ্যামলীপাড়া অস্থায়ী বাস¯ট্যান্ডে থেকে সে বাসে উঠতে গেলেই বিপত্তি বাঁধে।
শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে বাসে ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল আলিমসহ আরো ৮/১০ জন উঠতে বাঁধা দেয় এবং বাস থেকে হেলপার ও কন্টাক্টর কে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে মারধর করে আটকে রাখে। পরে গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বাসের হেলপার পঁলাশ কে ছেড়ে দেয়৷
পরে কথা হয় বাসের হেলপার বগুড়ার সোনাতলা থানার বেলুরপাড়া এলাকার পঁলাশের সাথে তিনি জানান শ্যামলীপাড়া বাস¯ট্যান্ডে গাড়ি নিয়ে পৌঁছালে শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে গাড়ি থেকে বের করে নিয়ে মারধর করে এবং যাত্রী তুলতে দেয়নি। মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন শ্যামলীপাড়া শ্রমিক সংগঠনে এরআগে ১০০ টাকা করে চাঁদা নিতো, কিন্তু বর্তমানে তাদের বাস মালিক চাঁদার টাকা দিতে নিষেধ করেছেন, এটা নিয়েই তাদের সাথে দ্বন্ধ। তিনি অভিযোগ করেন এই বাস¯ট্যান্ডে আসলেই তাদের কে মারধর এবং যাত্রীদের হেনস্তার শিকার হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের আগে উত্তরবঙ্গের মানুষের ঢাকা শহরে যাওয়ার প্রধান সড়ক ছিলো নগরবাড়ি লঞ্চঘাট । বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মানে যাত্রীবাহী বাস চলাচল অনেকটাই কমে গেছে নগরবাড়ি রুটে। তবে বগুড়া মেইল সার্ভিস নামে অন্ততঃ ৩০ টি বাস প্রতিদিন সকাল ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত এখনো নিয়মিত চলাচল করছে। বগুড়া থেকে প্রতিদিন উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর,কাশিনাথপুর হয়ে নগড়বাড়ি ঘাট পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করে থাকে।
বগুড়া-নগবাড়ি রুটের তোহা গাড়ির মালিক মোঃ সাব্বির আহমেদ, তিনি জানান তার ৩ টি গাড়ি এই রুটে চলাচল করে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়কে চাঁদাবাজি করা নিষেধ করা হয়েছে। সেক্ষেত্র শ্রমিক এবং মালিক সংগঠন সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একত্রে বসে সিন্ধান্ত নেওয়া হয় টাকা না দিতে।
কিন্তু শ্যামলীপাড়া বাস¯ট্যান্ডে আসলেই শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের কে যাত্রী পরিবহন করতে দিচ্ছে না এবং বাসের শ্রমিক হেলপার, কন্টাক্টর কে মারধর করছে। তিনি আরো জানান শ্রমিক সংগঠন কে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
তবে সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাক কাভার্টভ্যান শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম রানা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান বগুড়া থেকে যেসকল বাস আসবে তাদের কে যাত্রী তুলতে দেওয়া হয় না। মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন তাদের শ্রমিককে মারধর করছে এজন্যই তারা মারধর করছে।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া পৌর মেয়র এসএম নজরুল ইসলাম জানান হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়ক শ্রমিক, মালিক সংগঠনের নামে কোন প্রকার চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কিন্তু কেউ যদি এটা না মানে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুর ইসলাম জানান মহাসড়কে চাঁদাবাজি করার কোন সুযোগ নেই। কেউ চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩
‘বাড়ি জামালপুরে’—এটুকুই মনে আছে; পরিচয়হীন অসহায় নারী খুঁজছেন স্বজনদের
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত