প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৩:৫২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৪, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
স্বপ্ন পূরণে কৃষকের রঙিন ফুলকপি

সহদেব সূত্রধর সায়ন, বাসাইল, টাঙ্গাইলঃ শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, পুষ্টিতেও ভরপুর রঙিন ফুলকপি। ক্যান্সারসহ নানা রোগ প্রতিরোধে ওষুধি গুণে ভরা এই সবজিতে রয়েছে অসংখ্য পুষ্টি উপাদান। কৃষকের মাঝে রঙিন ফুলকপি ব্যাপক আশার আলো জাগিয়েছে। পুষ্টির চাহিদা পুরণের পাশাপাশি নিজেরাও লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় ক্যারোটিন ও ভ্যালেন্টিনা জাতের রঙিন ফুলকপি ১৫ শতাংশ জমিতে আবাদ করেন বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর পশ্চিম পাড়ার কৃষক আজাদ আলী খান। ভারত থেকে আমদানী করা হয় এ জাত। তিনি দুইশ’টি চারা পান। যার কারণে বীজ সংরক্ষণ করতে পারেননি। তবে রঙিন ফুলকপির আবাদ করে প্রথম বছরেই বাজিমাত করেন তিনি। দেশি কপির থেকে দ্বিগুণ ফলন আসে। বাজারে দামও অন্যান্য কপির থেকে দ্বিগুণ। রঙিন ফুলকপি আবাদ করতে তার খরচ হয়েছিল ১৫ হাজার টাকা। বিক্রি হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ থাকে ২০ হাজার টাকা।
রঙিন ফুলকপির আবাদ দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা লোকজন আসছেন। লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন এই ফুলকপি আবাদের। তবে চারা পাওয়া নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ রঙিন ফুলকপি আবাদে চারা বা বীজের জন্য পুরোপুরি নির্ভর করতে হবে কৃষি বিভাগের উপর। বীজ পাওয়া সহজলভ্য হলে ব্যাপকভাবে আবাদ করা সম্ভব হতো বলে জানান কৃষকরা। বাসাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান আলী বলেন, নতুন জাতের ফুলকপি আবাদে সব ধরনের সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে কৃষকদের।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ দুলাল উদ্দিন বলেন, এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে রঙিন ফুলকপির প্রদর্শনী দেয়া হয় কৃষকদের। তাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। কৃষকদের মাধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এ জাতের কপির আবাদে। আমরা এ নিয়ে প্রকল্প পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করেছি রঙিন ফুলকপির চারা বা বীজ সহজলভ্য করার জন্য। যে কেউ যেন আবাদ করতে পারে। শুধু খেতেই নয়, অসংখ্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে রঙিন ফুলকপিতে। ক্যারোটিনয়েড ও অ্যান্থোছায়ানিনে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিজেন থাকে যা মানুষের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। এই কপির আবাদ সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষক লাভবান হওয়ার পাশিাপাশি দেশে পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হবে। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.