হোম » প্রধান সংবাদ » বাঞ্ছারামপুরে মায়ের হাতে ছেলে খুন।

বাঞ্ছারামপুরে মায়ের হাতে ছেলে খুন।

মোহাম্মদ পলাশ মিয়া,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার  রুপসদী গ্রামের সৌদিআরব প্রবাসী ফারুক মিয়ার ছেলে মো.রাফি নামের আড়াই বছরের এক শিশুর লাশ বাড়িয়াদহ বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে বুধবার সকাল ৯টার দিকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এসব তথ্য জানান।
ওদের ঘরে মো.ফাহিম মিয়া (৬) ও মো.রাফি আড়াই বছরের ছেলে সন্তান ছিল, তার স্বামী ৬ লক্ষ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে যায়৷ এর পর ছোট ছেলে মো. রাফির বিরল রোগ দেখা দেয়, মো.রাফি কোন স্থানে আঘাত পেলে কালসিটে হয়ে যেত ও কোন স্থান কেঁটে গেলে রক্ত পড়া বন্ধ হতো না, এই রোগের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল ছিল। তাই এই রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে স্বামীর বিদেশ যাওয়ার ৬-লাখ টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না রাফির মা। এই বিপদ থেকে মুক্তি পেতে বুধবার ভোরে ছেলে মো. রাফিকে সঙ্গে করে বাড়ির পাশে ৫০০ গজ দূরে বালিয়াদহ বিলে কাছে নিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে বিলে ফেলে দেয় পাষান মা, ছেলেকে হত্যার পর বিলে ফেলে দিয়ে বাড়িরে ফিরে এসে  অচেতন হয়ে যায় ছেনোয়ারা বেগম। জ্ঞান ফিরে আসলে সে তার পরিবারের সদস্যদের জানায় রাফিকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর প্রতিবেশীরা বিলে কচুরিপানার নিচে শিশু রাফির মরদেহ দেখতে পায়।ডাইনি মা ছেনোয়ারা বেগম শিশুটিকে হত্যা করে অসুস্থতার ভান করে। পুলিশের সন্দেহ হয়,পরে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা দেয়ার জন্য বাঞ্ছারামপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়,পরে বৃহস্পতিবার সুস্থ হলে থানায় নেয়া হয়।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক তারান্নুম রাহাতের আদালতে রাফির মা ছেনোয়ারা বেগম ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।এলাকাবাসী  সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় বাবার বাড়িতে দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন ফারুক মিয়ার স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম। বুধবার ভোর ৫টার দিকে মায়ের সঙ্গে ঘর থেকে বের হয় রাফি, এরপর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিলো।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!