প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১১:২১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ১০, ২০২৩, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
রোকেয়া দিবস পালনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় উৎসব

হাবিবুর রহমান, রবি প্রতিনিধি: 'উর্ধ্বপানে চলি, আকাশেরে ছাড়ি' প্রতিপাদ্য নিয়ে দুদিনব্যাপী শুরু হওয়া রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় উৎসবের সমাপনী হয়েছে। উৎসবের শেষ দিন শনিবার (৯ডিসেম্বর) বিকালে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় লেডিস ক্লাব কতৃক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুসলিমা জান্নাত মৌ এর সঞ্চালনায় ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় লেডিস ক্লাবের সভাপতি ড. নাসরীন লুবনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আজম।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য শাহ্ আজম বলেন, বাঙালি জাতীয়বাদ ও বাঙালিত্বের চেতনাকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর যৌথ অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে একটি নতুন শিক্ষা-সংস্কৃতি নির্মাণের জন্য রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গেলে নারীকে শুধু অফিসের কাজ-কর্ম করার সুযোগ দিলেই হবে না, আমাদের মানসিকতারও পরিবর্তন করতে হবে।’ রবীন্দ্রনাথের মূল ভাবনা ছিল নারীর জন্য গৃহের বাইরের জগতকে উন্মোচিত করা এবং নারীকে তার সামর্থ্যের প্রমাণ করার সুযোগ দেওয়া। তিনি আরও বলেন, ‘যে প্রাচীনত্ব ও হিংস্রতা আমাদের মধ্যে ছিল সেখান থেকে বের হয়ে এসে একটি দেশকে পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া, রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়া- সেই কাজটি বাংলাদেশ করতে পেরেছে, আর সেই কারণেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জননেত্রী হয়েছেন। বাঙালি নারীদের উন্নয়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীর ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
রবীন্দ্র উপাচার্য বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারীদের সন্মান দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অনেক নারীর পিতা হিসেবে তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করে ছিলেন। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বাঙালি জাতি গঠনে তার অবদান ছিলো অসীম, শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠার পিছনে বঙ্গমাতার অবদান চিরস্মরণীয়। তিনি আজকের এই রোকেয়া দিবসে উপস্থিত সবাইকে একটি শপথ নিতে বলেন, 'আপনার ঘরের নারী যেন নির্যাতনের শিকার না হয়, তিনি যেন তার পূর্ণ অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন'। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে যা অত্যন্ত আনন্দের, এই আয়োজনে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সফল করেছেন সেই সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে উপাচার্য তার বক্তব্য শেষ করেন।

আলোচনা সভা শেষে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল চিরকুট তাদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে মাতিয়ে তোলে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শাহজাদপুর এবং সিরাজগঞ্জের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নারী কর্মীগণসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, উৎসবের প্রথম দিনের কর্মসূচি হিসেবে গত শুক্রবার শোভাযাত্রা, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এর উদ্বোধন, নবীনবরণ, আলোচনা সভা, শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.