হোম » শিক্ষা » ডাক্তারি বিদ্যায় বাংলাদেশী বংশদুত ডালিয়ার পিএইচ ডি ডিগ্রি লাভ 

ডাক্তারি বিদ্যায় বাংলাদেশী বংশদুত ডালিয়ার পিএইচ ডি ডিগ্রি লাভ 

সৈয়দ আহসান: হটাৎ কৌতূহল বশতঃ গুগল সার্চে আমার মেয়ে ডালিয়া আহসানের নামটা লেখার সঙ্গে সঙ্গে ই স্ক্রিনের পর্দায় ভেসে উঠলো ওঁর চিকিৎসা শাস্ত্রের বিভিন্ন গবেষণার প্রতিবেদন। অবাক হয়েই পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম এই একটু খানি মেয়েকে এইতো সেদিন ওর স্কুল থেকে আন্তে গিয়ে যেমন খুশি সাজোতে কিম্ভুৎকিমাকার সেজে আমাকে চমকে দিয়েছিল। সেই মেয়েটাই আজ মাত্র ২৬ বছর বয়সে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ ডি করে বেরিয়ে এল।

ডক্টর অফ ফিলোসফি (Doctor of Philosophy, Ph.D) একটি উচ্চ স্তরের শিক্ষাগত ডিগ্রী। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য স্নাতক উত্তীর্ণ গবেষককে তার গবেষণা কর্মের জন্য এই ডিগ্রি প্রদান করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সাধারণত একজন গবেষককে গবেষণার বিষয়ে অভিজ্ঞ কোন অধ্যাপকের অধীনে গবেষণা চালাতে হয়। PhD ডিগ্রির মধ্যে অনেক লুকানো বিষয় থাকে যাতে বোঝা বা শেখার দরকার অনেক কিছু থাকে। সাধারনত নতুন গবেষনা এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করা যা আগে কখনো করা হয়নি এসব বিষয় পিএইচডি অন্যতম চাহিদা। কোনো গবেষক এই চাহিদা পূরণ না করতে পারলে তাকে সাধারনত Phd ডিগ্রী প্রদান করা হয় না। যদি কোনো ব্যক্তি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তাহলে তার নামের আগে Dr. উপাধিটি যোগ করা হয়।

ইংরেজি Doctor (ডক্টর) শব্দটি মূলত ল্যাটিন ভাষা হতে আগত একটি শব্দ। এর প্রকৃত অর্থ হলো ‘শিক্ষক’ বা ‘প্রশিক্ষক’। মধ্যযুগের দিকে, ইউরোপে যারা ল্যাটিন ভাষা পড়াতো, তাদের একটি লাইসেন্স লাগতো, যার নাম ছিলো Licentia Docendi, এবং এই লাইসেন্সিয়া ডোসেন্ডির ইংরেজি অনুবাদ হলো License to Teach, অর্থাৎ শেখানোর লাইসেন্স। এই লাইসেন্সটিকেই ডাকা হতো Doctoratus, যার ইংরেজি হলো Doctorate, এবং এ লাইসেন্স যার থাকতো, তাকে বলা হতো ডক্টর, এবং ডক্টর মানে হলো শিক্ষক! তখনকার দিনে ডক্টর ছিলেন চার্চের পাদ্রীরা, যারা বাইবেল পড়াতেন ও ব্যাখ্যা করতেন। চার্চের অনুমতি ছাড়া কেউ ডক্টরেট ডিগ্রি বা শেখানোর লাইসেন্স পেতেন না। কিন্তু খ্রিস্টানদের পোপ, ১২১৩ সালে ঘোষণা করেন যে, আজ থেকে চার্চের পাশাপাশি ফ্রান্সের প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ও শেখানোর লাইসেন্স বা ডক্টরেট ডিগ্রি দিতে পারবে। এই ঘোষণার আগেও প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাথলিক চার্চের অনুমতি নিয়ে কিছু ছাত্রকে ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে। কিথ এলান, তাঁর ‘Changing doctoral degrees: an international perspective’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে, পৃথিবীর প্রথম ডক্টরেট ডিগ্রিটি দেয়া হয় ১১৫০ সালের দিকে, প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে।

এখন কল্পনা করতেও অবাক লাগে আজ থেকে ৪০ বছর আগে সম্পূর্ণ অজানার উদ্দ্যেশে রওয়ানা দিয়ে জার্মানিতে পৌছালাম।

গত শতাব্দীর ৭০এর শেষদিকে অথবা আশির দশকে আমরা যাঁরা জার্মানিতে এসেছিতাদের প্রায় সকলেরই এখানে পাকাপোক্ত ভাবে থাকার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দশ থেকে ১২ বছর লেগে গেছে। আশির দশকের আমরা নিজেরা তেমন কিছুই করতে পারিনি। সে তুলনায় দুহাজার সালের পরবর্তীতে আসা শিক্ষিত যুবকেরা অনেক ভাগ্যবান। তবে একমাত্র শান্তনা এই যে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের সাফল্য দেখে আনন্দে উদ্বেলিত হই। তখন গর্বে বুকটা ফুলে উঠে। জার্মানিতে বেড়ে উঠা আমাদের সন্তানদের অনেকেই ডাক্তারি পেশা , বা কোনো প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মকর্তা কেউবা জার্মান আর্মির কর্নেল পদে সমাসীন হয়েছেন।

তেমনি আমি জার্মানিতে ৪০ বছর থেকেও তেমন কিছু করতে পারিনি তবে মেয়ের চেম্বারের সাইন বোর্ডে যখন Dr. Dr লেখা দেখবো তখন গর্বে বুকটা ফুলে উঠবে। এর অর্থ আমাদের ডালিয়া মাত্র ২৬ বছর বয়সে ডাক্তারী বিদ্যায় পিএইচডি করলো। এটা কি কম গর্বের।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!