প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ২:০৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৩, ২০২৪, ৬:০০ অপরাহ্ণ
বগুড়ায় ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সদরের শেখেরকোলা ইউনিয়নের নুরুইল দক্ষিণপাড়া গ্রামে লম্পট মামা কর্তৃক ৫ বছর বয়সের ভাগ্নিকে ধর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বগুড়া সদরের শেখেরকোলা ইউনিয়নের নুরুইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের এক শিশু কন্যা (৫) কে ধর্ষণ করেছে একই গ্রামের আব্দুল হান্নান ফকিরের দুশ্চরিত্রবান ছেলে সজল মিয়া (১৫)।
এ ব্যাপারে ভিকটিমের মা বলেন, হান্নান সম্পর্কে আমার মামা ও প্রতিবেশি বটে। সেই সুবাদে আমরা তাদের বাড়িতে ওঠাবসা করতাম। আমার মেয়েকে তারা খুব ভালো বাসতো। হঠাৎ একদিন আমার মেয়ে আমাকে বলে, সজল মামা হামাক ঘরের মদ্যে ডাকে লিয়ে যায়ে ঘরের দরজা বন্দ করে দেয় এবং হামাক লেংটা করে আর মুখ কাপড় দিয়ে বান্দে দেয় এবং কাউকে কিছু কলে মারে ফালে দিবের চায়।
তারপর থেকে আমি আমার মেয়েকে চোখে, চোখে রাখার চেষ্টা করি। এরই মাঝে, আবার একদিন আমার মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে করতে, সজলদের বাড়িতে গিয়ে, বাড়ির মেইন গেট ভিতর থেকে বন্ধ দেখে, ঘরের ওয়ালের হুক দিয়ে দেখি, আমার মেয়ে ও সজল বিবস্ত্র অবস্থায় রয়েছে। তখন আশেপাশের কয়েকজন মহিলাকে ডাক দিয়ে দেখাই। তখন আমরা সজলকে ডাক দিলে সজল ঘরের দরজা খুলে দেয়। আমি তাকে তার অপকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে অস্বীকার করে। কিন্ত আমার মেয়ে বাড়িতে গিয়ে আমাকে বলে যে, হামার পেশাবের ঐ জাগাতে লাগিচ্চে আর রক্ত পরিচ্চে। তখন আমি হান্নান মামাকে বিষয়টি জানালে সে, উল্টো আমাকেই হুমকি দেয়।
তখন আমি মানসম্মানের ভয়ে, গোপনে মেয়েকে বগুড়ার পীরগাছা বসুন্ধরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নেই। তাতে উপকার না হলে বগুড়া পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকেও চিকিৎসা গ্রহন করি। কিন্তু ক্রমে ক্রমে রোগের তিব্রতা বৃদ্ধি হতে দেখে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্টে জানা যায় শিশুর গোপনাঙ্গে ইন্ফেকশন হয়ে পোকা ধরেছে । আমার মেয়ে এখন বাঁচবে কিনা বা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার ভয় হচ্ছে।
আমি এই লম্পট সজল এর কঠিন বিচার চাই । আর কোনো শিশু যেনো আমার মেয়ের মতো নির্যাতনের শিকার না হয়। সে জন্য এদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হওয়া উচিত।
উক্ত অপকর্মের বিষয়ে অভিযুক্ত সজলের সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। সজলের পিতা আব্দুল হান্নানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঘটনাটি ভিকটিমের মা আমাকে বলেছিলো। আমার ছেলেও তো ছোটো। সেজন্য গুরুত্ব দেইনি। তাছাড়া আমার ছেলে দীর্ঘদিন যাবত মানসিক সমস্যায় রয়েছে। তার চিকিৎসাও চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজার রহমান হ্যাপি সত্যতা নিশ্চিত করে জানান আমি ঘটনা শুনেছি।
শেখেরকোলা ইউপি চেয়ারম্যান(ভারপ্রাপ্ত) মীর্জা হাকিম মন্ডলকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ভিকটিমের মা আমার কাছে অভিযোগ দিতে এসেছিলো, আমি আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি। কারণ এ ধরনের মামলার বিচার করার বিধান ইউনিয়ন পরিষদের নেই। ইউনিয়ন বিট ইনচার্জ সদর থানার এস আই ইমতিয়াজ আহমেদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি জানি, থানায় অভিযোগ হয়েছে, তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এমন জঘন্যতম ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন এলাকার সচেতন মানুষেরা ও ভুক্তভোগী পরিবার।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.