প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৯:৪৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৪, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
নলডাঙ্গায় সরকারী খাল সেচে এক প্রভাবশালীর মাছ শিকার,সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত কৃষক

মোস্তাফিজুর রহমান, নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধিঃ নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার চেউখালি কামারপাড়া বিএমডিএ খনন করা খালে সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে পানি সেচে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে তৈয়বুর রহমান বাবু নামের এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। তবে এই খালে তাদের পৈতিক কিছু জমি থাকায় খাল দখল করে সেচে মাছ চাষ ও শিকার করছেন বলে দাবী প্রভাবশালীর।আর এতে কৃষি জমিতে সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খালের দুই পারের শত শত কৃষক এবং মাছ ধরতে না পারায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় দরিদ্র জেলে ও মৎস্যজীবিরা।
জানা যায়,বিগত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বরেন্দ্র উন্নয়ন কৃর্তপক্ষের উদ্দ্যেগে নিচের পানির স্তর ধরে রাখতে ও কৃষি জমিতে সেচ কাজে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ ও সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য সেচ প্রকল্পের আওয়াতায় ব্রহ্মপুর ইয়ারপুর হতে চেউখালী হয়ে বাজে হালতি সেতু পযন্ত খালটি পূর্ণঃ খনন করা হয়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের চেউখালী কামারপাড়া সড়কের সেতু হতে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার বিএমডিএ খনন করা খালটি ওই গ্রামের প্রভাবশালী তৈয়বুর রহমান বাবু দখলে নিয়ে দুইটি সেচ যন্ত্র বসিয়ে খালের পানি অপসারণ শুরু করেছেন।বিএমডির খনন করা খালের পানি অপসারণ করে শুকিয়ে মাছ শিকার করবেন।দখল করা এই খালের দুই পারে রয়েছে কয়েক শত হেক্টর কৃষি জমি।এসব জমি চাষের জন্য ও ফসল ফলানোর প্রয়োজনীয় সেচের পানি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন খালের দুই পারের শত শত কৃষক।আর দরিদ্র জেলে ও মৎস্যজীবীরা মাছ ধরতে না পারায় ক্ষুদ্ধ হয়েছেন।
এছারা হালতি বিলের বাঁশিলা এলাকায় স্থানীয় মৎস্যজীবি সমিতি সদস্যরা প্রায় এক কিলোমিটার বিএমডিএ খনন করা খাল দখলে নিয়ে বাঁধ দিয়ে পানি সেচে মাছ শিকার করছে।এতে হালতি বিলের নিম্নাঞ্চলের পানি নামতে না পারায় কৃষকরা সময়মত বোরো ধান রোপন করতে পারেনি।কৃষক মকলেজ আলী বলেন,খাল খনন করার পর থেকে বাবু খালটি দখল নেয়। বর্তমান শুকনো মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ পানি কম উঠে।তাই খালের পানিই আমাদের একমাত্র ভরসা করতে হয়। আমাদের কৃষি জমিতে সেচের প্রয়োজন হলে পানি তুলতে দেয় না উল্টো ভয়ভীতি দেখায়।
কামার পাড়া গ্রামের জেলে জিয়ারুল ইসলাম বলেন,আমরা বরশি অথবা ঠেলা জাল ফেলে মাছ ধরতে গেলে তাড়িয়ে দেয়।তারা মৎস্যজীবির কেউ না হলেও খালে মেশিন বসিয়ে পানি সেচে ফেলে দিচ্ছে।গত এক সপ্তাহ ধরে খালের পানি অপসারণের কাজ শুরু করেছে।প্রতিবাদ করার সাহস কারো নাই।
অভিযুক্ত তৈয়বুর রহমান বাবু বলেন,এ খালে আমাদের পৈতিক জমি রয়েছে।তাই আমরা ৪০ বছর ধরে এইভাবে মাছ শিকার করি।এখন এই খালের পানি সেচে ফেলে দিয়ে আবার পানি দিয়ে ভরে পোনা মাছ ছেড়ে দিব।এখানে কথা বলার অধিকার কারো নাই।তবে তিনি স্বীকার করেন দুই বছর আগে সরকারীভাবে খালটি পূর্ণঃ খনন করে আমাদের উপকার করেছেন।
নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড.আবুল কালাম আজাদ বলেন,সরকারী খাল দখল করে পানি সেচে বা বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা মৎস্য আইনে দন্ডনীয় অপরাধ।তবে জাল ফেলে মাছ ধরা যাবে।এই ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
নাটোর বরেন্দ্র উন্নয়ন কৃতপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন বলেন, বরেন্দ্র উন্নয়ন কৃর্তপক্ষের উদ্দ্যেগে নিচের পানির স্তর ধরে রাখতে ও কৃষি জমিতে সেচ কাজে সুবিদাত্বে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ ও সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য সেচ প্রকল্পের আওয়াতায় ব্রহ্মপুর ইয়ারপুর হতে চেউখালী হয়ে বাজে হালতি সেতু পার হয়ে হালতি বিলের মোহনপুর পযন্ত খালটি পূর্ণঃ খনন করা হয়।এই খাল খননে একদিকে কৃষকরা তাদের কৃষি জমিতে সেচ সুবিদা ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন ও দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।এই খাল কারো ব্যাক্তিগত নয়,কেউ দখল করে পানি অপসারন করে মাছ করতে পারবে না।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়ান আকরামুল হক বলেন,খাল সেচে পানি অপসারণ করে কেউ মাছ শিকার করতে পারবে না।হালতি বিলের বাঁশিলা এলাকায় মাছের অভয়াশ্রম করা হয়েছে,সেখানে স্থানীয় মৎস্যজীবিদের অভয়াশ্রমটি দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।সেখানে তারা মাছ যাতে বের হতে না পারে এজন্য জাল দিয়ে ঘিরে মাছ শিকার করছে।খাল সেচে পানি অপসারণ করে মাছ ধরার সুযোগ নাই।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.