হোম » প্রধান সংবাদ » চকরিয়ার বিধবা পরিবারের রেললাইনের ক্ষতিপুরণের টাকা আত্মসাতে মরিয়া  সৈনিক রবিউল ও ভূঁয়া ডাক্তার পেঠান

চকরিয়ার বিধবা পরিবারের রেললাইনের ক্ষতিপুরণের টাকা আত্মসাতে মরিয়া  সৈনিক রবিউল ও ভূঁয়া ডাক্তার পেঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়ায় রেললাইন প্রকল্পের অধিগ্রহনকৃত বিধবা পরিবারের জমির টাকা নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পালাকাটা মাঝঘাট এলাকার ভূমিদস্যু ও মামলাবাজ আবু ছৈয়দ প্রকাশ পেঠান ডাক্তার ও তার পুত্র সেনা সৈনিক রবিউল হাসান। উপজেলার পালাকাটা মৌজার ৯৪ শতক বসত ভিটার জমির অংশ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে মৃত শাহজাহানের অসহায় পরিবার। শাহজাহানের বিধবা স্ত্রী রেজিয়া বলেন, স্বামীর মৃতে্যুর পর রেখে যাওয়া বসত ভিটা ও দোকানপাট দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে ভাসুর আবু ছৈয়দ প্রকাশ পেঠান ডাক্তার ও তার পুত্র সেনাবাহিনীতে কর্মরত সৈনিক রবিউল হাসান। তারই ধারাবাহিকতায় অসহায় বিধবা পরিবারের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা মামলা ও বানোয়াট অভিযোগসহ নানা ধরণের হয়রানি করে কৌশলে মৃত শাহাজানের পরিবারের বসতভিটা, দোকান, জমি ও গাছপালার হুকুম দখলের টাকা আত্মসাৎ করার পায়তারা চালিয়ে আসছে আবু ছৈয়দ ও পুত্র সৈনিক রবিউল। শুধু তাই নয়, আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করে রেলওয়ে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাৎ করার জন্য নিজকর্মস্থল গোপন রেখে সৈনিক রবিউল হাসান দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীর বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও এলাকায় হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে বীরদর্পে।

 

এতে চরম অতিষ্ট হয়ে উঠেছে ভূক্তভোগীসহ এলাকার সাধারণ মানুষ, স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য পর্যন্ত। মরহুম শাহজানের বিধবা স্ত্রী রেজিয়া বেগম ও ছেলে মোঃ নোরহান উদ্দিন সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন। বসতবাড়ীর দলিল, নামজারী জমাভাগ খতিয়ান, বাড়ীর হোল্ডিং, স্থানীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক বাড়ীর টেক্স, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক এসেন্টম্যান তালিকা, কক্সবাজার হুকুম দখল (এলও) অফিস কর্তৃক ৭ দ্বারা নোটিশ, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কর্তৃক  তদন্ত প্রতিবেদন, কক্সবাজার পুলিশ সুপারের তদন্ত প্রতিবেদন ও চকরিয়া থানার প্রতিবেদনসহ আমাদের  পক্ষে থাকা সত্ত্বেও আবু ছৈয়দ প্রকাশ পেঠান ডাক্তার ও সৈনিক রবিউল আমাদেরকে হয়রানী করে যাচ্ছে। আমার শ্বাশুর মারা যাওয়ার কারনে, ভাশুর পেঠান ডাক্তার আমার স্বামী শাহাজানকে ছোট বেলা থেকে অর্থাৎ ৮ বছর বয়স থেকে লেখা পড়া না শিখিয়ে রাজমেস্ত্রী, লেবার, শ্রমিক, চাষাবাদ,

গরু ছাগল পালন, পানির সেচ সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে টাকা আয় করতে বাধ্য করেছিল। সম্পূর্ণ আয়ের টাকা বড় ভাই হিসেবে পেঠান ডাক্তার নিজে জমা রেখে দিতেন। আমার স্বামী শাহজাহান ও আমার ভাশুর পেঠান ডাক্তার দুই ভাইয়ের যৌথ বসতভিটায় আমরা এখনো পর্যন্ত বসবাস করে আসছি। প্রায় ৩৫ বছর পূর্বে ২ ভাই যৌথভাবে বাড়ি ও দোকান নির্মাণ করেন। তখন সৈনিক রবিউল ছোট ছিল। আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন কিভাবে ছোট বাচ্চা বাড়ী নির্মাণ করে। রেলওয়ে অধিগ্রহণকৃত বাড়ি, দোকান, জমি, গাছপালার ক্ষতিপূরণের টাকা মৃত শাহজাহানের এতিম ছেলেমেয়েদের প্রাপ্ত অংশ না দিয়ে, ভুয়াঁ ডাক্তার পেঠান আত্মসাৎ করার কু-মানসে ছেলে সৈনিক রবিউল তাঁর দরখাস্তে কর্মস্থলের ঠিকানা গোপন রেখে কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে মৃত শাহজাহানের পরিবারের স্বত্ব আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে হয়রানি করিতেছে।

কারণ রবিউলের কর্মস্থল যদি এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্থ শাহজাহানের পরিবার জানে, তাহলে তার কর্মস্থলের উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তার বরাবরে ও সেনা সদর দপ্তরের ঠিকানায় রবিউল হাসানের অপকর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করবে, সেই জন্যে রবিউল বাদী হইয়া শাহজাহানের পরিবার ও এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ দায়ের করেছে একটিতেও কৌশলে কর্মস্থলের ঠিকানা দেয়নি। সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলেন সৈনিক রবিউল সেনাবাহিনীতে চাকুরীর সুযোগ নিয়ে দেশ প্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের কাছে ভূল তথ্য দিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার ডি.জি.এফ আই ও পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য অফিসারদেরকে সেনাকর্মকর্তা দিয়ে ফোন করাইয়া আমাদেরকে হয়রানী করাইতেছে। সম্প্রতি সময়ে সরকার রেললাইন প্রকল্পের জন্য চকরিয়া উপজেলা পালাকাটা মৌজার জমি অধিগ্রহনের কাজ শুরু করে। জমির মালিকানা যাচাই-বাচাই করে মৃত শাহাজাহানের ওয়ারিশগণদের অধিগ্রহণের টাকা উঠানোর জন্য সরকারি ভাবে ৭ ধারা নোটিশ জারি করে কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ অফিস। মৃত শাহাজানের স্ত্রী রেজিয়া বেগম ও ছেলে-মেয়েরা ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় যাথাযথ কাগজ-পত্র দায়ের করেন। দায়েরকৃত কাগজ পত্র সরেজমিনে যাচাই করে টাকা দেওয়ার এসেসমেন্ট তৈরী করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কিন্তু ভূমিদস্যুদের অপতৎপরতায় আমাদের টাকা নেওয়া হলোনা।

স্থানীয় চেয়ারম্যান, এমইউপি, সুশীল সমাজ ও এলাকাবাসী জানান, আবু ছৈয়দ প্রকাশ পেঠান ডাক্তার ও তার ছোট ভাই শাহাজাহান যৌথভাবে উক্ত বসত ভিটায় যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছিলো। অধিগ্রহণকৃত বাড়ী, দোকান, গাছপালা ও জমি অসহায় পরিবারের প্রাপ্ত অংশ দখলে নিতে পিতা-পুত্র হামলা-মামলাসহ শুরু করে নানা নির্যাতন। পিতা-পুত্রের অত্যচার অতিষ্ট হয়ে স্থানীয় গ্রাম্য আদালতে আশ্রয় নেন রেজিয়া বেগম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সালিশ মিমাংসার মাধ্যমে বহুবার বিরোধ নিষ্পত্তি করে দিলেও তা অমান্য করে মৃত শাহাজাহানের পরিবার ও সালিশকারদের বিরুদ্ধে উল্টো পিতা-পুত্র কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার পুলিশ সুপার ও জেলার বিভিন্ন কর্মকর্তার বরাবরে একাদিক অভিযোগ ও মামলা করেন। কিন্তু সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। রবিউল সেনাবাহিনীতে সৈনিকের চাকুরীর পরিচয়ে ছুটিতে এসে দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদেরকে ভূল বুঝিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে জেলার সরকারী বিভিন্ন কর্মকর্তাদেরকে ফোন করান। রেলওয়ের অধিগ্রহণ হইতে আমাদের প্রাপ্ত অংশ টাকা আত্মাসাৎ করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে চাকুরীর কর্মস্থলের ঠিকানা বরাবরের মত গোপন রেখে আমাদের ও এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ করলে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, অভিযোগ আমলে নিয়ে পুনরায় চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), চকরিয়া সহকারী পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরকে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্ব-স্ব কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের বরাবরে ১৯ আগষ্ট ২০১৯ইং, সহকারী পুলিশ সুপার ১৪ সেপ্টম্বর ২০১৯ইং, মামলাবাজ আবু ছৈয়দ প্রকাশ পেঠান ডাক্তার পুত্র সৈনিক রবিউল হাসানের অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে উল্টো মামলাবাজ পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে ভূয়া দরখাস্ত দেওয়ার অভিযোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিস করেন। মৃত শাহাজনের ছেলে মোঃ নোরহান উদ্দিন বলেন আবু ছৈয়দ তার পুত্র সৈনিক রবিউল গড়ে তোলে এলাকায় একটি অপরাধ চক্রের সংঘবদ্ধ দল। যার ফলে বিভিন্ন সময়ে আবু ছৈয়দ কারাভোগ করেন। ডাক্তার নামধারী আবু ছৈয়দের রয়েছে একাধিক স্ত্রী। ডাক্তারী না পড়ে কোন বিধানে তিনি নামের আগে ডাক্তার লিখেন? এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। তাছাড়া আবু ছৈয়দ প্রকাশ পেঠান ডাক্তারের প্রথম স্ত্রী ও সৈনিক রবিউল হাসানের মাকে দিন দুপুরে প্রকাশ্য পারিবারিক কলহের জের ধরে কুপিয়ে হত্যা করেন রবিউলের মামা, আবু ছৈয়দের শালা নুরুল আমিন। পেঠান ডাক্তারের জামাতা আলমগীরও একজন কুখ্যাত ডাকাত ছিল সেও দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন।
পেঠান ডাক্তারের ছোট কন্যাও স্বামী বাবুল ও শিশু ছেলেকে রেখে ২ ফেব্রুয়ারী-২০১০ইং অন্য পুরুষের হাত ধরে নাটোর জেলায় পালিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে হরেক রকমের পিলে চমকানো অভিযোগ রয়েছে যা দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য, চেয়ারম্যান, মেম্বার, এলাকায় তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই-বাচাই দখল দেখে রেললাইন প্রকল্পের জমি, বাড়ী, দোকান, গাছপালা অধিগ্রহনের টাকা পাবেন আমার বড় আব্বা আবু ছৈয়দ প্রকাশ পেঠান ডাক্তার ও আমার পিতা মৃত শাহাজাহানের ওয়ারিশগণ। ভূমিদস্যু ও মামলাবাজ পিতা-পুত্রের মিথ্যা অভিযোগ আমলে না নিয়ে ন্যায় সঙ্গতভাবে আমাদের কগজপত্র দেখে আমরা এতিম ও গরীব পরিবারকে যথাযথভাবে অধিগ্রহণের টাকা হস্তান্তরের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এদিকে, স্থানীয় চিরিংগা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: জসিম উদ্দিন বি.এ বলেন, বিষয়টি খুবই সোজা। কক্সবাজার হুকুম দখল (এলও) অফিসের একজন সার্ভেয়ার, কানুনগো, প্রশাসন, স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বসতভিটা, দোকান, গাছপালা, জমির মালিকানা দখল এবং যাবতীয় কাগজপত্র দেখে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে পারবে এবং মামলাবাজ পেঠান ডাক্তার তার ছেলে সৈনিক রবিউল ও তাদের পালিত সন্ত্রসীদের অন্যায় আবদারকে আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিয়ে অসহায় বিধবা পরিবারকে হয়রানি না করে এতিম ছেলেমেয়েদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণের টাকা হাতে তুলে দেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।#

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!