প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৬:১৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯’ পাচ্ছেন হাবিপ্রবির ৮ শিক্ষার্থী

আজিজুর রহমান, হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক মনোনীত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯ পাচ্ছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ১৪ ও ১৫ সেশনের ৮ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থী ৫ জন এবং ছেলে শিক্ষার্থী ৩ জন। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হাবিপ্রবির সংশ্লিষ্ট ডিন অফিস।
মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ সিজিপিএ-ধারী শিক্ষার্থীরা এ পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। তবে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুই ব্যাচের (হাবিপ্রবির ১৪ ও ১৫ ব্যাচ) ফলাফল ২০১৯ সালে প্রকাশিত হওয়ায় কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে প্রার্থী নির্বাচনে। প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তির নীতিমালা অনুযায়ী আল জান্নাতুন নূর (হাবিপ্রবির ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী) সিজিপিএ-৩.৯১ অর্জন করে এগিয়ে রয়েছেন। পক্ষান্তরে রিয়াজ আহমেদ ও মতিউর রহমান তারেক (হাবিপ্রবির ১৫ ব্যাচ শিক্ষার্থী)-এর সিজিপিএ-৩.৮৩। এ বিষয়ে জটিলতা থাকায় তিন শিক্ষার্থীর সব তথ্য ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার অফিস। ব্যবসাশিক্ষা অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছেন ফিনান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত আফরিন (সিজিপিএ-৩.৯২), ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করেছেন জাকিউল হাসান জিহাদ (সিজিপিএ-৩.৯০), মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করেছেন ফারজানা খানম (সিজিপিএ-৩.৯৬)। বর্তমানে তিনি মাস্টার্স ইন ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগে অধ্যয়নরত।
অন্যদিকে সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিস অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করেছেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী বাবর আহমদ (সিজিপিএ ৩.৭৮), কৃষি অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করার রেকর্ড গড়েছেন মোছা. অনন্যা খাতুন (সিজিপিএ-৩.৯৬), ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আফরোজা সুলতানা (সিজিপিএ-৩.৯১) এবং বিজ্ঞান অনুষদ থেকে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের রেকর্ড গড়েন গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রিসাত হোসাইন (সিজিপিএ-৩.৯৯)। প্রধানমন্ত্রী পদকের জন্য মনোনীত হওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মোছা. অনন্যা খাতুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাওয়া আমার জীবনে অত্যন্ত আনন্দের একটি বিষয়। এরকম একটি মঞ্চে নিজেকে দাঁড় করাতে পারব এবং নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের প্রতিনিধিত্ব করবো ভাবতেই খুব ভালো লাগছে।
বিজ্ঞান অনুষদ থেকে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রিসাত হোসাইন বলেন, ভবিষ্যতে একজন সৎ ও ভালো মনের মানুষ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হতে চাই। আমি এতদূর যে মানুষ গুলোর অবদানের জন্য আসতে পেরেছি তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এছাড়া বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন পিতা-মাতা ও সম্মানীত শিক্ষকগণের প্রতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস জানায়, শিক্ষার্থীদের সাফল্যে আমি খুবই খুশি। তাদের সাফল্য কামনা করছি। আশা করি শিক্ষার্থীরা এ ফলাফল আগামীতেও ধরে রাখবে।
ইউজিসির রিসার্চ সাপোর্ট অ্যান্ড পাবলিকেশন ডিভিশনের পরিচালক মো. কামাল হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার স্বাভাবিকভাবে সব কাজে সময় বেশি লাগছে। আমরা প্রধানমন্ত্রী পদকের জন্য প্রায় অধিকাংশ কাজ শেষ করেছি। করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আমরা অনুষ্ঠনটি দ্রুতই করতে পারব বলে আশা করছি। মূলত সব কাজ শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিসাপেক্ষে আমরা অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে চাই। উল্লেখ,২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রদান শুরু করে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.