
মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী, কক্সবাজার : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিলে বাংলাদেশ কল্যান পার্টির প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের হাতঘড়ি প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয় জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে নির্বাচনী অফিস ছাড়াও একটি সার ও কীটনাশকের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় সাত লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা। দুপুরে পুড়া অফিস পরিদর্শণে যান হাতঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। সন্ধ্যায় অফিস পুড়ানোর ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে কৈয়ারবিল ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে আসামী করা হয়েছে অজ্ঞাত আরো ২০ জনকে।
অভিযুক্তরা হলেন, কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও খোজাখালী এলাকার নুরুল হোসেনের ছেলে ইকবাল হোসন প্রকাশ মক্কি ইকবাল (৩৭), ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহমদাদ এর ছেলে এহতেশামুল হক (৩৫), ৯ নং ওয়ার্ডের মৃত আবুল কাসেমের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩০), ৫ নং ওয়ার্ডের জাকের আহম্মদের ছেলে মোহাম্মদ রুবেল (৩৯) এবং একই ওয়ার্ডের আকতার আহম্মদের ছেলে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম (৩৮)।
ভোক্তভূগীরা জানিয়েছেন, সোমবার দিবাগত রাতে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের খোজাখালী সিএনজি স্টেশন বাজারে কক্সবাজার-১ আসনে কল্যান পার্টির প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের হাতঘড়ি প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণা অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুন দেখে স্থানীয় লোকজন উপজেলার ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু তার আগেই নির্বাচনী অফিস ও একটি সার এবং কীটনাশকের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তবে হাতহতের ঘটনা ঘটেনি।
দোকানের মালিক মোঃ আব্বাস (৩২) বলেন, ঐ সময় দোকানে ছিলাম না বলে বেঁচে রয়েছি। তবে কারা আগুনি দিয়েছে এখনো নিশ্চিত করতে বলতে পারছিনা।
ক্ষতিগ্রস্ত আরেক দোকানি মোঃ বারেক সওদাগর বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। হয়তো হাতঘড়ি প্রতীকের প্রতিপক্ষরা এ আগুন দিয়েছে। দুর্বৃত্তের আগুনে আমাদের প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে দুপুর বারোটার দিকে নিজের পুড়ে যাওয়া নির্বাচনী অফিস পরিদর্শণে যান কল্যান পার্টির প্রার্থী মেজর জেনারেল অব: সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। অফিস পরিদর্শণ শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ৪০ হাজার টাকা অনুদান দেন তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের পর ক্ষতিগ্রস্তদের দোকান নির্মাণ করে দেয়া হবে। ইতিমধ্যে অফিস পুড়ানোর ঘটনায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষ সন্ত্রাসী, দখলবাজ, চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্ত হতে হাতঘড়ি প্রতীককে সমর্থণ দিয়ে যাচ্ছে। এতেই মাথা নষ্ট হয়ে গেছে অপরাধীদের। তারা পরাজয়ের ভয়ে আমার নির্বাচনী কার্যালয় পুড়িয়েছে। এ ঘটনায় আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবো। নির্বাচনী শান্ত পরিবেশ নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ফখরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নলেজে আসার পর দায়িত্বশীল ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে অফিস পুড়ানোর ঘটনায় কল্যান পার্টির দপ্তর সম্পাদক আল আমিন ভূঁইয়া রিপন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
রিপন বলেন, অভিযুক্তরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলমের সমর্থক। এলাকার শান্ত পরিবেশ অশান্ত করে সাধারণ মানুষের মাঝে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে এমন অপকর্ম করছে জাফর বাহিনী। আমরা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো: আলী বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক