হোম » প্রধান সংবাদ » ধুনটে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

ধুনটে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

এম.এ. রাশেদ (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ ,দুনীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্নসাতের অভিযোগে পাওয়া গেছে। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারী বরাদ্দের বিভিন্ন প্রকল্পের বিপুল পরিমান অর্থ অবৈধ ভাবে খরচ দেখিয়ে নিজের পকেট ভরছেন। বদলী বানিজ্যের মাধ্যমে শিক্ষক / শিক্ষিকাদের হয়রানী করায় শিক্ষক সমাজ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। ওই শিক্ষা কর্মকর্তার দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম , সাধারন সম্পাদক আব্দুল মান্নান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।

শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে লিখিত যে, অভিযোগ করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে উপজেলার ২০৩ টি স্কুলের প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে শ্রেনী কক্ষ সজ্জিত করন , শিক্ষা উপকরন কেনার জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয় ২০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বরাদ্দের ওই টাকা নীতি মালা বর্হিভুত ভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে নিম্নমানের পোষাক বিতরন করে শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্নসাত করেছেন। প্রাথমিক ও গন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উন্নয়ন শাখা -২ এর যুগ্ন সচিব মোঃ রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত গত ২৩ অক্টোবর জারি করা পরিপত্রে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা কোন নির্দিষ্ট কোম্পানী থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করার জন্য শিক্ষকদের বাধ্য করতে পারবে না।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাজার যাছাই করে নিজেদের পছন্দ মতো সাশ্্রায়ী মুল্যের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করে স্থাপন করবে। অথচ মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের সরকারী   প্রকল্পের আওতাভুক্ত ১৯৯ টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের জিম্মি করে প্রতি স্কুল থেকে ১৬ হাজার টাকা করে মোট ৩১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা অবৈধ ভাবে আদায় করেছেন। আদায় করা ওই টাকা থেকে একটি কোম্পানীর সাথে চুক্তি করে অত্যন্ত নিম্নমানের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থপন করে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্নসাত করেছেন। ওই কর্মকর্তা গত ৩/৪ মাস আগে একটি প্রকাশনীর সাথে গোপন চুক্তি করে ‘শেখ রাসেল কুড়িতে ঝরে যাওয়া একটি ফুল ’ নামে ২৭০ টাকা মুল্যের একটি বই ২০৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষকদের বাধ্য করে প্রতিটি বই ৫০০ টাকায় বিক্রি করে প্রায় ৬৬ হাজার টাকা অবৈধ ভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন ।

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কামরুল হাসান তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু সংখ্যক শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শিক্ষা কর্মকর্তার আপাদ মস্তক দুর্নীতির ব্যবস্থা নেওয়া না হলে উপজেলার প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পাড়ার দাবী করেছেন। সাধারন সম্পাদক আব্দুল মান্নান নিজেকে শিক্ষা কর্মকর্তার বদলী বানিজ্যের স্বাক্ষী দাবী করে বলেন, ঝিনাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওয়াজেদুর রহমান বাবুলের নিকট থেকে শিক্ষা কর্মকর্তা ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ভরনশাহী সরকারী প্রাথমিক মডেল বিদ্যালয়ে মৌখিক ভাবে ডেপুটিশনে বদলী করা হয়েছে।

উত্তর বড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুবর্না রানীর নিকট থেকে ৪৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে আনারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করা সহ একই ভাবে ঘুষ নিয়ে যুগিগাতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিউল আলমকে পাঁচথুপি স্কুলে, সুরভী আকতারকে তারাকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বথুয়াবাড়ি স্কুলে , বিষ্ণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রীনা খাতুনকে শাকদহ স্কুলে বদলী করা সহ গত জানুয়ারী থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত প্রায় ২০/৩০ জন শিক্ষকের নিকট থেকে বদলী বানিজ্যের নামে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ওই শিক্ষক নেতা আরো বলেন, শিক্ষকদের নানা কারনে কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়ে নিজ কার্যলয়ে ডেকে নিয়ে চাকুরীর ভয় দেখিয়ে হাজার হাজার টাকাও অবৈধ ভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন। এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাহমিনা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ধুনট উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রাথমিক ভাবে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে । বিষয়টি যেহেতু শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পর্যন্ত অবগত সেহেতু ডিজি মহোদয়ের নির্দেশ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!