হোম » আইন-আদালত » হোমনায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী গৃহপরিচারিকা ধর্ষিত,ধর্ষক গ্রফতার।

হোমনায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী গৃহপরিচারিকা ধর্ষিত,ধর্ষক গ্রফতার।

মোহাম্মদ পলাশ মিয়া, কুমিল্লা থেকেঃ কুমিল্লার হোমনায় তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া এক শিশু গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার উপারচর গ্রামের পাইয়া গাজী বাড়ীতে ৪ নভেম্বর সোমবার এ ঘটনা ঘটে। ভিকটিমের পরিবার ও ধর্ষকের পরিবার ধর্ষণের আলামত নষ্ট করে বিষয়টি গোপনে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্ঠা করে। খবর পেয়ে গঠনাস্হলে সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে নির্যাতনের শিকার হয়,খবরটি আলোচিত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার হওয়া শিশুটি গত কয়েক বছর ধরে ওপারচর গ্রামের আজমল হোসেনের ঘরে গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছে এবং সে ওপারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। সোমবার সকালে প্রতিবেশি স্থানীয় আব্দুর রহমান ও বিএনপি’র নারী নেত্রী পারুল আক্তারের ছেলে কলেজ পড়ুয়া সাইদুর রহমান রতন প্রকাশ সাব্বির শিশুটিকে একা পেয়ে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় শিশুটির শোর-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ওই স্কুলের এক শিক্ষিকার সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে, এসময় ধর্ষক পালিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে গোসল করিয়ে পরনের প্যান্ট-জামা ধুয়ে ঘটনা ধামা-চাপা দেয়ার চেষ্ঠা করে আজমল হোসেনের মেয়ে মুক্তা পারভীন ও তার স্বামী বশিরুল্লাহ মাজারের খাদেম ফরহাদ।

ভিকটিমকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে এমন একটি স্বিকারোক্তিমূলক ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে তথ্য যাচাই করার জন্য দৈনিক সংবাদ’র হোমনা প্রতিনিধি ও বিজয় টিভি’র কুমিল্লা উত্তর প্রতিনিধি মো. আবুল কাশেম ভূঁইয়া সংবাদ সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যায়। এসময় ভিকটিমের কর্তা পরিবারের মুক্তা পারভীন ও ফরহাদ তাকে মেরে ও গালমন্দ করে লাঞ্ছিত করে এবং হাতের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্ঠা করে সেটি ভেঙ্গে ফেলে। এই ঘটনায় খবর পেয়ে পুলিশের হোমনা মেঘনা অঞ্চলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফজলুল করিম অভিযানে নামে এবং ঘটনার সত্যতার পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ধর্ষক সাব্বিরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

সাংবাদিক এমএ কাশেম ভূইয়া বলেন, আমি বাড়িতে গেলে তারা সৌজন্য আচরণ না করেই আমার উপর চড়াও হয় এবং এক পর্যায়ে আমার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে সেটি ভেঙ্গে ফেলে আমাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে। এ বিষয়ে আমি থানায় অভিযোগ করেছি।ঘটনা সম্পর্কে হোমনা থানার ওসি সৈয়দ মো. ফজলে রাব্বি জানান, আমরা সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনাটি শুনেছি এবং গৃহপরিচারিকা শিশুটিকে উদ্ধার করেছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত সাব্বিরকে আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। ভিকটিম একাধিকবার ধর্ষণ শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!