প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ২:৩৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ১৩, ২০২৪, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
মহেশখালী-বদরখালী নৌ চ্যানেলে চর কেটে তৈরি করা হচ্ছে মাছের চিংড়ির ঘের

মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী, কক্সবাজার : কক্সবাজারের মহেশখালী-বদরখালী নৌ চ্যানেলে সৃজিত প্যারাবনের ভিতর অবৈধভাবে নদীর চর দখল করে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি ঘের নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। বেশ কিছু দিন ধরে পরিবেশ বিধ্বংসী এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন চকরিয়া উপজেলার বদরখালীর একটি ভূমিদস্যু চক্র।
এতে ক্ষমতাশীন দলের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির ইন্ধনে চলছে প্যারাবনের বাইন গাছ কেটে এ চিংড়ি ঘের নির্মাণের কাজ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চকরিয়া উপজেলার-বদরখালী মহেশখালী ব্রীজের দক্ষিণ পাশে শত শত শ্রমিক দিয়ে মাটি কেটে করস্রোতা প্রবাহমান নদী দখল করে দিন-রাত সমান তালে ওই প্রভাবশালীরা চিংড়ি ঘের নিমার্ণের কাজ চালিয়ে গেলে খবর পেয়ে ১৩ জানুয়ারি (শনিবার) দুপুর ১টার সময় চকরিয়া উপজেলা এসিল্যান্ড,থানা পুলিশ ও বনবিভাগ যৌথ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের রাতে ২০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হয়। ফলে ভেঙ্গে যায় বেঁড়িবাধ। এরপর উপকূলীয় এলাকায় বনায়নে এগিয়ে আসে দেশের একটি এনজিও সংস্থা উবিনীগ এই এনজিও সংস্থাটি শিক্ষার্থী নিয়ে এসে সবুজ বেষ্টনীর আওতায় ব্যাপক বাইন ও কেওড়া গাছের চারা রোপণ করে। এসব চারা এখন অনেক বড় গাছে পরিণত হয়েছে। সে সব চারা গাছ কেটে চিংড়ি ঘের নিমার্ণ নিমার্ণ অব্যাহত রেখেছে কিছু ব্যক্তি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোল (বাপা) মহেশখালী আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, উপকুলের রক্ষা কবচ প্যারাবনের বাইন গাছ কেটে প্রবাহমান নদীর দখল করে চিংড়ি ঘের নিমার্ণ জগন্যতম অপরাধ। বলতে গেলে দখলের থাবায় মহেশখালী-বদরখালী চ্যানেলের এক সময়ের প্রাণচঞ্চল এই নদীটি এখন সরু খালে পরিণত হয়ে বোবা কান্না করছে। নদীটি উদ্ধার করে প্রাণচঞ্চল ফিরে আনা সময়ের দাবী।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোল (বাপা) মহেশখালী আঞ্চলিক শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন আলো বলেন, পরিবেশবাদী সংগঠন বাপার সকল সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করে। প্রশাসন তাৎক্ষণিক এসে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
কক্সবাজার উবিনীগ আঞ্চলিক শাখার সমন্বয়ক জয়নাল আবেদিন খাঁন (খাঁন জয়নাল) বলেন, প্যারাবনের চারদিকে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি ঘের নিমার্ণের পাঁয়তারা একটি জঘন্যতম অপরাধ। এটি বন্ধ করে নদীর জায়গা নদীকে ফেরৎ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুজ্জামান বলেন, নদী দখলকারীদের প্রশাসন কোন সময় ছাড় দেয়না। আর নদী দখল করে চিংড়ি ঘের নিমার্ণ করার খবর পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।বদর খালী সমবায় সমিতির অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানান আমাদের কিছু সদস্য এরকম জঘন্য কাজে জড়িত আছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.