
নিজস্ব প্রতিবেদক
রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলকভাবে জিয়া পরিষদের নেতাদের বদলি করার অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবি করেছে জনতা ব্যাংক জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনতা ব্যাংক জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, গত ৪ জুন রূপালী ব্যাংক জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়, যেখানে বর্তমান এমডি কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অদক্ষতা ও স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রূপালী ব্যাংক জিয়া পরিষদের তিন শীর্ষ নেতাকে সম্প্রতি দূরবর্তী কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তারা হলেন— জিয়া পরিষদের আহ্বায়ক ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. গোলাম সরোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ এসএম নিয়াজ মোর্শেদ এবং সদস্য সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী। সংগঠনটির দাবি, এসব বদলি প্রশাসনিক প্রয়োজনের পরিবর্তে শাস্তিমূলক ও প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
জনতা ব্যাংক জিয়া পরিষদ তাদের বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। সংগঠনটির নেতারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা দাবি করেন, ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বা হয়রানির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে রূপালী ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম ও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে চার দফা বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— জুলাই হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ পদে বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতির দায় নিরূপণ এবং জিয়া পরিষদের নেতাদের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জনতা ব্যাংক জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, রূপালী ব্যাংকের বর্তমান এমডির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতির শেষাংশে জনতা ব্যাংক জিয়া পরিষদ জানায়, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে তারা ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকবে এবং রূপালী ব্যাংক জিয়া পরিষদের যেকোনো গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করবে।