
মোঃ নাজমুল ইসলাম সবুজ, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের শরণখোলায় গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে জমা জমি সংক্রান্ত বিরোধী ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় একটি পা বিচ্ছিন্ন সহ গুরুতর জখম হয় এমাদুল হক খান।
এ ঘটনায় তার ভাই রিয়াদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪/৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে শরলখোলা থানায়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হন মোস্তফা হেলাল সহ তিন জন। পরে কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদী সহ তার পরিবারকে মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় মোস্তফা ও তার জামাই রহমান হাওলাদার।
এ ঘটনায় এবাদুলের মা বোন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ শতাধিক নারী পুরুষ মোস্তফা সহ অন্যান্যদের বিচারের দাবিতে শনিবার (১৩ জানুয়ারী) সকাল ১১ টায় শরণখোলা গ্রামে তাদের বাড়ির সামনে মানববন্ধন করেছে।
এমাদুলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৩১ ডিসেম্বর রাতে এশার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার এমাদুল হক খানের চাচাতো ভাই মোস্তফা খান তার জামাই রহমান হাওলাদার ও মোস্তফার ভাই বেলাল,হেলাল খান ও সরোয়ার হাওলাদার মিলে চাইনিজ কুড়াল ও দা দিয়ে কুপিয়ে একটি পা প্রায় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে এছাড়া অন্য একটি পা ভেঙ্গে ফেলা সহ বেশ কয়েক জায়গায় গুরুতর জখন করে। পরে গুরু তার হাতে অবস্থায় শরনখোলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করে ডাক্তার।
তার পরিবার আরো জানায় যে পা প্রায় বিচ্ছিন্ন সেই পায়ে সামান্য পচন ধারায় আরো উপর থেকে তার পা কেটে ফেলা হয়েছে।এ ঘটনায় এবাদুলের ভাই রিয়াদুল ইসলাম খান বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক একজনকে গ্রেফতার করে পরে তারা কোর্টে জামিন পেয়ে বাড়িতে ফিরে এসে এমাদুল ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য ভয়-ভীতি প্রদর্শন সহ জীবননাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু মুন্সী, এমাদুলের মা, বোন সহ শতাধিক নারী পুরুষ মোস্তফা খান ও তার জামাই রহমানের বিচার চেয়ে শরণখোলার নিজ গ্রামে বাড়ির সন্মুখে মানববন্ধন করেছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য বাচ্চু মুন্সী জানায়, মোস্তফা খান, তার ভাইয়েরা ও তার জামাই অত্যন্ত দুর্ধর্ষ প্রকৃতির তাদের বিরুদ্ধে এ ধরে অপরাধ করার আরো অভিযোগ রয়েছে তারা প্রতিনিয়ত ওই পরিবারটিকে হুমকি দিয়ে আসছে তাই প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।
এছাড়া গুরুতর জখম এবাদুলের মা হালিমা বেগম ও বোন শিউলি ও কাজল জানায়, তারা ইমাদুল ও তার ভাইয়ের ভয়ে রাত্রে ঘর থেকে বের হইতে পারছে না তাদের প্রতিদিন হুমকি দিচ্ছে এ ঘটনায় তারা পুলিশ প্রশাসন সহ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। ঘটনার প্রদক্ষদর্শী রাহিলা বেগম বলেন এরকম নৃশংস ঘটনা তিনি জীবনে কখনোই দেখেননি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ এ এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, জামিনে ছাড়া পেয়ে আসামিরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে খোঁজখবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।