
আওয়াজ অনলাইন: নতুন বছরে নতুন বই দিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছে প্রাথমিকের শিশুরা। ২০২৩ সালে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হয়েছে প্রাথমিকে। বহু স্কুল তাদের বই ছাত্রদের বিতরণ করলেও এখনো অনেক স্কুল বই পায়নি এমন অভিযোগও উঠেছে। তারপর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থাও সরকার নেয় নি। সব মিলিয়ে দেশের প্রাথমিকের শিক্ষাব্যাবস্থা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।
চলতি বছর থেকে প্রাক প্রাথমিকে শুরু হচ্ছে নতুন কারিকুলামের ক্লাস। যদিও বহু প্রতিষ্ঠানে পৌঁছায়নি বই, মেলেনি পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ। সঙ্গত কারণেই তাই পুরোনো নিয়মে চলছে পাঠদান।
জাহানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মঈনিহা রুবাইয়া বলেন, “নতুন কারিকুলামে বাংলা, ইংরেজি এবং গণিতের বই পেয়েছে প্রথম শ্রেণীর শিশুরা।”
ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসি বলেন, “পুরনো যে কারিকুলাম ছিল সেটা দিয়ে পড়াচ্ছি।”
পাঠপ্রক্রিয়ার অবস্থা জানতে একুশের ক্যামেরা পৌঁছায় মিরপুর জাহানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ময়মনসিংহ সদরের শিকারীকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কথা হচ্ছিল প্রথম শ্রেণীর শিক্ষকদের সঙ্গে।
শিক্ষকেরা জানান, নতুন কারিকুলামের প্রশিক্ষণ এখনও পাননি তারা।

ময়মনসিংহ শিকারীকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন আক্তার বলেন, “আমরা এখনও প্রশিক্ষণ পাইনি। যেভাবে আগে পড়াতাম সেভাবেই পড়াচ্ছি।”
শিকারীকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা ফেরদৌসি বলেন, “নতুন কারিকুলামের প্রশিক্ষণের নির্দেশনা এখনও আমাদের কাছে আসেনি।”
ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান বলেন, “কিছুটা তো সমস্যা হচ্ছেই। নতুন কারিকুলামের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ এখনও আমরা পাইনি।”
কথা ছিল, গেল আগস্ট থেকে শুরু হবে নতুন পাঠ্যক্রমের প্রশিক্ষণ। প্রথম পর্যায়ে ৬৫ স্কুলের ৪শ’ শিক্ষককে কর্মোপযোগী করে তোলার প্রতিশ্রুতিও ছিল।
সরকার নির্দেশিত এক শিফটে পাঠদানের কার্যক্রমও শুরু করতে পারছে না অনেক স্কুল। শিক্ষকদের অভিমত, মাঠের অবস্থা যাচাই না করে শুধু নির্দেশিত হয়ে আইন বানালে শিক্ষাব্যবস্থার ভাটা কাটবে না।
শিকারীকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিদ্দিকুন নাহার বলেন, “শিক্ষক স্বল্পতা এবং শ্রেণী কক্ষের স্বল্পতার কারণে এক শিফট চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।”
জাহানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন, “ছাত্রছাত্রীরা নিতে পারছে কি পারছেনা, সেটা শিক্ষক ভালো বুঝতে পারবেন। এর সঙ্গে যারা জড়িত নয় তারা এটা বুঝতে পারবেন না। কাজেই রুটিনটা আমাদের কাছে থাকা উচিত।”
এনসিটিবি বলছে, শিগগিরই শুরু হবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ।
এনসিটিবি প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের সদস্য প্রফেসর ড. একেএম রিয়াজুল হাসান বলেন, “এখনও আমরা চাহিদা চাইনি শিক্ষক সহায়কগুলো ছাপানোর জন্য। চাহিদা পেলে আমরা সেটা ছাপাবো। অন্যদিকে এই শিক্ষক সহায়কগুলো এ সপ্তাহের মধ্যেই অনলাইনে আপলোড করে দিব।”
কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন কারিকুলামে প্রথম শ্রেণির ৮৫ শতাংশ বই স্কুলগুলোতে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণীর বই যাবে ২০২৪ সালে।
প্রফেসর ড. একেএম রিয়াজুল হাসান বলেন, “২০২৩ সালে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীতে পুরনো কারিকুলাম চলবে। মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে আমাদের এনসিটিবির কোনো বক্তব্য নেই।”
এনসিটিবি বলছে, নতুন শিক্ষাক্রমে ক্লাস ওয়ান থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত থাকছে না কোনো পরীক্ষা। ৪ মাস অন্তর প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হবে মূল্যায়ন।
বর্তমান শিক্ষাব্যাবস্থায় ছাত্রদের কতটুকু সাফল্য আসবে তা নিয়ে সন্দীহান অভিভাবকরা। বছরে বছরে শিক্ষাক্রম পরিবর্তনে কোমলতি এই শিশুরাও হতভম্ভ হয়ে পড়েছে অভিভাবকদের অভিযোগ। তবে সরকারি মহল বলছে ভিন্ন কথা।
শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বিবৃতি হলো, বর্তমান শিশুরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রযন্ত্রের নায়ক ও বাহক হবে। তাদেরকে দক্ষ ও উন্নত মানব সম্পদে পরিণত করার জন্যই এই নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হয়েছে। এর সুফল দেশবাসি পাবে কয়েক বছর পর।