প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১:৪২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১৪, ২০২২, ৪:৪০ অপরাহ্ণ

আজিজুর রহমান, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি: মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) 'জ্যোতির্ময় বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক স্বারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি এবং মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপ।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবনির্মিত ১০ তলা একাডেমিক ভবনে স্থাপিত কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের উদ্বোধন করেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। অত্যাধুনিক এই গবেষণাগারে রয়েছে ডিএনএ/আরএনএ এক্সট্রাকশন রুম, জেল ডকুমেন্টেশন রুম, পিসিআর/ আরটি-পিসিআর রুম, উন্নত মানের রেফ্রিজারেটর (-২০ ডিগ্রি সে.), বায়োসেফটি ক্যাবিনেট লেভেল-২, রেফ্রিজারেটেড টেবিল টপ সেন্ট্রিফিউজ, ভরটেক্স মিক্সার, ন্যানো ড্রপ ওয়ান মাইক্রোভলিউম ইউভি- ভিস স্পেক্ট্রোফটোমিটার, বেঞ্চ টপ পিএইচ মিটার, জিনোম সিকুয়েন্সিং রুমের যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি।
হাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. কামরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হল সংলগ্ন মাঠে ‘জ্যোতির্ময় বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শিক্ষা-উপমন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি ও হাবিপ্রবির ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদার। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ জনাব ইকবালুর রহিম এমপি, মাননীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাকিয়া তাবাসসুম জুঁই, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মশিউর রহমান, হাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক এবং অনুষ্ঠানমালা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য-সচিব প্রফেসর ড. ইমরান পারভেজসহ অন্যান্যরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেন, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকের এই মহতী অনুষ্ঠানে আপনাদের সাথে উপস্থিত হতে পেরে আমি নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। এটা আমার জন্য গৌরব ও আনন্দের বিষয়। বক্তব্যের শুরুতে আমি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহীদদের প্রতি। গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি যাঁর হাতেই ১৯৯৯ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে “জ্যোতির্ময় বঙ্গবন্ধু” শিরোনামে একটি স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হলো আজ। আমি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করছি “জ্যোতিময় বঙ্গবন্ধু” শীর্ষক প্রকাশনার মাধ্যমে জাতির পিতার জীবন, আদর্শ ও কর্মের বহুমাত্রিক দিকসমূহ বস্তুনিষ্ঠভাবে শিক্ষার্থীসহ সকলের নিকট উন্মোচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, আজ হাবিপ্রবিতে যে আধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত গবেষণাগারটি উদ্বোধন হল সেখানে দেশ/বিদেশের গবেষক/ শিক্ষার্থীরা গবেষণা করার সুযোগ পাবে এবং যুগোপযোগী উচ্চমানের গবেষণা সম্পন্ন হবে বলে আমি দঢ় ভাবে প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুধু সার্টিফিকেট নিলেই প্রকৃত শিক্ষা অর্জন হবে না, সফট স্কিল এর উপর জ্ঞান ও দক্ষতা থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি, দক্ষতা অর্জনের উপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কারিগরী শিক্ষা ও গবেষণার উপরে জোর দিচ্ছি। একইসঙ্গে আমরা চাই শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করুক, সাংস্কৃতিক চর্চা করুক।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ডিজিটাল মাস্টারপ্ল্যানের আগে একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান জরুরী। আজকে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় আছে এবং আগামী ৫/১০ বছর পরে বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চাই, সেখানে যেতে হলে কোন পথে যেতে হবে সেটা ভাবতে হবে। ১০ বছর আগে একটি বিভাগ খুলেছি সেটির এখন প্রয়োজন আছে কিনা ভাবতে হবে। কর্মক্ষেত্র ও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে চলতে হবে। ধারণক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করালে বিভিন্ন সমস্যা গুলো অনেকখানি কমে যাবে। পাশাপাশি সমস্যাগুলো সমাধানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শিক্ষা উপমন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি বলেন, শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক পুঁথিগত বিষয়ে জ্ঞান থাকলে হবে না, একজন শিক্ষার্থীকে চিত্ত বিনোদন, ক্রিড়া, সাংগঠনিক কর্মকান্ডসহ অন্যান্য কাজের সাথে নিজেদের যুক্ত রাখতে হবে। যথাযথ মানুষ হিসেবে নিজেকে বিকশিত করতে হবে। শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা অনেকদিন পরে ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি আরও বলেন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের একটি একাডেমিক লক্ষ্য থাকতে হবে, সেই লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করতে হবে। তিনি বলেন হাবিপ্রবির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি কৃষির উপর এখানে ব্যাপক গুরুত্ব প্রদান করা হয়। এ ধরণের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তিনি হাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. কামরুজ্জামান বলেন কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
জাতীয় সংসদের হুইপ জনাব ইকবালুর রহিম এমপি বলেন, হাবিপ্রবি উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ, দিনাজপুরের জন্য গৌরব। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর উন্নত বাংলাদেশ গঠনের কারিগর। উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ছাত্রলীগে অন্যায়ের কোন স্থান নেই। ভাল ব্যবহার দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে হবে। তিনি আরও বলেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সমস্যা, ল্যাব সংকটসহ বেশ কিছু সমস্যা আছে, এই বিষয়ে তিনি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তা সমাধানে তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন বাজেট বৃদ্ধির জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যের শুরুতে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. কামরুজ্জামান বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, আজ হাবিপ্রবির জন্য বিশেষ একটি দিন। আজ হাবিপ্রবিতে যে অত্যাধুনিক গবেষণাগারের উদ্বোধন করা হল, আমি বিশ্বাস করি এর মাধ্যমে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত উন্নত বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবো। প্রায়োগিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে মাঠ গবেষণা অত্যন্ত জরুরী। উপাচার্য হাবিপ্রবির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরিশেষে তিনি অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময় দিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, মাননীয় শিক্ষা-উপমন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ জনাব ইকবালুর রহিম এমপি, মাননীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাকিয়া তাবাসসুম জুঁই, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মশিউর রহমান, আমন্ত্রিত অতিথিসহ উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
‘জ্যোতির্ময় বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পক্ষকালব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি সৈয়দ শামসুল হকের লেখা ‘আমার পরিচয়’ কবিতাটি আবৃতি করে শোনান। উল্লেখ্য, উক্ত অনুষ্ঠানে প্রথমদিকে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ড. মোছাঃ নূর-ই-নাজমুন নাহার ও সহকারী অধ্যাপক মোঃ সাইফুদ্দিন দুরুদ এবং শেষভাগে দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ড. মোঃ রাশেদুল ইসলাম ও সহযোগী অধ্যাপক আশরাফি বিনতে আকরাম।